সান্তিনি জানান, তিনি ২০১৯-২০২২ পর্যন্ত এই গবেষণা করেন। ইতালিতে ককিয়েত্তিনি পদবির কোনও নথি খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর বিভিন্ন সরকারি নথি ও মেসির মায়ের আত্মীয়দের সাহায্যে তিনি এই ইতিহাস খুঁজে পান।


লিওনেল মেসি কি ব্রাজিলিয়ান? গবেষণায় প্রকাশিত হল চাঞ্চল্যকর তথ্য!
লিওনেল মেসি
লিওনেল মেসিকে আজীবন আর্জেন্টিনার জার্সিতে খেলতে দেখছেন ক্রীড়া সর্মথকরা। তবে আগামীতে যদি মেসিকে ভিনিসিয়াসদের সঙ্গে একই দেশের অর্থাৎ ব্রাজিলের জার্সিতে খেলতে দেখা যায়, তাহলে কেমন হয়? মানে, মেসি নাকি আর্জেন্টিনার নন। এমনি একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। একটি গবেষণার গবেষক এমন দাবি করেছেন।


ব্রাজিলীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতালীয় গবেষক ফিওরেঞ্জো সান্তিনি দীর্ঘদিনের গবেষণার পর জানিয়েছেন, লিওনেল মেসির একজনের জন্ম হয়েছিল ব্রাজিলের সাও পাওলোতে। পরে তাঁর পরিবার সেখান থেকে আর্জেন্টিনাতে চলে যায়। গবেষণায় জানানো হয়েছে, এই অভিবাসনের সময় মেসির পরিবারের পদবিতেও পরিবর্তন আসে। অর্থাৎ, ব্রাজিল থেকে আর্জেন্টিনায় বসতি স্থাপনের পথে তাঁদের পারিবারিক পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ বদল ঘটেছিল।


৩৯ মাস ধরে বিধবা ভাতা পাচ্ছেন জাহাঙ্গির আলম, অপেক্ষায় রোহেনা বিবি
সান্তিনি জানিয়েছেন, তিনি মেসির ‘মেসি’ পদবীর উৎস নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠে গবেষণা শুরু করেন। সেখানেই জানা গিয়েছে, ১৮৯৩ সালে মেসির বাবার প্রপিতামহ অ্যাঞ্জেলো মেসি ইতালির রেকানাতি শহর ছেড়ে স্ত্রীকে নিয়ে আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে চলে আসেন। অন্যদিকে, মেসির মায়ের দিকের প্রপিতামহ রানীকেই ককিয়েত্তিনি-র গল্প আরও আলাদা। তাঁর জন্ম ইতালির সান সেভেরিনো মার্কে অঞ্চলে। পরে স্ত্রী রোজা রিচেচাকে নিয়ে ‘ওয়াশিংটন’ নামের একটি জাহাজে চড়ে তিনি ব্রাজিলে পাড়ি দেন। ১৮৯৯ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁদের জাহাজ সান্তোস বন্দরে এসে পৌঁছায়।


ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, ব্রাজিলে আসার পরে তাঁদের পরিবারের নামের বানানে পরিবর্তন আসে। সেই সময় অধিবাসীদের মধ্যে এমন পরিবর্তন খুব সাধারণ ছিল। রানিয়েরি ককিয়েত্তিনির নাম বদলে হয়ে যায় রামিয়েরো কনকিয়েত্তিনি। সেই পরিবারে দুই সন্তান জন্মানোর পরে পরিবারটি আবার আর্জেন্টিনায় চলে যায় ব্রাজিল থেকে। এই পরিবারেই জন্মান আন্তোনিও কনকিয়েত্তিনি, যিনি সম্পর্কে মেসির দাদু। তাঁরই কন্যা সেলিয়া মারিয়া ককিয়েত্তিনি-র গর্ভে ১৯৮৭ সালের ২৪ জুন জন্ম নেন লিও মেসি।

সান্তিনি জানান, তিনি ২০১৯-২০২২ পর্যন্ত এই গবেষণা করেন। ইতালিতে ককিয়েত্তিনি পদবির কোনও নথি খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর বিভিন্ন সরকারি নথি ও মেসির মায়ের আত্মীয়দের সাহায্যে তিনি এই ইতিহাস খুঁজে পান। সান্তিনির দাবি, তাঁর এই গবেষণার ফলে ২০২২ সালে ইতালির সান সেভেরিনো মার্কে শহর মেসিকে তাঁর পারিবারিক স্বীকৃতি হিসেবে সাম্মানিক নাগরিকত্ব দিয়েছে। গবেষণায় আরও জানা গিয়েছে, ১৯০৫ সালে মেসির পরিবার ব্রাজিল ছাড়ার পরে মেসির কোনও আত্মীয় ব্রাজিলের রিবেরিও প্রেত শহরে থেকে গিয়েছিলেন, এমন কোনও প্রমাণ নেই।
Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours