উৎসবের আবহে ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠান। সোমবার সকাল ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শুরু হয় এই বিশেষ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল তথা ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য আর. এন. রবি। তাঁর উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের কাছে দিনটি হয়ে ওঠে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত স্কলার ও বিজ্ঞানী অধ্যাপক চন্দ্রিমা সাহা। পাশাপাশি বিশেষ সম্মানীয় অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে যোগ দেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচ্চ ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মিতা ব্যানার্জির উদ্যোগে এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এদিনের অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ডক্টর ইন্দিরা চক্রবর্তীকে সম্মানসূচক ডক্টর অফ সায়েন্স (D.Sc.) ডিগ্রি প্রদান। তাঁর দীর্ঘদিনের শিক্ষা, গবেষণা ও সমাজের প্রতি অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মান প্রদান করা হয় বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
সমাবর্তন ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সকাল থেকেই ছিল উৎসবের পরিবেশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা ক্যাম্পাস। শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় শেষ করে ডিগ্রি ও সম্মান গ্রহণের মুহূর্তে ছাত্রীদের মধ্যেও ছিল বিশেষ উচ্ছ্বাস।
অনুষ্ঠানের মঞ্চে রাজ্যপাল আর. এন. রবি ছাত্রীদের হাতে বিভিন্ন ডিগ্রি ও সম্মান তুলে দেন। শিক্ষাক্ষেত্রে কৃতিত্ব অর্জনকারী ছাত্রীদের বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয়। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ছাত্রীদের আরও এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি গবেষণা ও জ্ঞানচর্চায় তাঁদের ভূমিকা নিয়েও অনুষ্ঠানে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এদিন সংগীতশিল্পী স্বাগতালক্ষ্মী দাশগুপ্তকেও সম্মানিত করা হয়। তাঁর হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। শিক্ষা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনের বার্তাও উঠে আসে এই অনুষ্ঠানে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সমাবর্তনকে কেন্দ্র করে ডায়মন্ড হারবারে শিক্ষা মহলেও বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মহিলা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি এবং তাঁদের আত্মনির্ভর করে তোলার ক্ষেত্রে ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়েও এদিন আলোচনা হয়।
রাজ্যপাল তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য আর. এন. রবি’র উপস্থিতি অনুষ্ঠানের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। রাজ্যের শিক্ষা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিতিও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। একই মঞ্চে শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী, প্রশাসনিক প্রতিনিধি ও সাংস্কৃতিক জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সমাবর্তন অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে বর্ণময়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবর্তন শুধু ডিগ্রি প্রদান অনুষ্ঠান নয়, বরং আগামী দিনে ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং বৃহত্তর সমাজে তাঁদের ভূমিকার ক্ষেত্রেও নতুন দিশা দেখাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


Post A Comment:
0 comments so far,add yours