প্রায় ৯ দিন আগে গভীর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া শংকরপুরের 'এফবি জয় মা কালী' ফিশিং ট্রলারটি অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় ট্রলারটিকে টেনে এনে পাথরপ্রতিমার সীতারামপুর ঘাটে রাখা হয়। ট্রলারের ভেতর থেকে ইতিমধ্যেই একটি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও তল্লাশি অভিযান চলছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে ট্রলারটির কোনও সন্ধান না মেলায় উদ্বেগে ছিলেন মৎস্যজীবীদের পরিবার এবং বিভিন্ন মৎস্যজীবী সংগঠন। শনিবার আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর নামখানা, বকখালি ও কাকদ্বীপের একাধিক ট্রলার পুনরায় মাছ ধরতে বঙ্গোপসাগরে যায়। সেই সময় বকখালি উপকূল থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে, বঙ্গোপসাগরের দুর্গম রক্তেশ্বরী চরের কাছে সম্পূর্ণ উল্টে থাকা অবস্থায় 'এফবি জয় মা কালী' ট্রলারটিকে দেখতে পান স্থানীয় মৎস্যজীবীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ট্রলারটি সম্পূর্ণ উল্টে থাকলেও উত্তাল সমুদ্র এবং চরের আশপাশে অগভীর জল থাকায় কোনও ট্রলারই তার কাছে পৌঁছতে পারেনি। এরপর মাঝসমুদ্র থেকেই ওয়্যারলেসের মাধ্যমে বিষয়টি মৎস্যজীবী সংগঠন এবং প্রশাসনকে জানানো হয়।
বাইট: সতীনাথ পাত্র, সম্পাদক, মৎস্যজীবী শ্রমিক ইউনিয়ন।
রবিবার সকাল থেকেই প্রশাসন, গোবর্ধনপুর কোস্টাল থানার পুলিশ এবং কাকদ্বীপের বিভিন্ন মৎস্যজীবী সংগঠন যৌথভাবে উদ্ধার অভিযানের প্রস্তুতি নেয়। অবশেষে বঙ্গোপসাগর থেকে ফিরে আসা একাধিক ফিশিং ট্রলারের সহযোগিতায় উল্টে থাকা ট্রলারটিকে টেনে এনে সন্ধ্যায় পাথরপ্রতিমার সীতারামপুর ঘাটে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।
ঘাটে আনার পর গোবর্ধনপুর কোস্টাল থানার পুলিশ ট্রলারটিতে তল্লাশি চালায়। সেই সময় ট্রলারের ভেতর থেকে একটি মৃতদেহ উদ্ধার হয়। মৃত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিখোঁজ অন্য মৎস্যজীবীদের খোঁজে এখনও তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
বাইট: বিজন মাইতি, সম্পাদক, কাকদ্বীপ ফিশারম্যান ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন।
এদিকে, শংকরপুরে নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দীর্ঘদিন ধরে প্রিয়জনদের কোনও খোঁজ না পাওয়ার যন্ত্রণা আরও গভীর হয়েছে মৃতদেহ উদ্ধারের খবর সামনে আসার পর। পরিবারের সদস্যদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।
বাইট: নিখোঁজ মৎস্যজীবীর পরিবারের সদস্য।
পাথরপ্রতিমা থেকে মুন্না সর্দারের রিপোর্ট কাকদ্বীপ ডট কম


Post A Comment:
0 comments so far,add yours