মথুরাপুর: সোমবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি থেকে রাজ্য বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’র সূচনা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষার প্রতিমন্ত্রী ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব সহ রাজ্যের বিভিন্ন সাংগঠনিক জেলার নেতারা ও বহু কর্মী-সমর্থক।


উদ্বোধনের আগে সমাজমাধ্যমে বাংলায় পোস্ট করে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানান অমিত শাহ। তিনি লেখেন, তৃণমূলের কুশাসনে বাংলার মানুষ পরিবর্তন চাইছে। সেই জনমতকে শক্তিশালী করতেই বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’। এই যাত্রার মাধ্যমে রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে ‘অনুপ্রবেশমুক্ত বাংলা’র অঙ্গীকার পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সভামঞ্চ থেকে একের পর এক ইস্যুতে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেন শাহ। যুব সমাজের উদ্দেশে তিনি ঘোষণা করেন, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হলে চাকরির ক্ষেত্রে বয়সসীমায় পাঁচ বছরের ছাড় দেওয়া হবে। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বহু যোগ্য প্রার্থী বঞ্চিত হয়েছেন। বিজেপি সরকার এলে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
এদিন পরিবারতন্ত্র ইস্যুতেও সরব হন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, সারা দেশে পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি চলছে এবং পশ্চিমবঙ্গেও সেই প্রবণতা স্পষ্ট। তিনি দাবি করেন, রাজ্যে শাসকদল ভবিষ্যতে নেতৃত্ব এক নির্দিষ্ট পরিবারের হাতেই তুলে দিতে চায়। “আপনারা কি ভাইপোর শাসন চান?”—সভামঞ্চ থেকে এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন তিনি। পাশাপাশি রাজ্যে দুর্নীতি বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন।
ধর্মীয় মেরুকরণ প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন অমিত শাহ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাংলায় কি বাবরি মসজিদ হওয়া উচিত? তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে চক্রান্ত করা হচ্ছে এবং রাজ্য সরকার তা মদত দিচ্ছে। তবে এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
রাজ্যের উন্নয়ন নিয়েও তৃণমূল সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করেন শাহ। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেস ও সিপিএম আমলে উন্নয়ন হয়নি, আর তৃণমূল সরকার সেই পরিস্থিতিকে আরও তলানিতে নিয়ে গিয়েছে। একমাত্র বিজেপিই ‘সোনার বাংলা’ গড়তে সক্ষম বলে দাবি করেন তিনি।
অমিত শাহ বলেন, রাজ্যের ন’টি জায়গা থেকে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু হচ্ছে। তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরাতে আরও একবার ধাক্কা দিতে হবে। যদিও তিনি স্পষ্ট করেন, “মুখ্যমন্ত্রী বদলাতে আমরা আসিনি, পরিবর্তন আনবে বাংলার মানুষই।” পাশাপাশি অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে বিদায় করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
সব মিলিয়ে রায়দিঘির সভা থেকে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করে তুললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours