কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুসারে, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ১৯৭২ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.কম এবং ১৯৭৬ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন । ১৯৭৮ সাল থেকে তিনি আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। বর্তমানে তিনি একজন সমাজকর্মী এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসাবে কর্মরত।
লকারে ঠিক কী কী রয়েছে? চন্দ্রিমার সম্পত্তি কত জানেন? কীভাবে হয়ে উঠেছিলেন মমতার ছায়াসঙ্গী?
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য
একটা ফোন আর কয়েকটা ঘণ্টা। মমতার সমস্ত সঙ্গ ত্যাগ করলেন তাঁর দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী চন্দ্রিমা। শুক্রবার সন্ধ্যায় যখন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা মেট্রোপলিটনে তৃণমূল ভবনে ঢোকেন, তখন নাকি সেখানে অনান্য দিনের মতো উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রিমা। নিজের ঘরে বসেছিলেন। কিন্তু তিনি নাকি টেরও পাননি ঋতব্রতরা ঢুকেছেন। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ফোনে বলেন, ‘তুই ঋতব্রতদের ঢুকতে দিলি?’ আর এই একটা কথাতেই খারাপ লেগেছে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের। আর সেই কারণেই তিনি মমতা শিবির ছাড়লেন বলে দাবি করলেন সাংবাদিকদের কাছে। শনিবার দুপুর দেড়টার ঘটনা। আর ঠিক তার আধ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি পৌঁছলেন বিধানসভায়, এবারে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখোমুখি। শনিবার দিনভর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চন্দ্রিমা। কীভাবে মমতার ছায়াসঙ্গী হয়ে ওঠা চন্দ্রিমার, কত তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ জানেন?
একাধারে একজন দক্ষ আইনজীবী, অন্যদিকে দক্ষ রাজনীতিক। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রভাবশালী নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। পেশায় আইনজীবী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ২০১১ সালে পরিবর্তনের জমানায় প্রথমবার রাজনীতির মূল স্রোতে উঠে আসেন। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি উত্তর ২৪ পরগনার দমদম উত্তর কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করেন। তাঁর আইনি জ্ঞান এবং বাগ্মিতা তাঁকে দ্রুত দলের অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। প্রথমবার বিধায়ক হয়েই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের প্রতিমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পান।
'তারিখ দিয়ে স্কুলের মেয়ে-বাড়ির বউদের তালিকা রেডি থাকত, কোন দিন কাকে লাগবে, গাড়ি পাঠিয়ে তুলে আনত শওকত', কী চলত জীবনতলা-ক্যানিংয়ে? ভয়ঙ্কর অভিযোগ
ক্লাস সেভেনের ছাত্রীকে ‘সিঁদুর’ পরিয়ে দিল ইলেভেনের পড়ুয়া, দেখা মাত্রই স্কুল কী করল দেখুন
২০১৬ সালের নির্বাচনে সাময়িক ধাক্কা খেলেও, ২০১৭ সালের উপ-নির্বাচনে কাঁথি দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে জিতে তিনি পুনরায় বিধানসভায় ফেরেন। বর্তমানে তিনি উত্তর দমদম কেন্দ্রের বিধায়ক। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় সাফল্য দলের মহিলা সংগঠনকে শক্তিশালী। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবারও দমদম উত্তর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। চন্দ্রিমার সম্পত্তির পরিমাণ কত জানেন?
কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুসারে, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ১৯৭২ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.কম এবং ১৯৭৬ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন । ১৯৭৮ সাল থেকে তিনি আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। বর্তমানে তিনি একজন সমাজকর্মী এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসাবে কর্মরত।
২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে তাঁর বার্ষিক আয় প্রদর্শিত হয়েছে ২ লক্ষ ৩৩ হাজার ৫৫০ টাকা। তাঁর স্বামী সমীর বসুর একই সময়ের বার্ষিক আয় ৪ লক্ষ ৩৪ হাজার ১১০ টাকা। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে চন্দ্রিমার বার্ষিক আয় ছিল ২ লক্ষ ২৫ হাজার ৫৫০ টাকা। অর্থাৎ সে অর্থে শেষ চার-পাঁচ বছরে চন্দ্রিমার বার্ষিক আয়ে সেরকম কোনও পরিবর্তন আসেনি। এই মুহূর্তে চন্দ্রিমার হাতে ১ লক্ষ ২০ হাজার ২৪০ টাকা রয়েছে।
চন্দ্রিমার এসবিআই- কলকাতা হাইকোর্ট SPB ব্রাঞ্চে দুটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। একটি অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ৮ লক্ষ ৮৫ হাজার ৯২২ টাকা রয়েছে। আরেকটি অ্যাকাউন্টে ৫০ হাজার টাকা রয়েছে। দুটি অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে ১ কোটি ১০ লক্ষ ৫৬ হাজার ১৬২ টাকা রয়েছে চন্দ্রিমার।
চন্দ্রিমার স্বামীরও ব্যাঙ্ক অফ বরোদা ও এসবিআই-তে একটি করে অ্যাকাউন্ট রয়েছে। দুটি অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে তাঁর ২ লক্ষ ৮ হাজার ১৪০ টাকা রয়েছে।
পোস্ট অফিসে তাঁদের কোনও অ্যাকাউন্ট নেই। মার্কেটে কোথাও কোনও বিনিয়োগ নেই তাঁর। তাঁর একটা স্করপিও গাড়ি রয়েছে। আর সোনা বলতে চন্দ্রিমার রয়েছে ১২ গ্রামের একটা সোনার গলার হার, একটা সোনার আংটি, ৮ গ্রামের সোনার পেন, ৮ গ্রামের সোনার ব্যাঙ্গেল, হীরের আংটি। সব মিলিয়ে চন্দ্রিমার অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ২৪ লক্ষ ১৯ হাজার ৯৯ টাকা। গড়চা রোডে চন্দ্রিমার বাড়ি। এটাই তাঁর বাসস্থান


Post A Comment:
0 comments so far,add yours