দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের যুবক সৌমেন মণ্ডল আবারও এক অসাধারণ ও দুঃসাহসিক অভিযানে নেমেছেন। বিশ্বশান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি স্কেটিং করেই অমরনাথ যাত্রা শুরু করেছেন। বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই দীর্ঘ সফরে তিনি কোনও যানবাহনের সাহায্য নিচ্ছেন না; সম্পূর্ণ পথই স্কেটিং করে অতিক্রম করার লক্ষ্য নিয়েছেন।
কাকদ্বীপ থেকে জম্মু ও কাশ্মীরের অমরনাথ গুহা পর্যন্ত সড়কপথে মোট দূরত্ব প্রায় ২,৩০০ থেকে ২,৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি। এই দীর্ঘ যাত্রাপথে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, হরিয়ানা, পাঞ্জাব এবং জম্মু ও কাশ্মীরের বিস্তীর্ণ এলাকা অতিক্রম করতে হবে।
এই অভিযানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু দূরত্ব নয়, বরং পথের বৈচিত্র্য। কাকদ্বীপ ও দক্ষিণবঙ্গের আর্দ্র ও গরম আবহাওয়া থেকে শুরু করে উত্তর ভারতের তীব্র গরম, ধুলোঝড়, বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চল এবং শেষপর্যন্ত হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলের ঠান্ডা আবহাওয়ার মুখোমুখি হতে হবে তাঁকে। এক যাত্রাতেই কয়েকটি ভিন্ন জলবায়ুর অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন সৌমেন।
পথের অবস্থাও সর্বত্র একরকম নয়। কোথাও জাতীয় সড়কের মসৃণ রাস্তা, কোথাও যানজটপূর্ণ শহুরে এলাকা, আবার কোথাও পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ ও খাড়া উতরাই-চড়াই। বিশেষ করে জম্মু থেকে শ্রীনগর এবং সেখান থেকে পাহেলগাম বা বালতাল পর্যন্ত অংশে পাহাড়ি রাস্তা, আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তন এবং উচ্চতা বৃদ্ধি তাঁর যাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলবে।
অমরনাথ গুহা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩,৮৮০ মিটার (১২,৭০০ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত। ফলে শেষ পর্যায়ে অক্সিজেনের ঘাটতি, নিম্ন তাপমাত্রা এবং দুর্গম পার্বত্য পথের মতো চ্যালেঞ্জও অপেক্ষা করছে তাঁর জন্য। যদিও স্কেটিং করে যতদূর সম্ভব এগিয়ে যাওয়া যাবে, তবুও অমরনাথ যাত্রার শেষ অংশে পাহাড়ি ট্রেকিং পথ অতিক্রম করতেই হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালেও বিশ্বশান্তির বার্তা নিয়ে স্কেটিং করে কেদারনাথ যাত্রা করেছিলেন সৌমেন মণ্ডল। সেই অভিযানের পর এবার আরও বড় লক্ষ্য নিয়ে অমরনাথের পথে পা বাড়িয়েছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ কেবল ক্রীড়া দক্ষতার পরিচয় নয়, বরং সমাজের প্রতি একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।
সৌমেনের এই ব্যতিক্রমী অভিযানে ইতিমধ্যেই কাকদ্বীপবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও গর্বের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিশ্বশান্তির বার্তা নিয়ে তাঁর এই দীর্ঘ যাত্রা সফল হোক, এমনটাই কামনা সকলের।


Post A Comment:
0 comments so far,add yours