মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বলেন, "জমি থেকে পা উঠে গেলে, পড়ে যাওয়া ছাড়া আর কোন‌ও উপায় থাকে না। তাই আমি মনে করি, আমাদের প্রত্যেকের নিজের ইতিহাস, নিজের ভূমি, যা আমাদের পূর্বপুরুষরা দিয়ে গিয়েছেন, সেটা জানতে হবে। নিজের অতীত, নিজের কাজ যদি কেউ ভাল না বাসে তাহলে সে জীবনে সফল হতে পারে না।"


বড় পরিকল্পনা, ফ্রান্সের সঙ্গে মউ স্বাক্ষর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের, প্যারিস থেকে এবার সরাসরি কলকাতায় বিনিয়োগ?

একসময়ের ফরাসি উপনিবেশ ছিল বাংলার চন্দননগর। এখনও সেই শহরে আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছে সেই ইতিহাস। এবার সেই চন্দননগর তথা হুগলিকে ঘিরে বড় পরিকল্পনা রাজ্য সরকারের। ফ্রান্সের সঙ্গে মউ স্বাক্ষর হল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটন দফতরের। শুক্রবার থেকে তিনদিন ব্যাপী বর্ণাঢ্য উৎসবের সূচনা করা হয়েছে চন্দননগরে। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ ও ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত থিয়েরি ম্যাথু।


‘দ্য রেজিস্ট্রি ভবনে’র সংস্কার
ফরাসি আমলে তৈরি ঐতিহাসিক ‘দ্য রেজিস্ট্রি ভবনে’র সংস্কার করে পুরনো রূপ ফিরিয়ে আনার বিশেষ ভাবনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। পর্যটন দফতরের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ফ্রান্স সরকারের ব্যবস্থাপনায় ‘দ্য রেজিস্ট্রি বিল্ডিং’-এর ‘রেনোভেশন’ করবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটন দফতর। আগামিদিনে এই ধরনের হেরিটেজ সংরক্ষণের কাজের মাধ্যমে হেরিটেজ ট্যুরিজমের ক্ষেত্র প্রশস্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।


সবজি বিক্রেতাকে দেখলেই কথায় কথায় জড়িয়ে ধরতেন, বাজার করতে এসে খেলেন চুমুও, তারপর গল্প মোড় নিল অন্যদিকে
হেরিটেজ ট্যুরিজমের অন্যতম গন্তব্য হুগলির চন্দননগর। হুগলি নদীর দুই পাশে আর‌ও বেশ কয়েকটি শহর রয়েছে, যেখানে ফরাসি ছাড়াও ডাচ-চুঁচুড়া, পর্তুগিজ-ব্যান্ডেল, ডেনিস-শ্রীরামপুর, ব্রিটিশ-ব্যারাকপুরের মতো ঔপনিবেশিক ইতিহাস রয়েছে, যা হেরিটেজ ট্যুরিজমের অংশ হতে পারে বলেও জানাচ্ছে পর্যটন দফতর।


ফ্রান্স থেকে সরাসরি কলকাতায় বিনিয়োগ?
ভারতে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত থিয়েরিঁ ম্যাথু এদিন পশ্চিমবঙ্গ সরকার তথা পর্যটন দফতরকে ধন্যবাদ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ভারত ও ফ্রান্স তথা ফ্রান্সের সঙ্গে বাংলার সম্পর্ক দুই-একদিনের নয়। এর একটা দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ফরাসি পর্যটক, স্কলার, ঐতিহাসিক অনেকেই বাংলায় আসবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত আরও জানান, আগামী বছর থেকে যাতে প্রতি বছর চন্দননগরে ফরাসি উৎসব পালন করা হয়, সেই প্রস্তাব মন্ত্রীকে দিয়েছেন তিনি। তিনি আরও জানান, বর্তমানে ফ্রান্স থেকে ভারতে বিনিয়োগের মূল কেন্দ্র হল মুম্বই। কিন্তু এবার লক্ষ্য থাকবে সেই বিনিয়োগ যাতে সরাসরি কলকাতায় আসে। সেক্ষেত্রে কলকাতা থেকে ফ্রান্সের সরাসরি পরিষেবা চালু করা সম্ভব হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইউরোপীয় কলোনি জুড়ে পর্যটন সার্কিট
পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বলেন, “জমি থেকে পা উঠে গেলে, পড়ে যাওয়া ছাড়া আর কোন‌ও উপায় থাকে না। তাই আমি মনে করি, আমাদের প্রত্যেকের নিজের ইতিহাস, নিজের ভূমি, যা আমাদের পূর্বপুরুষরা দিয়ে গিয়েছেন, সেটা জানতে হবে। নিজের অতীত, নিজের কাজ যদি কেউ ভাল না বাসে তাহলে সে জীবনে সফল হতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন, “একসময় যে ফরাসি অধিবাসীরা এখানে থাকতেন, যদি তাদের উত্তরপুরুষ কখন‌ও আসেন, তাহলে দেখতে পাবেন বর্তমানে সেই জায়গা কেমন আছে।”

হুগলি নদীর তীরবর্তী সাবেক ইউরোপীয় কলোনি এলাকাগুলিকে ঘিরে পর্যটন সার্কিট তৈরির ভাবনাও রয়েছে রাজ্য সরকারের। হুগলি জেলার যে সমস্ত ছোট ছোট শহর একসময় ইউরোপের বিভিন্ন দেশের উপনিবেশ ছিল, মূলত সেই এলাকাগুলিকে কেন্দ্র করেই তৈরি হবে এই পর্যটন সার্কিট। বিশেষ করে ইউরোপীয় পর্যটকদের আকৃষ্ট করতেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। পাশাপাশি, জলপথ নির্ভর পর্যটন গড়ে তোলারও ভাবনা রয়েছে রাজ্যের। অর্থাৎ, জলপথে একের পর এক ঐতিহাসিক শহর ঘুরে দেখার সুযোগ তৈরি করে এই অঞ্চলকে একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন সার্কিট হিসেবে তুলে ধরতে চায় রাজ্য সরকার।


Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours