উদয়পুরের বিলাসিতার কথা বলতে গেলে প্রথমেই আসে এখানকার হোটেল বা প্যালেসগুলোর ভাড়ার কথা। বিজয়-রশ্মিকার বিয়ের ভেন্যু ‘মোমেন্টোস বাই আইটিসি হোটেলস’-এর এক এক রাতের ঘর ভাড়া শুরুই হয় ১.৫২ লক্ষ টাকা থেকে! এর আগে পরিণীতি চোপড়া বা রাঘব চাড্ডার বিয়ের সময় ‘দ্য লীলা প্যালেস’-এর ভাড়াও ছিল আকাশচুম্বী। বিলাসিতার এই দাম দিতে পিছপা হন না তারকারা, কারণ বিয়ের দিন রাজকীয় অভিজ্ঞতাই এখন চাইছেন বেশিরভাগ তারকা।
উদয়পুরের রাজকীয়ভাবে কারা কারা সাতপাক ঘুরেছেন?
উদয়পুরকে ডেস্টিনেশন ওয়েডিং করতে প্রথম দেখা যায় রবীনা ট্যান্ডনকে। ২০০৪ সালে জগ মন্দির প্যালেসে অনিল থাদানির সঙ্গে তাঁর বিয়ে ছিল সেই সময়ের সবথেকে আলোচিত বিষয়। ১০০ বছরের পুরনো ডোলিতে চড়ে রবীনার সেই এন্ট্রি আজও এক মাইলফলক।
এরপর একে একে এই তালিকায় নাম লিখিয়েছেন অনেকে:
পরিণীতি চোপড়া ও রাঘব চাড্ডা: ২০২৪ সালে আম আদমি পার্টির নেতা রাঘব আর বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতির বিয়ে হয় লেক পিচোলার ধারের ‘দ্য লীলা প্যালেস’-এ। নৌকায় চড়ে বরযাত্রী আসার সেই দৃশ্য ছিল পুরো সিনেমার মতো।
অন্যান্য হেভিওয়েট: এছাড়াও সঞ্জয় হিন্দুজা, শ্রিয়া সরণ এবং রজত টোকাসের মতো তারকারাও তাঁদের জীবনের নতুন ইনিংস শুরু করতে বেছে নিয়েছিলেন এই মায়াবী শহরকেই।
কেন বার বার উদয়পুরকেই বেছে নিচ্ছেন তারকারা?
উদয়পুরের প্রাসাদগুলো শহরের মূল ভিড় থেকে বিচ্ছিন্ন। লেকের মাঝখানে বা পাহাড়ের খাঁজে অবস্থিত হওয়ার কারণে বাইরের মানুষের প্রবেশ প্রায় অসম্ভব। এই নিরাপত্তাই চাইছেন বহু তারকা।
এখানকার মার্বেল প্যালেসগুলোতে আলাদা করে কোনো সেট বানানোর প্রয়োজন পড়ে না। রাজস্থানি আতিথেয়তা, লোকগীতি আর মশাল জ্বালানো রাতের পরিবেশ এমনিতেই এক রূপকথার জগত তৈরি করে।
মেহেন্দি থেকে শুরু করে সঙ্গীত আর মূল বিয়ে এখানের বড় বড় হোটেলগুলোতে সব অনুষ্ঠানের জন্য আলাদা আলাদা ঐতিহ্যবাহী কর্নার রয়েছে। ফলে অতিথিদের যাতায়াতের ঝামেলা পোহাতে হয় না।
তথ্য বলছে, উদয়পুরের এই ‘ওয়েডিং ইন্ডাস্ট্রি’ এখন বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ব্যবসা ছাড়িয়ে গিয়েছে। বিজয় আর রশ্মিকা সেই দীর্ঘ তালিকায় নতুন নাম। আজ সবার নজর তাঁদের বিয়ের দিকেই।


Post A Comment:
0 comments so far,add yours