মগরাহাট, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: মগরাহাট রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ব্যবসা করা ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে উচ্ছেদ-আশঙ্কা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, শনিবার রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (আরপিএফ)-এর পক্ষ থেকে স্টেশন চত্বরের বিভিন্ন দোকানে উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়।
নোটিশে সরকারি সিল বা স্ট্যাম্প না থাকায় তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবসায়ীদের একাংশ।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, মগরাহাট স্টেশনের আশপাশে দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ও তার অধিক সময় ধরে বহু পরিবার রেলের অব্যবহৃত বা অনাবাদী জমির পাশে ছোট-বড় দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তাঁদের বক্তব্য, এলাকার বহু তরুণ উচ্চশিক্ষিত হলেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাবে পারিবারিক ব্যবসাকেই জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
নোটিশ পাওয়ার পর থেকেই ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, উচ্ছেদ হলে পরিবারের ভরণপোষণ চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। অনেক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছেন এবং এখনও সেই ঋণ পরিশোধ সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে তাঁরা বড় আর্থিক সংকটে পড়বেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, বর্তমানে মগরাহাট স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় প্রায় দুই হাজারেরও বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তাঁদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল পরিবারের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ না করার আশ্বাস দেওয়া হলেও বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় রেল-অধিকৃত জমি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে এই বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে পুনর্বাসন, বিকল্প কর্মসংস্থান অথবা আর্থিক সহায়তার মাসিক অর্থ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে যে ব্যবসার ওপর নির্ভর করে পরিবার চলছে, সেটি বন্ধ হয়ে গেলে বহু মানুষ জীবিকা সংকটে পড়বে


Post A Comment:
0 comments so far,add yours