এর আগে হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন না করে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দরজায় পৌঁছে গিয়েছিলেন কালীঘাট তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ৩ অগস্ট সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে অভিষেকের আবেদনের শুনানি হয়। সেখানে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, হাইকোর্টেই এই মামলার শুনানি হবে।

বিদেশ যাওয়া আপাতত স্থগিত? অভিষেকের একটাই পণ 'SSKM-এ যাব না'
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদন নিয়ে কী নির্দেশ দেবে হাইকোর্ট?

প্রথমে কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ। অনুমতি না পেয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু, শীর্ষ আদালত ফের মামলা পাঠায় কলকাতা হাইকোর্টে। সাত দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে হাইকোর্টকে নির্দেশ দেয় দেশের সর্বোচ্চ আদালত। তারপরই বুধবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রার আবেদন নিয়ে শুনানি হল হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে। আর এদিন শুনানিতে ফের ধাক্কা খেলেন অভিষেক। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, এসএসকেএম হাসপাতালে চোখ দেখান তৃণমূল সাংসদ। কিন্তু, এসএসকেএম-এ চোখ দেখাতে নারাজ অভিষেক। শেষপর্যন্ত আবেদন প্রত্যাহার করতে চান তিনি। তারপরই মামলাটি খারিজ করেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।  


এদিন শুনানিতে কী হল?


শশীকে নিয়ে এত জল্পনা, এবার নিজে কি কিছু বললেন প্রাক্তন মন্ত্রী?
এদিন মামলার শুনানিতে অভিষেকের আইনজীবী রেবেকা জন বলেন, এর আগে তদন্তকারী সংস্থাকে সাত দিন আগে নোটিস দিয়ে গিয়েছেন তাঁর মক্কেল। কলকাতায় স্ত্রী ও বাচ্চারা রয়েছে। তাঁর মক্কেলের প্রতি মুভমেন্ট জানা যায়। সাংসদ হিসেবে যে কোনও দেশে যেতে পারেন তিনি। তখন বিচারপতি বলেন, সমস্যা হল বিধাননগর পুলিশ থানায় একাধিক আলাদা মামলা বিচারাধীন আছে। একটা মামলা হলে আলাদা কথা ছিল। কিন্তু আদালত মনে করছে, কলকাতায় কিংবা রাজ্যের বাইরে হলেও এই চিকিৎসা করার ক্ষেত্রে অসুবিধা নেই।


বিচারপতি আরও বলেন, “বিদেশ কিংবা দেশ, আজকের দিনে চিকিৎসাক্ষেত্রে ম্যাটার করে না।” বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, অপথ্যালমোলজি এসএসকেএম-এ যেটি বিখ্যাত, সেখানেই তিন চিকিৎসকের কমিটি পরীক্ষা করবে। চেক করবে আজ। পরশু রিপোর্ট দেবে। তারা যদি মনে করে, কলকাতা কিংবা দেশের যে কোনও আই হসপিটাল চিকিৎসা হতে পারে।

অভিষেকের আইনজীবী রেবেকা জন তখন জানান, তাঁর মক্কেল এসএসকেএম-এ চিকিৎসা করাতে চান না। অভিষেকের আইনজীবী বারবার বলেন, তাঁর মক্কেল চিকিৎসা কন্টিনিউ করতে বিদেশে যেতে চান। কারণ, বিদেশেই তাঁর চোখের চিকিৎসা চলছে। যদি ট্রিটমেন্ট এখানে সম্ভব হত, তাহলে বলতেন না। তখন বিচারপতি প্রশ্ন করেন, “নির্দেশে কী লিখব আপনি এসএসকেএম-এ যেতে চান না।” বিপাকে পড়ে মামলা প্রত্যাহার করতে চান অভিষেকের আইনজীবী।

মামলা প্রত্যাহারের আবেদন শুনে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, “শীর্ষ আদালতের নির্দেশ। শুনতে হবে এই মামলা। ফলে এটা প্রত্যাহার করতে দেব না। সুপ্রিম কোর্টের অনেক বিচারপতি দেশেই চিকিৎসা করান।” একইসঙ্গে বিচারপতি বলেন, অভিষেক যে চিকিৎসকের উল্লেখ করেছেন আবেদনে, সেই চিকিৎসকের রেজিস্ট্রার নম্বর নেই সেখানে। এরপর অভিষেকের আইনজীবী সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় গুগল থেকে চিকিৎসকের যাবতীয় ডিটেলস পড়ে শোনান। তাঁর বক্তব্য, “শীর্ষ আদালতের বহু বিচারপতি বাইরেও যান চিকিৎসা করাতে।” অভিষেকের আইনজীবী বলেন, “আমরা শুধু দেশের বাইরে যেতে চেয়েছি। এসএসকেএম-এ যাওয়ার জন্য আমার মক্কেল কোনও নির্দেশ দেননি।”

শেষ পর্যন্ত অভিষেকের মামলা খারিজ করেন বিচারপতি। বিদেশে চোখের চিকিৎসা করাতে চান অভিষেক। আর বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, আগে এসএসকে এম-র চিকিৎসকরা পরীক্ষা করবেন। তাতে সায় নেই অভিষেকের। তাই মামলা খারিজ করা হল।

মামলা খারিজ করে অর্ডারে বিচারপতি লেখেন, “আদালত যেহেতু মেডিকেল এক্সপার্ট নয়, তাই আদালত তার পরামর্শ দিয়েছিল এসএসকেএম-এ ৬ অগস্টে যাওয়ার জন্য। সেখানে নির্ধারিত হত এটা আদৌ কতটা জরুরি বাইরে যাওয়া। যেকোনও নাগরিক যেকোনও জায়গায় চিকিৎসার জন্য যেতে পারেন। কিন্তু এক্ষেত্রে একাধিক মামলা রয়েছে। যার মধ্যে তিনটে মামলা বিচারাধীন এবং তদন্ত চলছে। তাই আদালত এবিষয়ে এসএসকেএম-র পরামর্শ চেয়েছিল।”

আগে কী হয়েছিল?

গত ২০ জুলাই অভিষেকের বিদেশযাত্রার আবেদন নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেছিলেন, “আপনার চোখের চিকিৎসা কলকাতার হাসপাতালে করা হয়নি। আদালত আপনাকে তখন যেতে দিতে পারে যখন এখানে এই চিকিৎসা করা যাবে না। আপনি কি কখনও SSKM গিয়েছিলেন? চিকিৎসকরা একটা বোর্ড গঠন করুক। মেডিক্যাল বোর্ড যদি মনে করে চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাত্রা প্রয়োজনীয়, তাহলে সমস্যা নেই।”

সিঙ্গল বেঞ্চের এই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন না করে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দরজায় পৌঁছে যান কালীঘাট তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ৩ অগস্ট সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে অভিষেকের আবেদনের শুনানি হয়। সেখানে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, হাইকোর্টেই এই মামলার শুনানি হবে। একইসঙ্গে নির্দেশ দেন, চোখের চিকিৎসার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিদেশ যেতে পারবেন কি না সেবিষয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে কলকাতা হাইকোর্টকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তারপরই এদিন হাইকোর্টে ফের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে অভিষেকের আবেদনের শুনানি হয়। সেখানেই শুনানি শেষে মামলা খারিজ করেন বিচারপতি।

বিদেশযাত্রা কি আপাতত স্থগিত করলেন অভিষেক?

তিনি চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে চেয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন। আবার সেই আবেদন প্রত্যাহার করতে চান এদিন। অভিষেকের মামলা এদিন হাইকোর্ট খারিজ করার পর প্রশ্ন উঠছে, আপাতত বিদেশযাত্রা কি স্থগিত রাখছেন তৃণমূল সাংসদ? কারণ, তাঁকে বিদেশ যেতে হলে ফের আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে। আবেদন প্রত্যাহার করে নিয়ে বিদেশযাত্রা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন অভিষেক?
Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours