সবথেকে চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, বিচ্ছেদের যন্ত্রণায় এই ঘুমের অভাব প্রভাব পড়েছিল তাঁর কাজেও। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, শুটিং চলাকালীন তিনি এতটাই ঘোরের মধ্যে থাকতেন যে প্রায়ই গুলিয়ে ফেলতেন সব কিছু। কল্কির বয়ানে, "আমি বুঝতেই পারতাম না যে আমি জেগে আছি নাকি স্বপ্নে অভিনয় করছি। একটা অদ্ভুত ঘোরের মধ্যে দিন কাটত।" পেশাদার জীবনে এই চরম অস্থিরতা তাঁকে প্রায় খাদের কিনারায় নিয়ে গিয়েছিল।
বলিউডে সম্পর্কের ভাঙাগড়া নতুন কোনও গল্প নয়। কিন্তু বিচ্ছেদের যন্ত্রণা যখন শারীরিক অসুস্থতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন সেই লড়াইটা বড্ড কঠিন হয়ে পড়ে। ঠিক যেমনটা হয়েছে অভিনেত্রী কল্কি কোয়েচলিনের সঙ্গে। সম্প্রতি এক পডকাস্টে নিজের জীবনের এক অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে এমন কিছু কথা ফাঁস করেছেন তিনি, যা শুনে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে টিনসেল টাউনে। কল্কি জানিয়েছেন, মন ভাঙার পর টানা চার মাস কার্যত দু’চোখের পাতা এক করতে পারেননি তিনি।
সম্পর্ক ভাঙার পর কেন মানুষ ইনসোমনিয়ার শিকার হন, তা নিজের জীবন দিয়ে টের পেয়েছেন কল্কি। তাঁর কথায়, “বিচ্ছেদের পর আমি দিনের পর দিন ঘুমোতে পারতাম না। রাত ২টো বা ৩টে বাজলেই ধড়ফড় করে ঘুম ভেঙে যেত। এরপর আর কোনও উপায় না পেয়ে মাঝরাতেই গিটার নিয়ে বসে পড়তাম।” নিজেকে ভুলিয়ে রাখতে কখনও গান লিখতেন, কখনও বা অন্য কিছুতে ব্যস্ত রাখতেন। মানসিকভাবে বিধ্বস্ত থাকলে শরীর যে ঠিক কতটা বিগড়ে যেতে পারে, কল্কির এই স্বীকারোক্তি তারই বড় প্রমাণ।
সবথেকে চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, বিচ্ছেদের যন্ত্রণায় এই ঘুমের অভাব প্রভাব পড়েছিল তাঁর কাজেও। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, শুটিং চলাকালীন তিনি এতটাই ঘোরের মধ্যে থাকতেন যে প্রায়ই গুলিয়ে ফেলতেন সব কিছু। কল্কির বয়ানে, “আমি বুঝতেই পারতাম না যে আমি জেগে আছি নাকি স্বপ্নে অভিনয় করছি। একটা অদ্ভুত ঘোরের মধ্যে দিন কাটত।” পেশাদার জীবনে এই চরম অস্থিরতা তাঁকে প্রায় খাদের কিনারায় নিয়ে গিয়েছিল।
কল্কি যদিও এই মন ভাঙার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তির নাম মুখে আনেননি, তবে নেটিজেনদের বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে ইঙ্গিত কার দিকে। পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপের সঙ্গে তাঁর প্রেম এবং পরবর্তীতে বিয়ে একসময় চর্চার তুঙ্গে ছিল। ২০১১ সালে বিয়ে হলেও সেই সম্পর্ক টেকে মাত্র দু’বছর। ২০১৫-তে পাকাপাকিভাবে ডিভোর্স হয় তাঁদের। কল্কির এই ‘চার মাসের নারকীয় অভিজ্ঞতা’ কি তবে অনুরাগের সঙ্গ ছাড়ার ঠিক পরের ঘটনা? জল্পনা উসকে দিয়েছেন অভিনেত্রী নিজেই। বর্তমানে অবশ্য জল অনেক দূর গড়িয়েছে। কল্কি এখন অন্য কারোর সঙ্গে ঘর বাঁধলেও অনুরাগের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব আজও অটুট। কিন্তু পুরনো সেই ক্ষত যে এখনও পুরোপুরি শুকোয়নি, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট।


Post A Comment:
0 comments so far,add yours