পুরো পোস্টটিতে কুণাল ঘোষ একাধিকবার স্পষ্ট করিয়ে দিয়েছেন, তিনি ঋতব্রত নেতৃত্বাধীন নতুন ব্লকের সঙ্গে নেই। "ভোটের একমাসের মধ্যে যারা 'রহস্যজনক ব্যক্তিগত' স্বার্থে প্রতিপক্ষের পৃষ্ঠপোষকতায় মমতাদির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, আমি তাদের সমর্থন করি না। আমি মমতাদির সঙ্গেই আছি।"
বারবার একই ভুলের সঙ্গে নেই...', দল নিয়ে বড় কথা কুণাল ঘোষের, কীসের ইঙ্গিত
কুণাল ঘোষ
পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কুণাল ঘোষ নিজের অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট রেখেছেন। কালীঘাটের বৈঠক, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ধর্নামঞ্চ কিংবা বিধানসভায় স্পিকারের ঘরের সামনে বিক্ষোভ, কোনওটাই এড়াচ্ছেন না বেলেঘাটার বিধায়ক। সব কর্মসূচিতে কুণাল ঘোষের উপস্থিতি ১০০ শতাংশ। সেই কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) মুখে এবার ‘ভুলের’ কথা। শুক্রবার সাংগঠনিক পদ সাজিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। আর তার ঠিক পরের দিনই সামনে এল কুণাল ঘোষের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট।
‘বারবার একই ভুলের সঙ্গে নেই’
শনিবার নিজের ফেসবুক প্লাটফর্মে একটি পোস্ট করেছেন কুণাল ঘোষ। তিনি বলেছেন, ‘মমতাদির সঙ্গে আছি। কিন্তু বারবার একই ভুলের সঙ্গে নেই।’ তবে কি ২৪ ঘণ্টা আগে দলনেত্রী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাতে আপত্তি রয়েছেন কুণাল ঘোষের?
'ডানপন্থী হলেও মানুষের কাজ করলে ভালো', বিজেপিকে নিয়ে কী বললেন বুদ্ধজায়া?
উল্লেখ্য, দলের বিধায়ক বা নেতাদের একটা বড় অংশের সমালোচনার মুখে পড়েও শুক্রবার আবারও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদ দেওয়া হয়েছে। তবে এবার তাঁর সহযোগী হিসেবে কাজ করার জন্য যুগ্ম সম্পাদকের পদ দেওয়া হয়েছে দোলা সেন ও ডেরেক ও ব্রায়েনকে। পরাজয়ের পর অভিষেকের ভূমিকা নিয়ে যাঁরা দলের মধ্যে সমালোচনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম কুণাল ঘোষ। সে কথা প্রকাশ্যেও বলেছেন তিনি। ‘বারবার একই ভুল’ ওই পদের দিকেই ইঙ্গিত করছে?
ছাত্র-যুবরা যোগাযোগ করছেন কুণালের সঙ্গে!
আরও কিছু মত প্রকাশ করেছেন কুণাল। তিনি লিখেছেন, “দলের ভুলত্রুটি সংশোধনের বদলে বিভিন্ন স্তরে যদি ভুল চলতে থাকে, সেটা দেখেও চোখ বুজে থাকতে পারব না।” বেলেঘাটার বিধায়কের দাবি, বিপুল সংখ্যক কর্মীরা, ছাত্র-যুবরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। অনেক কিছু বলছেন। সেগুলি তিনি শুনছেন, শুনবেন, আলোচনায় বসবেন বলেও জানিয়েছেন কুণাল। শেষে লিখেছেন, ‘তার পরেরটা পরে দেখা যাবে।’
এই প্রসঙ্গে বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, যুবনেত্রী সায়নী ঘোষের কথা। কুণাল ছাত্র-যুবদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে উল্লেখ করেছেন। ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে শুক্রবার সায়নীকে ফের যুব তৃণমূলের সভানেত্রীর পদ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সায়নী ঘোষ, যাঁকে ভোটের পর একটি বৈঠক (সাংসদদের বৈঠক) বাদে আর তেমন কোনও কর্মসূচিতে দেখা যায়নি, মমতার ধর্নামঞ্চেও দেখা যায়নি। দিল্লিতে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, তৃণমূল সাংসদদের নিয়ে যে নতুন ব্লক গঠনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, সেখানে নাম লেখাতে পারেন সায়নী ঘোষ। তবে যাদবপুরের সাংসদের অবস্থান নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।
তবে পুরো পোস্টটিতে কুণাল ঘোষ একাধিকবার স্পষ্ট করিয়ে দিয়েছেন, তিনি ঋতব্রত নেতৃত্বাধীন নতুন ব্লকের সঙ্গে নেই। “ভোটের একমাসের মধ্যে যারা ‘রহস্যজনক ব্যক্তিগত’ স্বার্থে প্রতিপক্ষের পৃষ্ঠপোষকতায় মমতাদির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, আমি তাদের সমর্থন করি না। আমি মমতাদির সঙ্গেই আছি।”
এদিকে, শনিবারই নিজের ফেসবুকে একটি লাইভ ভিডিয়ো করেন প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, তাঁর সঙ্গেও জেলার একাধিক নেতা যোগাযোগ করেছেন। তাঁর মতে, বিধায়কদের সবার বৈঠক ডাকা হোক, সেই বৈঠকে যাঁকে বিধায়করা নেতা মানবেন, সেই হবে দলনেতা।


Post A Comment:
0 comments so far,add yours