১৯৬৭ সালে অবিভক্ত মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র অজয় মুখার্জি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। সেই মেদিনপুর থেকেই এবার বাংলার সিংহাসনে শুভেন্দু। মেদিনীপুরের মেঠোপথ থেকে উঠে আসা সেই ‘বুবাই’ জাতীয় রাজনীতির শিরোনামে।
মেদিনীপুর থেকে মহাকরণ, কতটা হাঁটলে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া যায়!
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র থেকে বঙ্গ রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু, শুভেন্দু অধিকারীর যাত্রাপথ যেন এক মহাকাব্যিক বৃত্ত সম্পূর্ণ করল। ব্রিগেডের জনজোয়ারের মাঝে দাঁড়িয়ে বাংলার নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথও নিয়ে ফেলেছেন। ১৯৭০ সালের ১৫ ডিসেম্বর কাঁথির করকুলিতে জন্ম। পরিবার থেকে পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধবদের কাছে ছোট থেকেই বুবাই নামে পরিচিত। বাবা বর্ষীয়ান নেতা শিশির অধিকারীর আদর্শে বড় হওয়া শুভেন্দুর শিক্ষা থেকে রাজনীতির হাতেখড়ি মেদিনীপুরেই। ১৯৮৭ সালে কাঁথি প্রভাত কুমার কলেজে কমার্সে ভর্তি হাওয়ার পরেই তাঁর ছাত্র রাজনীতির অভিষেক ঘটে। সেই সময়ে কলেজে কলেজে বাম ছাত্র সংগঠনের প্রবল দাপট। কিন্তু প্রবল বাম ঝড়ের মাঝে দাঁড়িয়েও লড়াকু শুভেন্দু দু-বার কলেজের জেনারেল সেক্রেটারি (GS) নির্বাচিত হন। রাজনীতির পাশাপাশি পড়াশোনাও পুরোদমে চালিয়ে গিয়েছেন। ভাল ছাত্র হিসাবে সুনাম ছিল। তাঁর প্রখর স্মৃতি শক্তির কথা এখনও ঘোরে বন্ধুদের মুখে মুখে। ২০১১ সালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাশ করেন।
গ্রামের বুবাই আজ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী
শুভেন্দুর উত্থানের দ্বিতীয় সোপান ছিল অবশ্যই পুরসভা ও সমবায় আন্দোলন। ১৯৯৫ সালে কাঁথি পুরসভার কাউন্সিলর হয়েই তাঁর সংসদীয় রাজনীতিতে হাতেখড়ি। এরপর কাঁথি কার্ড ব্যাঙ্ক ও কাঁথি কো-অপারেটিভ-সহ একাধিক সমবায় ব্যাঙ্কের শীর্ষ পদে থেকে জনভিত্তি মজবুত করেন তিনি। ২০০৯ সালে কিছুদিনের জন্য কাঁথি পুরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্বও সামলান শুভেন্দু। যদিও ২০০১ সালের বিধানসভা ভোটে মুগবেড়িয়া কেন্দ্রে তৎকালীন মৎস্যমন্ত্রী কিরণময় নন্দের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। কিন্তু সেই হার তাঁকে দমাতে পারেনি।
'প্রায় মা হতে চলেছিলাম...', অস্ত্রোপচারের আগে আচমকা পোস্ট অন্বেষার, অভিনেত্রীর সঙ্গে কী ঘটল?
২০০৬ সালে দক্ষিণ কাঁথি থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে তাঁর জয়যাত্রা শুরু হয়। ২০০৯ এবং ২০১৪ সালে তিনি তমলুক লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। তবে তাঁর রাজনীতির প্রধান ভরকেন্দ্র হয়ে ওঠে নন্দীগ্রাম। ২০১৬, ২০২১ এবং ২০২৬—টানা তিনবার তিনি নন্দীগ্রামের বিধায়ক নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালে তিনি কেবল নন্দীগ্রামেই নয়, কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রেও জয়লাভ করে নতুন ইতিহাস তৈরি করেন। বিশেষত, ২০২১ এবং ২০২৬ সালে পরপর দু’বার মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে যেভাবে তিনি পরাজিত করেছেন তাতে তিনি নিজের রাজনৈতিক উচ্চতাকে যে এক অন্য শিখরে নিয়ে গিয়েছেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
মেদিনীপুরের মেঠোপথ থেকে উঠে আসা সেই ‘বুবাই’ আজ কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে লিখে ফেলেছেন বাংলার নতুন অধ্যায়। শুভেন্দুর হাত ধরেই দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী পেল পূর্ব মেদিনীপুর। ১৯৬৭ সালে অবিভক্ত মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র অজয় মুখার্জি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। সেই মেদিনপুর থেকেই এবার বাংলার সিংহাসনে শুভেন্দু।


Post A Comment:
0 comments so far,add yours