সুন্দরবনের একজন মৎস্যজীবী থেকে স্বশিক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক বিশ্বজিৎ সাহু, যিনি নিজের চেষ্টায় সুন্দরবনে গড়ে তুলেছেন মিউজিয়াম
সুন্দরবনের ইতিহাস কে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতে মৎস্যজীবীর হাতে তৈরি সুন্দরবন প্রত্ন-সংগ্রহশালা। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার পাথরপ্রতিমা ব্লকের গোবর্ধনপুর এলাকার বিশ্বজিৎ সাহু সুন্দরবনের একজন স্বশিক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক এবং সংগ্রাহক হিসেবে পরিচিত। যিনি গত ৩৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে সুন্দরবনের মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা হাজার বছরের ইতিহাসকে এক হাতে আগলে রেখেছেন। পেশায় একজন মৎস্যজীবী হলেও, তার নেশা সুন্দরবনের প্রত্নতাত্ত্বিক। তিনি সুন্দরবনের ঐতিহাসিক সম্পদ রক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার দিগম্বরপুরে 'সুন্দরবন প্রত্ন-সংগ্রহশালা' নামে একটি ব্যক্তিগত সংগ্রহশালাও তৈরি করেছেন। দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে তাঁর সংগ্রহে রয়েছে ১০,০০০-এর বেশি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মৌর্য, কুষাণ ও শুঙ্গ যুগের পোড়ামাটির ফলক, প্রাচীন স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা, কড়ি, পুঁতি এবং নানা প্রাচীন সিলমোহর রয়েছে। এগুলো প্রমাণ করে যে একসময় সুন্দরবন অঞ্চলে এক উন্নত ও সমৃদ্ধ নগর সভ্যতা ছিল। তাঁর এই সংগ্রহগুলি সুন্দরবনের প্রাচীন ইতিহাস এবং সভ্যতার আলোকপাত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যা অনেক গবেষক ও প্রত্নতাত্ত্বিকদের আকৃষ্ট করেছে।
অনেক গবেষক ও প্রত্নতাত্ত্বিক সুন্দরবনের আদি ইতিহাস জানতে তাঁর কাছে ছুটে আসেন। ২০১৬ সালে ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ তাঁকে তাঁর এই অসামান্য কাজের জন্য শংসাপত্র প্রদান করে। দেশ-বিদেশের অনেক গবেষক ও পর্যটক তাঁর এই সংগ্রহশালাটি দেখতে পাথরপ্রতিমায় আসেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে একবার কলকাতা যাওয়ার সময় তিনি ভারতীয় জাদুঘর দেখে উদ্বুদ্ধ হন এবং সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরার সময় পাওয়া বিভিন্ন বস্তুকে সংগ্রহ করা শুরু করেন সেই থেকেই শুরু তার এই কাজ। আর আজ দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে সংগ্রহ করে চলেছেন এখনও। তবে বিশ্বজিৎ বাবু জানান তিনি কখনও কোনো সরকারি সুযোগ সুবিধা পাননি। সরকারি অনুদান ছাড়াই নিজের প্রচেষ্টায় তিনি এটি চালাচ্ছেন। এবং বর্তমানে নদী ভাঙন এবং সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধির ফলে এই অমূল্য প্রত্নবস্তুগুলি তলিয়ে যাওয়ার ভয়ে তিনি সেগুলো সরকারিভাবে সংরক্ষণের আবেদন জানিয়ে আসছেন।
মুন্না সর্দারের ষ্টাফ রিপোর্টর


Post A Comment:
0 comments so far,add yours