সীমান্ত পারের অনুপ্রবেশে মদত থেকে শুরু করে পুলিশ ও প্রশাসনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার বিস্ফোরক অভিযোগ ঘিরে রাজ্যজুড়ে এখন জোর চাঞ্চল্য। গোটা বিষয়টির গভীরে গিয়ে তদন্তের দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। কী বলছেন প্রাক্তন গোয়েন্দা কর্তারা?


শুধু WBCS নয়, WBPS-এও কি পরিকল্পিত নিয়োগ দুর্নীতি? অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্তাদের বিস্ফোরক দাবিতে চাঞ্চল্য
প্রশাসনিক মহলেও চলছে চাপানউতোর


প্রশান্ত বর্মন বা শানু বক্সিদের নিয়ে চর্চা কম হচ্ছে না। কার্যত হাটে হাঁড়ি হাটে ভেঙে গিয়েছে। তদন্ত যেন এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। রাজনৈতিক মহলে তুমুল শোরগোল। এ নিয়ে চর্চার মাঝেই এবার অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্তাদের দাবি, শানু ও প্রশান্তদের মতো একদলকে যেমন সুপরিকল্পিতভাবে WBCS-এ নিয়োগ করা হয়েছিল, ঠিক একইভাবে আরও একদল ব্যক্তিকে WBPS-এও নিয়োগ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। নিজেদের আখের গোছাতেই পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে এই পরিকল্পিত নিয়োগগুলি ২০১৪ সাল থেকেই সামনে আসতে শুরু করে।  

গোয়েন্দা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত ডিএসপি বিশ্বজিৎ দাসের অভিযোগ, ২০১৪ সাল থেকে WBPS-এ এমন কিছু লোক আসতে শুরু করেন, যাঁদের কাজকর্ম দেখে, সামান্য ইংরেজিতে লেখা চিঠি পড়তে-বুঝতে না পারার বিষয় দেখে সন্দেহ জাগতে শুরু করেছিল। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছিল, এরা কীভাবে WBPS পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন? তাঁর অভিযোগ, এই ব্যক্তিদের একটা বড় অংশ প্রভাবশালীদের পরিচয় কাজে লাগিয়েই চাকরি পেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ সার্ভিসে (WBPS) কেন এমন পরিকল্পনা করে নিয়োগ? অবসরপ্রাপ্ত এই গোয়েন্দা কর্তার দাবি, অনুপ্রবেশকারীদের সাহায্য করতেই এই ছক কষা হয়ে থাকতে পারে।


কেন তৃণমূলের হয়ে প্রচার করেছিলেন, পরমব্রতর সরাসরি জবাব…
প্রাক্তন গোয়েন্দা কর্তা বিশ্বজিৎ দাস বলছেন, “আমি গোয়েন্দা বিভাগের ডিএসপি হিসেবে চাইলেই অনুপ্রবেশকারীদের খুব সহজে ভারতীয় নথিপত্র তৈরি করিয়ে দিতে পারি। এদেরও এই ধরনের বেআইনি কাজের জন্যই আনা হয়েছিল কি না, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”  

অন্যদিকে, আরও এক অবসরপ্রাপ্ত সিআইডি কর্তা গৌতম ঘোষালও প্রায় একই সুরে বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তাঁর মতে, এভাবে কাজ পাওয়া প্রশান্ত বা শানুদের কাজ যেমন আলাদা ছিল, তেমনি এই আনকোরা WBPS অফিসারদের কাজও নির্দিষ্ট করা ছিল। তিনি বলছেন, “প্রশাসনিক এবং পুলিশি ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ কুক্ষিগত করে অসাধু কারবার বাড়িয়ে তুলতেই পাবলিক সার্ভিস কমিশনকে ব্যবহার করে WBCS এবং WBPS-এ দুর্নীতি হয়েছিল। সীমান্ত পারের অনুপ্রবেশ থেকে শুরু করে সীমান্তের অবৈধ কারবারে মদত দেওয়ার পিছনে এদের কোনও বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা উচিত। নতুন সরকারের উচিত পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সমস্ত পরীক্ষাই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা।”  
Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours