আগে এই পাথর খাদানগুলি থেকে কেমন রাজস্ব আদায় হত, সেকথা জানিয়ে জগন্নাথ বলেন, "প্রশাসনের রেকর্ড বলছে, সরকার বদলাতেই এক মাস পর ৭ গুণ রাজস্ব আদায় বেড়েছে। এই পুলিশ, এই প্রশাসন সব আছে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক সদিচ্ছা বদলে যাওয়ার কারণে সব বদলে গেল।"

সোনার রাজহাঁস' অনুব্রতর জেলা, একাই সাত গুণ রাজস্ব দিচ্ছে বাংলাকে
কী বললেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়?

অনুব্রত মণ্ডলের জেলা। এতদিন রাজনৈতিক পরিসরে বীরভূম বললে অনুব্রত ওরফে কেষ্টর নামই সামনে আসত। তৃণমূলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা। আবার বালি, পাথর, গোরু পাচারেও নাম জড়িয়েছিল কেষ্টর। বালি, পাথার খাদানগুলিতে দুর্নীতির শিকড় কতটা গভীরে প্রবেশ করেছিল, সরকার বদল হতেই সেই তথ্য সামনে আসছে। পাথর খাদান থেকে কোটি কোটি টাকা ঢুকত তৃণমূলের পার্টি ফান্ডে। তথ্য তুলে ধরে এই অভিযোগ করলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা সিউড়ির বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানালেন, গত এক মাসে বীরভূমের ১০টি পাথরের চেক গেট থেকে রাজ্যের রাজস্ব আদায় হয়েছে ৭২ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা। সেখানে তার আগের মাসে রাজ্যের ঘরে ১০ কোটি টাকাও রাজস্ব ঢোকেনি।


কী বললেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়?



বুধবার সিউড়ি ১ নম্বর ব্লকে জনকল্যাণ শিবিরে এসেছিলেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। জনকল্যাণ শিবিরের বাইরে সাংবাদিকদের সামনে তথ্য তুলে ধরে জানান, তৃণমূল সরকারের আমলে কীভাবে পাথর খাদানগুলি থেকে দুর্নীতি হত। জগন্নাথ বলেন, “মে মাসের ১৭ তারিখ থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত বীরভূমের ১০টি পাথরের চেক গেট থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৭২ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা। ইদের জন্য কয়েকদিন কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। বৃষ্টি বাধা না হলে পরের মাসে এই রাজস্ব আদায় ১০০ কোটি হতে পারে।”


তিনি জানান, “পাথরে চেক গেটগুলি থেকে ডিমান্ড কালেকশন রেজিস্টার (DCR) আদায় করা হয়। গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেওয়ার পর বীরভূমের বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন, বীরভূমে যে পাথর, বালির সিন্ডিকেটরাজ চলে, তা শেষ করতে হবে। ডিসিআর সংগ্রহে দুর্নীতি হত। আমরা তা বরদাস্ত করব না বলে স্পষ্ট করে দিই। তারপরই রাজস্ব আদায় বাড়ে।”

আগে এই পাথর খাদানগুলি থেকে কেমন রাজস্ব আদায় হত, সেকথা জানিয়ে জগন্নাথ বলেন, “প্রশাসনের রেকর্ড বলছে, এপ্রিল মাসে পাথর খাদান থেকে রাজ্যের রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৯ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ সরকার বদলাতেই এক মাস পর ৭ গুণ রাজস্ব আদায় বেড়েছে। মার্চ মাসে আদায় ছিল ১৯ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারিতে আদায় হয়েছিল ২২ কোটি টাকা। আর জানুয়ারিতে আদায় হয়েছিল ২১ কোটি টাকা। এই পুলিশ, এই প্রশাসন সব আছে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক সদিচ্ছা বদলে যাওয়ার কারণে সব বদলে গেল।”

তৃণমূলকে নিশানা জগন্নাথের-

পাথর খাদানগুলিতে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে জগন্নাথ বলেন, “যখনই নির্বাচন এসেছে, তখনই আয় কমে গিয়েছিল। অর্থাৎ ঘুরপথে টাকা তোলা হয়েছে এবং তা তৃণমূলের পার্টি ফান্ডে পৌঁছে গিয়েছিল। ২০২০-২১ সালে মাসে গড় রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৯ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা। বুঝতেই পারছেন, একুশ সালে নির্বাচন ছিল, পুরো বছর বীরভূমে লুটেছে। ২০২১-২২ সালে মাসে গড় আয় ছিল ১০ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ সালে ছিল ২২ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচন ছিল, পাথরে রাজস্ব আদায় কম হয়ে দাঁড়াল ১২ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ সালে লোকসভা নির্বাচনের সময় গড় আদায় কমে হল ১১ কোটি টাকা। অর্থাৎ সরকারি রাজস্ব লুঠ করে পার্টির তহবিল ভর্তি করা হত। একমাসের মধ্যে আমরা এই ব্যবস্থার বদল এনেছি। এটাই পরিবর্তন। এটাই ডবল ইঞ্জিন সরকারের প্রভাব।” এখনও কিছু দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে বলে তিনি জানান। সেইসব বন্ধেও কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলে স্পষ্ট করে দেন।

এদিন, জগন্নাথ আরও বলেন, “আবাস যোজনায় উপভোক্তাদের সস্তায় বালি দেব। এটা জেলার কয়েকটা জায়গায় চালু হচ্ছে। চলতি বাজারের তুলনায় কম দামে বালি দেওয়া হবে। বীরভূমে এটা সফল হলে রাজ্যের অন্য জায়গায়ও আবাস যোজনায় উপভোক্তাদের কম দামে বালি দেওয়া হবে।”
Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours