সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এবং সাধারণ মৎস্যজীবীদের চোখে ধুলো দিয়ে ব্যান পিরিয়ডের মাঝেই গভীর সমুদ্র থেকে মাছ লুঠের এক জালিয়াতি ফাঁস হলো নামখানায়।আগামী ১৪ই জুন মাঝরাত থেকে সমুদ্রে মাছ ধরার সরকারি নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার কথা।
কিন্তু তার আগেই শনিবার দুপুরে নামখানার হরিপুর ঘাটে ১৬০০ কেজি সামুদ্রিক মাছ বোঝাই একটি ট্রলারকে হাতেনাতে ধরে ফেললেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা।মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মাছেদের প্রজননের জন্য গত দু'মাস ধরে সমুদ্রে মাছ ধরার ওপর কড়া সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাড়তি মুনাফার লোভে গোপনে সমুদ্রে ট্রলার নামাচ্ছিল বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল। শনিবার দুপুরে নামখানার হরিপুর ঘাটের কাছে কাকদ্বীপ এলাকার ‘এফবি পারমিতা’ নামের একটি ট্রলারকে সন্দেহজনকভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা। ট্রলারে থাকা কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করতেই তাঁদের কথায় অসঙ্গতি মেলে। এরপরই গ্রামবাসীরা ট্রলারের কোল্ড স্টোরেজে তল্লাশি চালাতেই চোখ কপালে ওঠে সবার। দেখা যায়, ভেতরে থরে থরে সাজানো রয়েছে প্রায় ১৬০০ কেজি সদ্য ধরে আনা বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ।
খবর দেওয়া হয় নামখানা থানা এবং মৎস্য দপ্তরে। খবর পেয়েই দ্রুত হরিপুর ঘাটে পৌঁছায় নামখানা থানার পুলিশ ও মেরিন অফিসাররা। সরকারি নিয়ম ভাঙার অপরাধে ‘এফবি পারমিতা’ নামের ওই ট্রলারটিকে পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে।পাশাপাশি, উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ মাছ নষ্ট হতে না দিয়ে মৎস্য দপ্তরের আধিকারিক ও স্থানীয় মৎস্যজীবী সংগঠনের উপস্থিতিতে সরকারিভাবে নিলাম করা হয়।
এই চোরাচালান চক্র নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কাকদ্বীপ ফিশারম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিজন মাইতি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সরকারি নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এবং আইন অমান্য করে বেশ কিছু অসাধু ট্রলার মালিক সমুদ্রে মাছ ধরতে বেরিয়ে গিয়েছে। তাদের মধ্যেই আজ এই ‘পারমিতা’ ট্রলারটিকে মৎস্যজীবীরা হাতেনাতে ধরে ফেলেছে। আমাদের কাছে খবর আছে, এমন আরও অনেক ট্রলার এখনও লুকিয়ে গভীর সমুদ্রে বেআইনিভাবে ফিশিং করে চলেছে। যারা এই জালিয়াতির সাথে যুক্ত, তাদের সকলের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


Post A Comment:
0 comments so far,add yours