নদীভাঙনের জেরে একের পর এক ফেরিঘাটে বসানো সোলার লাইট, সোলার প্যানেল ও বাতিস্তম্ভ নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে যেমন সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি রাতের অন্ধকারে ফেরিঘাট ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াতও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গিয়েছে, পাথরপ্রতিমা বিধানসভা কেন্দ্রের ১৫টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ৯টি নদীবহুল এলাকায় অবস্থিত। এই অঞ্চলের মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম বিভিন্ন ফেরিঘাট। সেই কারণে সরকারি উদ্যোগে একাধিক ফেরিঘাটে সোলার আলোর ব্যবস্থা করা হলেও বর্তমানে নদীভাঙনের কারণে বেশ কয়েকটি স্থানে সেই পরিকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

বিশেষ করে ব্রজবল্লভপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের গদাধর জানার ফেরিঘাট এবং ক্ষেত্রমোহনপুরের যুধিষ্ঠির জানার ফেরিঘাটে স্থাপিত সোলার লাইট ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম নদীতে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। দীর্ঘদিন ধরেই নদীর পাড় ভাঙতে থাকলেও সেগুলি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন, পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ এবং ফেরিঘাটের নৌকা ইজারাদারদের সমন্বয়ে অবিলম্বে নদীতে তলিয়ে যাওয়া সোলার সরঞ্জাম উদ্ধার করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নদীভাঙনের ঝুঁকি এড়াতে সোলার পোল, কন্ট্রোল বক্স ও অন্যান্য সরঞ্জাম ভাঙনমুক্ত এবং জোয়ারের সর্বোচ্চ জলস্তরের ঊর্ধ্বে নিরাপদ স্থানে পুনঃস্থাপনের ব্যবস্থা করা জরুরি।

এলাকাবাসী বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিডিও অফিস, পঞ্চায়েত ও স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত ফেরিঘাটগুলিতে দ্রুত সোলার আলোর ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা গেলে যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তিও রক্ষা করা সম্ভব হবে।

সরকারি অর্থে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো সংরক্ষণ এবং নদীপথে প্রতিদিন যাতায়াতকারী হাজার হাজার মানুষের স্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

পাথরপ্রতিমা থেকে কাকদ্বীপ ডট কম নিউজ টিম
Share To:
Next
This is the most recent post.
Previous
Older Post

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours