ধর্মতলায় ছাত্র আন্দোলনে সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনার কড়া নিন্দা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে, ঘটনা নিয়ে বিধানসভায় বিবৃতি প্রকাশ করলেন তিনি। কলকাতা পুলিশকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে সেবাশ্রয় নিয়েও বিবৃতি দিলেন তিনি। 


ধর্মতলার ঘটনায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইনে মামলা, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী
শুভেন্দু অধিকারী


ধর্মতলায় ছাত্র আন্দোলনে সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনার কড়া নিন্দা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একইসঙ্গে, ঘটনা নিয়ে বিধানসভায় বিবৃতিও প্রকাশ করলেন তিনি। একইসঙ্গে সেবাশ্রয় নিয়েও বিবৃতি দিলেন তিনি।


বিধানসভায় দাঁড়িয়ে শনিবার শুভেন্দু বলেন, “আমি আক্রান্ত ও আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেছি। …আমাদের পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া ছিল যে এটা গণতান্ত্রিক দেশ। যে কেউ গণতান্ত্রিক মত প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। কোনওরকম আইনশৃঙ্খলার অবনতি যেন না হয়। সরকারের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, কোনওরকম বলপ্রয়োগ করা যাবে না বা পুলিশের দিক থেকে কিছু করা যাবে না। যতক্ষণ না পর্যন্ত বিক্ষোভকারীরা নিয়ন্ত্রণের বাইরে না চলে যায়।
মিছিলের ব্যাখা দিয়ে বলেন, “এই মিছিল শান্তিপূর্ণভাবেই এগোচ্ছিল। পুলিশের হিসেবে ভিড় ছিল ৯ হাজার। তার মধ্যে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে ভোটে পরাজিতরা খিদিরপুর, মেটিয়াবুরুজ, রাজারহাট নিউটাউন, বেলগাছিয়া, বাগুইআটি থেকে লোক সাপ্লাই করেছে। পরবর্তীকালে যখন ডোরিনা ক্রসিংয়ে আসে, প্রথমে জুতো, বোতল ছোড়া হয়। টার্গেট করে সাংবাদিকদের। ওরা চেয়েছিল পুলিশ লাঠি মারুক সেল ফাটাক যাতে নাটক জমে। কিন্তু পুলিশ সেই ফাঁদে পা দেননি। কলকাতা পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই।”
শুভেন্দু বলেন, “ইতিমধ্যেই সাংবাদিকদের তরফে আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মোট ৭টি মামলা রুজু করা হয়েছে। এই মামলাগুলিতে গুন্ডাদমন আইন যুক্ত করা হয়েছে। প্রায় ৭০জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যাঁরা একজনও ছাত্র নয়। ককরোচ পার্টির সদস্য নয়। যাঁরা একজনও নিট সংক্রান্ত আন্দোলনকারীদের অংশ নয়।”
বেশ কয়েকজন অভিযুক্তের নামও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “চারজন কুখ্যাত লোকের নাম বলছি আমি। যাদের আমরা ছাড়ব না। আরও বাকি নাম বলে এখানে সময় নষ্ট করব না। রাজাবাগানের আফরোজ, খিদিরপুরের নাহিদ, একবালপুরের তানভীর, ওয়াটগঞ্জের রাহুল জামাল। এই পাঁচটা গুণ্ডার নাম এখানে ঘোষণা করলাম। গুণ্ডাদমন আইনে এমন ব্যবস্থা নেব যাতে তিন পুরুষ মনে রাখে। এই জন্যই গুণ্ডাদমন আইন আনা হয়েছে। সমগ্র বিধানসভার তরফে সাংবাদিকদের উপরে শারীরিক নিগ্রহের নিন্দা করছি। বিজেপির বিধায়করা বি আর আদেম্বকর মূর্তির নিচে কর্মসূচি নিয়েছেন। সেখানেই কালো ব্যাজ পরে তাঁরা সাংবাদিকদের পাশে থাকবেন।”

সেবাশ্রয় দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও বিবৃতি দেন শুভেন্দু অধিকারী। বলেন, “ভাইপোর সেবাশ্রয় ক্যাম্পের স্ক্যাম। বিষ্ণুপুরে একাধিক অভিযোগ করেছেন।” অভিষেককে ‘চিটিংবাজ’ বলে কটাক্ষ। বেশ কিছু ছবি দেখান বিধানসভায়। যাঁদের পা খোয়াতে হয়েছে, হাত খোয়াতে হয়েছে, সেই ছবিগুলি দেখান বিধানসভায়। বলেন, “এক্সরে, ইউএসজি মেশিন বাইরে নিয়ে গেছে। মেডিক্যাল কলেজের ডাক্তারদের বাইরে নিয়ে গিয়েছে। এত খুনের মামলা, একবার ঢুকলে বেরোবে না। কেউ বাঁচাতে পারবে না। আগে তো সবকে তুলব। সব মেশিন সিজ় হয়েছে।”
মুখ্যমন্ত্রী জানান, দিলীপ মণ্ডলের গোডাউন থেকে ২০২৫ সালের ওষুধ সিজ় করা হয়েছে। ২০২১ সালের এক্সপায়ারি ডেটের ওষুধ পাওয়া গিয়েছে।
বিবৃতি দিতে গিয়ে একটি চিঠির উল্লেখ করেন শুভেন্দু। ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকের চিঠি। নাম রাজীব বিশ্বাস। সেবাশ্রয় নিয়ে অভিযোগ তুলে শুভেন্দুকে চিঠি লেখেন তিনি। সেই চিঠি বিধানসভায় পড়ে শোনান শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। কেন্দ্রীয় সরকারের অ্যাটমিক এনার্জি বিভাগ, স্বাস্থ্য দফতরকে চিঠি দিয়েছি। আমরা এক্স রে মেশিন সিজ করেছি, ইউএসজি মেশিন সিজ করেছি। এক্সপায়ারি ওষুধ সিজ করেছি। এই খাবে পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক ডায়মন্ড হারবার ও নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয় প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, সরকারি যে ডাক্তারদের ডিউটি দেওয়া হয়েছিল , সেগুলি আমরা করেছি। সিআইডি, এসটিএফ, জেলা পুলিশদের নিয়ে ব্যাপক তদন্ত হচ্ছে। সেবাশ্রয় ক্যাম্পে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাঁদের প্রত্যেকটি অভিযোগকে এফ আই আর হিসাবে নেওয়া হয়েছে। নিশ্চিন্ত থাকুন, যারা এত বড় অপরাধ করেছে, তাঁদের ছাড়া হবে না। সময় কথা বলবে। সব প্রমাণ নেওয়া হচ্ছে। যথাসময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সময় বলবে, ‘বৃক্ষ তুমি কে, ফলেন পরিচয়।”
Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours