২০২৫ সালের কালীপুজোর দিন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের সূর্যনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের নস্করপাড়ায় একটি কালীমন্দিরে দেবী কালী ও ভগবান শিবের মূর্তি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। সকালে বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে ভাঙা কালীমূর্তি নিয়ে জাতীয় সড়ক ১১৭ অবরোধ করেন। দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ বারবার অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানালেও পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের দাবি, কিছু বিক্ষোভকারী ইট-পাথর ছুড়তে শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করা হয়।

এরপরই ঘটে সবচেয়ে বিতর্কিত ঘটনা। ক্ষতিগ্রস্ত কালীমূর্তিটিকে একটি পুলিশ প্রিজন ভ্যানে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেই দৃশ্যের ভিডিও ও ছবি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, এতে হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজ্য পুলিশ জানায়, অবরোধ সরিয়ে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক করা এবং মূর্তিটিকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
ঘটনাটি নিয়ে শুরু হয় তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। একদিকে বিরোধীরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তোলে, অন্যদিকে তৎকালীন সরকার দাবি করে, বিষয়টি আইনশৃঙ্খলার দৃষ্টিকোণ থেকেই সামাল দেওয়া হয়েছিল। তদন্তও শুরু হয় মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনায়।

অবশেষে ২৫ জুলাই ২০২৬ সালে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ওই ঘটনার সময় সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্বে থাকা আইপিএস অফিসার কোটেশ্বর রাওকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ মোকাবিলা এবং কালীমূর্তি প্রিজন ভ্যানে তোলার ঘটনায় তাঁর ভূমিকার কারণেই এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কাকদ্বীপের এই ঘটনা শুধু আইন-শৃঙ্খলা নয়, ধর্মীয় অনুভূতি এবং প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল। এক বছর পর সেই বিতর্কের জেরেই এল এই বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।
Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours