হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, এই জ্বালানি দেশের ৪৮টি সরকারি পেট্রোল পাম্পে বিক্রি করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০০টি এবং ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ৫ হাজার পেট্রোল পাম্পে এই জ্বালানি বিক্রি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।


পেট্রোলের থেকেও সস্তা, দেশে চালু হল E85, কোথায় পাবেন এই জ্বালানি, জেনে নিন


শ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে জ্বালানির দাম বেড়েছে। গত এক মাসে দফায় দফায় বেড়েছে পেট্রোল-ডিজ়েলের দাম (Petrol-Diesel Price)। এই আবহে ভারতে বাজারে এল নতুন জ্বালানি। চালু হল জ্বালানি ই৮৫ (E85 Fuel)। পেট্রোলের থেকে কম দামে এই জ্বালানি পাওয়া যাবে। শুক্রবার অর্থাৎ বিশ্ব পরিবেশ দিবসে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী (Hardeep Singh Puri) একটি পেট্রোল পাম্পে ই৮৫ জ্বালানির উদ্বোধন করেন। এই জ্বালানি প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট কিছু পেট্রোল পাম্পে পাওয়া যাবে। পেট্রোলের সঙ্গে কী পার্থক্য এই জ্বালানির, কোথায় কোথায় পাওয়া যাবে, কত কম টাকায় এই জ্বালানি পাওয়া যাবে, জেনে নিন


ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি E85
ই৮৫ জ্বালানিতে মূলত ৮০-৮৫ শতাংশ ইথানল (Ethanol) এবং ১৪-১৯ শতাংশ পেট্রোল (Petrol) থাকে। তবে, এটি শুধুমাত্র ফ্লেক্স-ফুয়েল যানবাহনে ব্যবহার করা যায়। এই যানবাহনগুলিতে একটি উন্নত ইঞ্জিন কন্ট্রোল ইউনিট (ECU) থাকে যা পেট্রোলে ইথানলের বিভিন্ন পরিমাণের সঙ্গে মিলে যেতে পারে। পুরী বলেন, E85 পরিকাঠামোর সম্প্রসারণের ফলে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ভারতে ইথানল মিশ্রণের সামগ্রিক মাত্রা প্রায় ২৬ শতাংশে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে।



কোথায় কোথায় পাওয়া যাবে ফ্লেক্স-ফুয়েল?
হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, এই জ্বালানি দেশের ৪৮টি সরকারি পেট্রোল পাম্পে বিক্রি করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০০টি এবং ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ৫ হাজার পেট্রোল পাম্পে এই জ্বালানি বিক্রি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।

পেট্রোলের থেকে কত কম দামে মিলবে E85?
সরকার প্রচলিত পেট্রোলের দামের থেকে প্রতি লিটারে প্রায় ২০ টাকা কমে E85 পাওয়া যাবে। অর্থাৎ, কলকাতায় পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে ১১৩ টাকা ৫১ পয়সা। সেক্ষেত্রে, E85 পেতে পারেন প্রায় ৯৩ টাকায়। যা মধ্যবিত্তদের জন্য সুখবর বলা যেতে পারে।

E85-এ কী সুবিধা মিলবে?
হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, ২০১৪ সালে পেট্রোলে ইথানল মিশ্রণের হার ছিল ১.৫৩ শতাংশ। যা বাড়িয়ে এখন ২০ শতাংশ করা হয়েছে। এই কর্মসূচির ফলে ১.৮৪ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিদেশি মুদ্রা সাশ্রয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। অপরিশোধিত তেল আমদানি প্রায় ৩০২ লক্ষ মেট্রিক টন কমেছে। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, পেট্রোল চালিত গাড়ির তুলনায় E85 চালিত ফ্লেক্স-ফুয়েল যানবাহন গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন প্রায় ৬১ শতাংশ কমাতে পারে।

কীভাবে আরও সাশ্রয় করা যেতে পারে?
হরদীপ সিং পুরী বলেন, ভারতে বিক্রি হওয়া সমস্ত নতুন দুই চাকার এবং যাত্রীবাহী গাড়ির অর্ধেক যদি ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তিতে চলে আসে, তাহলে বার্ষিক ইথানলের চাহিদা ৩.১২ বিলিয়ন লিটারের বেশি বাড়তে পারে। যা কৃষকদের জন্য প্রায় ১২,৪০৩ কোটি টাকার অতিরিক্ত আয় তৈরি করবে। তিনি আরও বলেন, “এই ধরনের পরিবর্তনের ফলে বছরে প্রায় ১৫,১৫১ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হতে পারে এবং কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন ৬.৬৪ মিলিয়ন মেট্রিক টন কমতে পারে। ব্রাজিলে ৮০ শতাংশেরও বেশি যানবাহন ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তিতে চলে। ব্রাজিলের সঙ্গে তুলনা করে পুরী বলেন, ভারত পাইলট প্রকল্পগুলি থেকে বেরিয়ে একটি সুসংগঠিত জাতীয় ফ্লেক্স-ফুয়েল ইকোসিস্টেমের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours