তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়ক-সাংসদদের নিশানা করে মমতা বলেন, "সবচেয়ে দুঃখের ব্যাপার, আমার সই করা প্রতীকে জিতে তাঁরা আজ বলছেন, ২০২৩ সালের পর এই দলের অস্তিত্ব নেই। আমাদের দলের ২০২৭ সালের অক্টোবরে আবার সাংগঠনিক নির্বাচন করার কথা। কারণ, ২০২২ সালে দলের সাংগঠনিক সংবিধানে এটা বলা রয়েছে। ২০২৩ সালেই যদি দলের স্বীকৃতি চলে যায়, তাহলে ২০২৬ সালে নির্বাচনে দাঁড়ালেন কী করে?"


কালীঘাট তৃণমূল' কি দলের প্রতীক হারাবে? এবার মুখ খুললেন স্বয়ং মমতা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়


ক্রমশ কোণঠাসা হচ্ছে ‘কালীঘাট তৃণমূল’। নিঃসঙ্গ হচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পরিস্থিতিতে শনিবার ফেসবুকে এসে একাধিক বিষয়ে বক্তব্য রাখলেন মমতা। ঋতব্রত শিবিরের কাছে তৃণমূলের প্রতীক কি হারাবে কালীঘাট তৃণমূল? কয়েকদিন ধরেই এই প্রশ্ন উঠছে। ঋতব্রতরা পৌঁছে গিয়েছেন নির্বাচন কমিশনে। দলের প্রতীক হারানোর সম্ভাবনা নিয়েও এদিন মুখ খুললেন মমতা।

কী বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?


 লকারে ঠিক কী কী রয়েছে? চন্দ্রিমার সম্পত্তি কত জানেন? কীভাবে হয়ে উঠেছিলেন মমতার ছায়াসঙ্গী?
বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর মমতা জানিয়ে দেন, এবার থেকে তাঁর যা বলার সোশ্যাল মিডিয়ায় বলবেন। বেশ কিছুদিন পর এদিন ফেসবুক লাইভে নিজের বক্তব্য রাখেন তিনি। বক্তব্যের শুরুতেই বলেন, “আশা করি, বাংলার সকলে ভালো আছেন। আমার অরিজিনাল তৃণমূলের কংগ্রেসের যাঁরা ছেড়ে চলে যাননি, এখনও বিজেপির আশ্রয়ে চলে যাননি, তাঁদের স্যালুট। কয়েকদিন যাবদ আপনারা লক্ষ্য করছেন, আমার সহকর্মীরা বলছেন। মুখপাত্ররা বলছেন। আমি খুব কম কথা বলছি। কারণ আমি মনে করি, নীরবতাই আসল কথা বলে। আজকে অনেকদিন পর কিছু কথা বলতে এসেছি।”

বিজেপি ভোট লুঠ করে ক্ষমতায় এসেছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “একটা সরকার যেভাবেই আসুক, আমরা ভাবলাম, একটা নতুন সরকার এসেছে, তারা কাজ করুক। কিন্তু, কাজের বদলে সুস্থ মানুষকে অসুস্থ করা হচ্ছে। আমাদের কর্মীদের নানারকম মামলা দিয়ে লকআপে পোরা হচ্ছে। অনেক সাধারণ মানুষ, তৃণমূল কর্মী ঘরছাড়া।”

তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়ক-সাংসদদের নিশানা করে মমতা বলেন, “সবচেয়ে দুঃখের ব্যাপার, আমার সই করা প্রতীকে জিতে তাঁরা আজ বলছেন, ২০২৩ সালের পর এই দলের অস্তিত্ব নেই। আমাদের দলের ২০২৭ সালের অক্টোবরে আবার সাংগঠনিক নির্বাচন করার কথা। কারণ, ২০২২ সালে দলের সাংগঠনিক সংবিধানে এটা বলা রয়েছে। ২০২৩ সালেই যদি দলের স্বীকৃতি চলে যায়, তাহলে ২০২৬ সালে নির্বাচনে দাঁড়ালেন কী করে? প্রতীক তো আমি দিয়েছিলাম। আপনাদের নামগুলো অফিস থেকে গিয়েছে। কমিশন তা স্বীকার করেছে। তবেই তো প্রার্থী হয়েছেন।” প্রসঙ্গত, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূলের দাবি, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুরনো ওয়ার্কিং কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর তৃণমূল আর কোনও নির্বাচন বা নতুন গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়নি।

বিদ্রোহীদের আক্রমণ করে মমতা আরও বলেন, “২ মাসও ধৈর্য ধরতে পারলেন না। এত তাড়াতাড়ি বেইমানি করে চলে গেলেন। আপনারা তো এখন সরাসরি বিজেপি করেন। আর তৃণমূলের আদর্শ বিজেপি বিরোধী। আপনারা যাঁরা বিজেপির কথায় চলছেন, যদি সাহস থাকে, বিজেপিতে গিয়ে যোগ দিন। এখানে থেকে দল ভাঙানোর চক্রান্ত। ভাবেন কী, আমি মরে গিয়েছি। ভাবেন কী, আমাদের কর্মীরা মারা গিয়েছে।”

দলের প্রতীক নিয়ে মুখ খুললেন মমতা-

তৃণমূলের প্রতীক ঋতব্রত শিবিরের কাছে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও এদিন মুখ খোলেন মমতা। বলেন, “সরকার আপনার পক্ষে রয়েছে বলে তাকে দিয়ে কমিশনকে বলে আপনি প্রতীক কেড়ে নিতে পারেন। যদিও আমি জানি, প্রতীক আপনার পক্ষে যাবে না। তবুও, ধরে নিলাম, যদি ভ্যানিশ কুমার বাবু আমাদের দলকে ধ্বংস করতে আপনাদের প্রতীক দিয়ে দেয়, তাতে কী যায় আসে। প্রতীক সেটাই হয়, যেটা সাধারণ মানুষ গ্রহণ করে, তৃণমূল কর্মীরা গ্রহণ করে। আমি যখন প্রথম প্রতীক পাই, ১ মাস ২২ দিনের মাথায় লড়াই করি। তখন প্রতীক চেনাতে পারিনি। এখন দরকার হলে প্রতীক গলায় ঝুলিয়ে মানুষের কাছে বেরব, আমার কণ্ঠরোধ করতে পারবেন? অত সস্তা নয়। কণ্ঠরোধ করতে আমায় প্রাণে মেরে ফেলতে হবে। তার চেষ্টা কম করেননি। মহুয়া, কল্যাণ, অভিষেকের উপর হামলা করেছেন। আমার বাড়িতে হামলা করেছেন। কর্মীদের উপর নানা রকম জিনিস ছুড়ছেন।”

বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বলেন, “বিজেপির নিজস্ব সংগঠন নেই। আইসিকে দিয়ে ব্লক সভাপতির কাজ করাচ্ছেন। পুলিশ সুপারকে দিয়ে জেলা সভাপতির কাজ করাচ্ছেন। প্রায় ২ কোটি ৪৬ লক্ষ লক্ষ্মীর ভান্ডার পেতেন। আজকে দেড় কোটির উপর মা-বোনের নাম কেটে দিয়েছে শুনছি। তারা হাহাকার করছে। ভালো করে সরকারটা চালান, এটুকুই বলব। আমি মাথা নত করব না। আমার দলও মাথা নত করবে না।”
Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours