ডায়মন্ড হারবার: বিধায়কের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে তাঁর পরিচিত ও সাধারণ মানুষের কাছে টাকা চাওয়ার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল ডায়মন্ড হারবারে। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক তথা ডায়মন্ড হারবার ক্রিমিনাল কোর্টের আইনজীবী দেবাংশু পাণ্ডার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে বলে অভিযোগ। 


তাঁর মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পাঠিয়ে টাকা চাওয়া, দেখা করার জন্য বলা এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসতেই তড়িঘড়ি থানায় পৌঁছে যান বিধায়ক। ডায়মন্ড হারবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।

বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি সাইবার অপরাধের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সাইবার ক্রাইম শাখার আধিকারিকরা গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। কীভাবে বিধায়কের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ অন্যের হাতে গেল, কারা ওই নম্বর ব্যবহার করে মেসেজ পাঠাচ্ছে এবং কতজন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, তা জানতে প্রযুক্তিগত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডার দাবি, গতকাল রাতে ডায়মন্ড হারবারের নায়াপাড়ার এক বাসিন্দা তাঁকে ফোন করে গোটা বিষয়টি জানান। ওই ব্যক্তি বিধায়ককে জানান, তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে একাধিকবার মেসেজ পাঠানো হয়েছে। শুধু মেসেজ পাঠানোই নয়, তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্যও বলা হয়। পাশাপাশি টাকা চাওয়া এবং হুমকি দেওয়ার মতো মেসেজও পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ।

বিষয়টি শুনে প্রথমে বিষয়টির সত্যতা যাচাই করেন বিধায়ক। এরপর আর দেরি না করে ডায়মন্ড হারবার থানায় যান তিনি। সেখানে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে পুলিশকে ঘটনার তদন্তের আবেদন জানান। একইসঙ্গে তাঁর নম্বর থেকে কোনও ধরনের সন্দেহজনক মেসেজ বা ফোন গেলে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আবেদন করেছেন তিনি।

দেবাংশু পাণ্ডা জানান, তাঁর নম্বর থেকে যদি কোনও ব্যক্তি ফোন করেন কিংবা হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠিয়ে টাকা চান, দেখা করতে বলেন অথবা কোনও ধরনের হুমকি দেন, তাহলে কেউ যেন সেই কথায় বিশ্বাস না করেন। এমন কোনও ঘটনা ঘটলে দ্রুত তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার আবেদন জানান বিধায়ক।

তাঁর দাবি, এর আগেও বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছিল। শুধু তাঁর অ্যাকাউন্ট নয়, বিজেপির একাধিক নেতা এবং দলের রাজ্য সভাপতির সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার ঘটনাও ঘটেছিল বলে দাবি তাঁর। এবার সেই সাইবার হামলার তালিকায় তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টও যুক্ত হল বলে অভিযোগ বিজেপি বিধায়কের।

একজন জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছে টাকা চাওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় ঘটনাটি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে পুলিশ। কারণ, হোয়াটসঅ্যাপের মতো জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে প্রতারণা চক্র সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। বিধায়কের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে কেউ আর্থিক প্রতারণার চেষ্টা করেছে কি না, সেই বিষয়টিও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রযুক্তিগত দিক থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বর, হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের কার্যকলাপ এবং সন্দেহজনক যোগাযোগের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হতে পারে। তদন্তের মাধ্যমে হ্যাকারদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
ঘটনার পিছনে কোনও ব্যক্তি নাকি সংগঠিত সাইবার অপরাধী চক্র রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিধায়ক। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

দেবাংশু পাণ্ডার বক্তব্য, তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন এবং পুলিশের তদন্তের উপর তাঁর আস্থা রয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

এদিকে বিধায়কের নাম করে টাকা চাওয়া বা হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় সাধারণ মানুষকেও সতর্ক করা হয়েছে। পরিচিত কোনও ব্যক্তির নম্বর থেকে টাকা চেয়ে মেসেজ এলেও সরাসরি টাকা না দিয়ে আগে ফোন করে বা অন্য কোনও মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এখন তদন্তে নজর, কীভাবে বিধায়কের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হল, কারা তাঁর পরিচয় ব্যবহার করে মেসেজ পাঠাল এবং এই ঘটনায় আরও কেউ প্রতারিত হয়েছেন কি না। সাইবার ক্রাইম শাখার তদন্তেই মিলতে পারে সেই সব প্রশ্নের উত্তর।
Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours