সাংবাদিক বৈঠকে সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগেই উঠে পড়েন ইন্ডি জোটের নেতারা। সেইসময় দেখা যায়, সবার আগে বৈঠক ছেড়ে উঠে পড়েছেন মমতা। রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, মমতার এমন অবস্থা আগে কখনও দেখা যায়নি। তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন ইন্ডি জোটের রাশও নিজের কাছে রাখার চেষ্টা করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে।
চুপ মমতা, বললেন মাত্র দুটি শব্দ, রাশ হারালেন ইন্ডি জোটেরও?
মল্লিকার্জুন খাড়্গের পাশে চুপচাপ বসে রইলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
এতদিন এইভাবে দেখা যায়নি তাঁকে। কার্যত বিধ্বস্ত। চুপ করে রইলেন। ইন্ডি জোটের সাংবাদিক বৈঠকে বললেন মাত্র দুটি শব্দ। সেই শব্দ দুটিও বলেছেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেকে। এর বাইরে সোমবার নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে ইন্ডি জোটের সাংবাদিক বৈঠকে কোনও কথা বললেন না তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর ভাঙছে তৃণমূল। বিধানসভার পর লোকসভায়ও তৃণমূল এখন দু’ভাগ হয়ে গিয়েছে। এবং এমন দিনে হয়েছে, যখন স্বয়ং মমতা দিল্লিতে রয়েছেন। এরই মধ্যে এদিন কনস্টিটিউশন ক্লাবে এদিন বৈঠকে বসেন ইন্ডি জোটের নেতারা। সেই বৈঠকে যোগ দিতেই দিল্লি এসেছেন মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন ওই বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠক করেন ইন্ডি জোটের নেতারা। সেখানে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি খাড়্গের ডানদিকে বসেছিলেন মমতা। তাঁর পাশে অখিলেশ যাদব, ওমর আবদুল্লা ও তেজস্বী যাদব। আর খাড়্গের বাম পাশে ছিলেন রাহুল গান্ধী।
সাংবাদিক বৈঠকে কোনও দুটি শব্দ বলেছেন মমতা?
এদিন কনস্টিটিউশন ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠকে খাড়্গের পাশে চুপ করে বসেছিলেন মমতা। প্রায় সাড়ে সাত মিনিটের সাংবাদিক বৈঠকে দুটি শব্দ বলেছেন মমতা। ‘অ্যাট্রোসিটি, ভার্চুয়ালি’। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে খাড়্গে ইন্ডি জোটের নেওয়া সিদ্ধান্তের কথা বলছিলেন। কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি বলেন, “২৫টি দল এদিনের বৈঠকে অংশ নিয়েছিল। নিজেদের বক্তব্য জানিয়েছে। ৫টি পয়েন্টে সবাই সম্মতি জানিয়েছে। প্রথমত, SIR নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে শীঘ্রই চিঠি দেওয়া হবে। দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। তৃতীয়ত, বর্তমান অর্থনীতি পরিস্থিতি, বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, কৃষক ইস্যু ও অন্যান্য জনগণ সম্পর্কিত ইস্যুতে কেন্দ্রকে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার দাবি।”
খাড়্গে চতুর্থ পয়েন্ট বলা শুরু করতেই মমতা তাঁকে বলেন, আর অ্যাট্রোসিটি (নৃশংসতা) ইস্যু। অর্থাৎ তিন নম্বর পয়েন্টে নৃশংসা ইস্যুতেও সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার দাবির কথা আলোচনা হয়েছে বলে স্মরণ করান। তখন খাড়্গে আবার তৃতীয় পয়েন্টে নৃশংসতার কথা যোগ করেন।
পুরো সাংবাদিক বৈঠকে এরপর আর একটি শব্দই বলেছেন মমতা। তাও খাড়্গেকে। খাড়্গে চতুর্থ পয়েন্টে জানান, প্রতি ২ মাস অন্তর ইন্ডি জোটের বৈঠক হবে। পরের বৈঠক হবে হায়দরাবাদে। আর পঞ্চম পয়েন্টে বলেন, বাদল অধিবেশনে প্রতিদিন সকালে বিরোধী দলনেতার ঘরে সমন্বয় বৈঠক হবে। এরপরই খাড়্গে জানান, এদিনের বৈঠকে সশরীরে না থাকলে ৫টি পয়েন্টে সম্মতি জানিয়েছেন উদ্ধব ঠাকরে, হেমন্ত সোরেন। তখন মমতা খাড়্গেকে বলেন, ‘ভার্চুয়ালি’। অর্থাৎ ভার্চুয়ালি বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন উদ্ধব ও হেমন্ত।
সাংবাদিক বৈঠকে সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগেই উঠে পড়েন ইন্ডি জোটের নেতারা। সেইসময় দেখা যায়, সবার আগে বৈঠক ছেড়ে উঠে পড়েছেন মমতা। রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, মমতার এমন অবস্থা আগে কখনও দেখা যায়নি। তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন ইন্ডি জোটের রাশও নিজের কাছে রাখার চেষ্টা করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। কংগ্রেসের সমালোচনা করতেও ছাড়েননি। বাংলায় ক্ষমতা হারানোর পর ইন্ডি জোটের রাশও মমতা হারালেন কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে।
তবে জানা গিয়েছে, ইন্ডি জোটের বৈঠকে মমতা বলেছেন, জোর করে বাংলায় তৃণমূলকে হারানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, “আজ যা বাংলায় হয়েছে, সেটা অন্যান্য রাজ্যেও হবে।” সোনারপুরে অভিষেকের উপর আক্রমণের কথা আলাদাভাবে ইন্ডি জোটের বৈঠকে উল্লেখ করেছেন মমতা। প্রসঙ্গত, ইন্ডি জোটের এই বৈঠকে এদিন ডিএমকে ও আপ উপস্থিত ছিল না।


Post A Comment:
0 comments so far,add yours