অন্যদিকে, এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন দেখিয়ে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার কথা বলেন। বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু বিরোধী দলনেতা হিসাবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্বাচিত করেন। স্পিকারের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন শোভনদেব।
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, শোভনদেব নন, স্পষ্ট নির্দেশ হাইকোর্টের
কলকাতা হাইকোর্ট
পালা বদলের পর রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হিসাবে বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। অন্যদিকে, এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন দেখিয়ে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার কথা বলেন। বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু বিরোধী দলনেতা হিসাবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্বাচিত করেন। স্পিকারের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন শোভনদেব। গত দু’দিন বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে চলছিল সেই মামলার শুনানি। তবে কে হবেন বিরোধী দলনেতা সেই নির্দেশ স্থগিত ছিল। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের নির্দেশ, বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই।
আদালত জানিয়েছে, বিরোধী ব্লকের বিধায়কদের নির্বাচনে আপাতত কোনও হস্তক্ষেপ নয়। এ দিন, অন্তবর্তী কোনও নির্দেশ দিলেন না বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আবেদনে আপাতত হস্তক্ষেপ করেনি হাইকোর্ট। তবে, এই মামলার ফের শুনানি হবে ২৮ জুলাই। এ দিকে, আজই আবার রয়েছে বিধানসভায় বাজেট অধিবেশন। আর সেই অধিবেশন শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে এই নির্দেশ নিতান্তই তাৎপর্যপূর্ণ।
ঠিক কোন বিশেষ নথির জোর? শোভনদেব নন, ঋতব্রতর পক্ষেই গেল আদালতের রায়? স্পষ্ট করলেন সন্দীপন
বাংলা ধারাবাহিকে ফিরছেন সুস্মিতা? কোন ধারাবাহিকে দেখা যেতে পারে তাঁকে?
এর আগের শুনানিতে, অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসুর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি প্রশ্ন তুলেছিলেন, “ঘরে বসে স্পিকার কীভাবে জানলেন কোন পক্ষে লোক বেশি?” এরপর বুধবারও চলে এই মামলার সওয়াল-জবাব। কোর্টে গতকাল স্পিকারের আইনজীবী অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল তৃণমূলের পাঠানো চিঠিতে বিধায়ক দলের বৈঠকের কোনও উল্লেখ নেই। তাই স্পিকার বৈঠকের কার্যবিবরণী চেয়ে পাঠিয়েছিলেন। এরপর তৃণমূলকে বলা হয় বৈঠকের মিনিটস ও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তাবের কপি জমা দিতে। পরে কয়েকজন তৃণমূল বিধায়ক স্পিকারকে জানান, ওই প্রস্তাবে থাকা তাঁদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে স্পিকার তদন্তের নির্দেশ দেন। সন্দীপন সাহার একটি চিঠি স্পিকারের কাছে যায়। যেখানে দাবি করা হয় যে তাঁদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন রয়েছে এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
মামলার ব্যাকগ্রাউন্ড
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা এবং অন্যান্য পদাধিকারী নির্বাচনের জন্য অধ্যক্ষের কাছে একটি প্রস্তাব বা রেজোলিউশন জমা দেওয়া হয়। এই প্রস্তাবে বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, অসীমা পাত্র ও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপ-বিরোধী দলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে চিফ হুইপ করা হয়েছিল। পরে একদল বিধায়ক নিজেদের বিক্ষুব্ধ হিসেবে দাবি করে সোজা চলে যান স্পিকারের কাছে। তাঁদের প্রস্তাব অনুযায়ী বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত। আর সেই প্রস্তাবই মান্যতা পায় স্পিকারের কাছে। শুধু তাই নয়, কালীঘাট থেকে তৃণমূলের দেওয়া চিঠিতে অনেক বিধায়কের সই জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। তারপরই মামলার জল গড়ায় হাইকোর্ট পর্যন্ত।


Post A Comment:
0 comments so far,add yours