পুণ্যস্নানের ভূমি গঙ্গাসাগর এবার সাক্ষী রইল এক অনন্য ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক নবজাগরণের। মহামুনি কপিলের স্মৃতিবিজড়িত সাগরদ্বীপের পুরুষোত্তমপুর এলাকায় নাগ সরোবর সংলগ্ন স্থানে রবিবার এক সাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভগবান আদিনাথ, ভগবান পদ্মপ্রভু এবং ভগবান মল্লিনাথের শ্বেত মার্বেল নির্মিত বিগ্রহ সুপ্রতিষ্ঠিত হলো।


এই মহতী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মানুষ, যা গঙ্গাসাগরের বুকে এক অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আবহ তৈরি করেছে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাগরদ্বীপের গর্ব, বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক শ্রী মৃণাল কান্তি দে। উপস্থিত ছিলেন জৈন সমাজের প্রথিতযশা পন্ডিত, গবেষকবৃন্দ এবং পৌন্ড্র জৈন ঐতিহাসিক সম্পর্কের গবেষক ও জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক ড. অরূপ কুমার হালদার (ভান্ত জিননাথ)।

উল্লেখ্য যে, এই সমগ্র প্রচেষ্টার নেপথ্যে রয়েছে শ্রী ভারতবর্ষীয় দিগম্বর জৈন (তীর্থ সংরক্ষনী) মহাসভার সর্বভারতীয় মুখ্য অধিকর্তা শ্রদ্ধেয় শ্রী রাজ কুমার শেঠী (জৈন) এবং ঐতিহাসিক পৌন্ড্র জৈন রিলেশন পুনরুদ্ধার সমিতির পশ্চিমবঙ্গ শাখার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব। এছাড়াও, এই আধ্যাত্মিক পরিকাঠামো নির্মাণে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন বিশিষ্ট সমাজসেবী ও ‘মৈত্রী মেডিক্যাল সেন্টারে’র প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ নির্মল কুমার মণ্ডল। ইতিমধ্যেই নাগ সরোবরের এই প্রাঙ্গণে ১১ ফুট উচ্চতা ও ৩ টন ওজনের কষ্টিপাথরের ২৩তম তীর্থঙ্কর ভগবান পরেশনাথের সুবিশাল জীন প্রতিবিম্ব স্থাপিত হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর মাসে এই তীর্থক্ষেত্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকে ঘিরে সাজ সাজ রব পড়ে গিয়েছে গঙ্গাসাগরজুড়ে। ধর্মীয় পর্যটনের মানচিত্রে এটি এক নতুন অধ্যায় হিসেবে সংযোজিত হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।
Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours