একসময় অধীরের তৃণমূলের বিরোধিতা কপালে চিন্তার ভাঁজ চওড়া করেছিল দিল্লির কংগ্রেসে নেতাদেরও। নরমে-গরমে লেখা হচ্ছিল কতরকম সমীকরণ। মমতা বিরোধী মুখ হিসাবে রাজ্যে একেবারে শীর্ষ তালিকায় উঠে এসেছিলেন বহরমপুরের ৬ বারের সাংসদ।


আমার পার্টিকে খতম করতে চেয়েছিল’, মমতার কংগ্রেসে আসার জল্পনা শুনে অধীর এ কী বলে ফেললেন?
কী বলছেন অধীর?


ভেঙে ছত্রখান হয়ে গিয়েছে তৃণমূল। পরিষদীয় দলের পর সংসদীয় দলেও ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে ঘাসফুল শিবির। ঝাঁকে ঝাঁকে ব্রিদোহ বিধায়ক থেকে সাংসদদের। এরইমধ্যে এবার খোদ মমতার কংগ্রেসের হাত ধরা নিয়ে জল্পনা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সনিয়া গান্ধীর তরফে। অন্যদিকে অভিষেককে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদকের পদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, রাত পোহালেই আগামীকালই কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল সমস্ত প্রদেশ সভাপতির নিয়ে একটি বৈঠক ডেকেছেন। কিন্তু গোটা বিষয়টি কীভাবে দেখছে প্রদেশ কংগ্রেস? কীভাবে দেখছেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী? 


কী বলছেন অধীর? 
একসময় অধীরের তৃণমূলের বিরোধিতা কপালে চিন্তার ভাঁজ চওড়া করেছিল দিল্লির কংগ্রেসে নেতাদেরও। নরমে-গরমে লেখা হচ্ছিল কতরকম সমীকরণ। মমতা বিরোধী মুখ হিসাবে রাজ্যে একেবারে শীর্ষ তালিকায় উঠে এসেছিলেন বহরমপুরের ৬ বারের সাংসদ। যদিও পরবর্তীতে অধীরের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির জায়গায় চলে আসেন শুভঙ্কর সরকার। সেই অধীর এখন বলছেন, “আমার সঙ্গে তৃণমূলের তো কোনও ব্যক্তিগত বিরোধিতা নেই। আমার সঙ্গে তৃণমূল নেতা, নেত্রী, তৃণমূল পার্টির কোনও ব্যক্তিগত বিরোধিতা কোনওদিন ছিল না। তৃণমূল আমার পার্টিকে খতম করতে চেয়েছে, আমি আমার পার্টিকে রক্ষা করতে চেয়েছি। মোকাবিলা করার চেষ্টা করেছি। এটা আমার রাজনৈতিক ধর্ম বলে মনে করেছি।” এরপরই মমতাকে খানিক খোঁচা দিয়েই তাঁর আরও সংযোজন, “এখন কে কার কাছে আসছে যাচ্ছে সেটা তাঁরা জানে। তবে এটা তো সত্যি যে মমতা ভোটে হেরেছে বলেই আসছে। আগে তো কোনওদিন আসেনি। বাকি কোথায় মার্জার হচ্ছে, ডিমার্জার হচ্ছে আমি জানি না। আমার পার্টি যদি কোনও সিদ্ধান্ত নেয় সেটা সকলকে জানাবে।”



কী বলছেন প্রদেশ সভাপতি? 
যদিও বর্তমান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার খানিক ইঙ্গিতপূর্ণভাবেই বলছেন, “রাজনীতি একটা সম্ভাবনাময় শিল্প। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব মেনে আমাদের দলে কেউ যদি আসেন যাঁর ধক থাকবে, দম থাকবে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ার জন্য। নিশ্চিতভাবে তাঁকে আমরা স্বাগত জানাব।” 


তবে মমতাকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি প্রবীন কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান। তাঁর সাফ কথা, “মমতার কোও কার্যকলাপের উপর কেউই বিশ্বাস করতে পারেন না। তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা ভারতের রাজনীতিতে তলানিতে ঠেকেছে। সবাই জানে, সনিয়া গান্ধীও জানে। তিনি এও বলেছিলেন মমতার থেকে বেশি ভরসা করা যায় বামেদের উপর।”    
Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours