WEATHER

Top News


​ভোটের শেষ মুহূর্তে রণক্ষেত্র হয়ে উঠল সাগরের ধবলাট শিবপুর এলাকা। ভোট দিতে যাওয়ার পথে এক বিজেপি কর্মীকে মারধর করার অভিযোগ উঠল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। আহত কর্মীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ​স্থানীয় সূত্রে খবর, ১৬৫ নম্বর বুথের শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা বিপ্লব মণ্ডল পেশায় বিজেপি কর্মী। 


অভিযোগ, ভোটের সময় শেষ হওয়ার ঠিক কিছুক্ষণ আগে তিনি নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে বুথের দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময় তৃণমূল আশ্রিত কিছু দুষ্কৃতী বিপ্লববাবুর পথ আটকায়।​তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁকে জোরপূর্বক তৃণমূল কংগ্রেসে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। ​বিপ্লব মণ্ডল তাতে রাজি না হওয়ায় শুরু হয় তীব্র কথা কাটাকাটি। ​বিতর্ক চলাকালীন উক্ত দুষ্কৃতীরা বিপ্লব মণ্ডলের ওপর চড়াও হয় এবং তাঁকে ব্যাপক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।


 ​আহত বিজেপি কর্মীকে উদ্ধার করে দ্রুত সাগর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই এই মারধরের ঘটনায় গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানায় তৃণমূল আশ্রিত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে এই বিষয়ে তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

 ডোমজুড়ে আবার ইভিএম বিকল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় শয়ে শয়ে ভোটার। হাওড়ার ডোমজুড় বিধানসভা কেন্দ্রের ডাঁসপাড়া এলাকার কনভার্টে জুনিয়র বেসিক স্কুলের ৫৬ নম্বর বুথে যান্ত্রিক গোলযোগের জেরে ভোট প্রক্রিয়া দীর্ঘক্ষণ থমকে যায়। ঘটনার সূত্রপাত দুপুর ৩টে নাগাদ।


বর্ধমান ও হাওড়া: সর্বকালের সেরা রেকর্ড তৈরি হয়েছিল প্রথম দফায়। দ্বিতীয় দফাতেও যেন ভোটের জোয়ার অব্যাহত। ফের আরও এক রেকর্ড। যার ফলে, স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ ভোটদানের নজির গড়ে ফেলল বাংলা। বিকেল ৫টার মধ্যে ছাপিয়ে গিয়েছিল ৯০ শতাংশের গণ্ডি। সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৯১.৬৬ শতাংশ। যদিও সন্ধ্যাতেও ভোটদানের জন্য লম্বা লাইন দেখা গেল একাধিক জায়গায়। বর্ধমান দক্ষিণেই তো সন্ধ্যা নামলেও ফুরোয়নি লাইন, সঙ্গী আবার ঝড়-বৃষ্টি। বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বাণীপীঠ বালিকা বিদ্যালয়ের ২৯৮ ও ২৯৯ নম্বর বুথে ধরা পড়ল সেই ছবি। 

ঘড়ির কাঁটায় সন্ধ্যা ৭টা বেজে গেলেও কয়েক’শ ভোটার তখনও লাইনে দাঁড়িয়ে। এরই মধ্যে কালবৈশাখীর ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অনেকেই আবার ক্ষোভ উগরে দেন। ভোটারদের অভিযোগ, ভোটগ্রহণের গতি অত্যন্ত ধীর। তাঁরা বলছেন, এক একজন ভোটারকে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। তারপরেই মিলছে ভোটদানের সুযোগ। 



অন্যদিকে ডোমজুড়ে আবার ইভিএম বিকল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় শয়ে শয়ে ভোটার। হাওড়ার ডোমজুড় বিধানসভা কেন্দ্রের ডাঁসপাড়া এলাকার কনভার্টে জুনিয়র বেসিক স্কুলের ৫৬ নম্বর বুথে যান্ত্রিক গোলযোগের জেরে ভোট প্রক্রিয়া দীর্ঘক্ষণ থমকে যায়। ঘটনার সূত্রপাত দুপুর ৩টে নাগাদ। ওই সময় আচমকাই বুথের ইভিএমটি বিকল হয়ে যায় বলে খবর। শুরু হয় ভোগান্তি। নতুন ইভিএম এসে পৌঁছাতে বেশ খানিকটা সময় লেগে যায়। সন্ধ্যা নামলেও বুথের বাইরে দেখা যায় কয়েক’শ মানুষের লম্বা লাইন। ভোটারদের অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ মেশিন বন্ধ থাকায় লাইনের দৈর্ঘ্য বাড়তেই থাকল। কেউ দু’ঘণ্টা, কেউ বা তারও বেশি সময় ধরে ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় থাকলেন।

 প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার মধ্যরাতে ঝড়-বৃষ্টি-বজ্রপাতের জেরে কয়েকটি ক্যামেরা সাময়িকভাবে বিকল হয়ে যায়। তবে তৃণমূলের দাবি, ওই সময় কোনও ফুটেজ রেকর্ড না হওয়া অত্যন্ত সন্দেহজনক।


 স্ট্রং রুমে চার বিধানসভার EVM, মধ্যরাতে আচমকা বন্ধ সিসিটিভি! জোর শোরগোল
চাপানউতোর রাজনৈতিক আঙিনায়


 বালুরঘাট কলেজের স্ট্রং রুমে মধ্যরাতে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ হয়ে যাওয়াকে ঘিরে বিতর্ক। অভিযোগ, গতকাল রাত ৩টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত বালুরঘাট বিধানসভার স্ট্রং রুমের সামনের ক্যামেরাগুলি কাজ করেনি। এই ঘটনায় ইতিমধ্য়েই তৃণমূল কংগ্রেস জেলা শাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে। বুধবার বিকেলে বালুরঘাটের তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষের ইলেকশন এজেন্ট দেবাশীষ কর্মকার জেলা শাসক ও বালুরঘাটের রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগ পেয়ে সন্ধ্যায় বালুরঘাট কলেজের স্ট্রং রুম পরিদর্শন করেন জেলা শাসক বালা সুব্রমানিয়ান টি সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। খতিয়ে দেখেন সিসিটিভি ক্যামেরা।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার মধ্যরাতে ঝড়-বৃষ্টি-বজ্রপাতের জেরে কয়েকটি ক্যামেরা সাময়িকভাবে বিকল হয়ে যায়। তবে তৃণমূলের দাবি, ওই সময় কোনও ফুটেজ রেকর্ড না হওয়া অত্যন্ত সন্দেহজনক। এর পেছনে ষড়যন্ত্রেরও গন্ধ পাচ্ছে তারা। প্রায় ৪ ঘন্টা ক্যামেরা বন্ধ ছিল। যা নিয়েই প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল-কংগ্রেস। 



এদিকে বালুরঘাট কলেজে বালুরঘাট, তপন, কুমারগঞ্জ ও গঙ্গারামপুর এই চার বিধানসভার স্ট্রং রুম রয়েছে। সেখানেই চার বিধানসভার ইভিএম সংরক্ষিত রয়েছে। স্ট্রং রুমের সামনেই রয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। কলেজের মূল গেটের পাশেই রয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরার মনিটর। যেখানে রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা নজরদারি চালাচ্ছেন। স্ট্রং রুমে কড়া নিরাপত্তা ও ২৪ ঘণ্টা নজরদারির ব্যবস্থা থাকলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। 

যদিও জেলা প্রশাসনের বক্তব্য ভিন্ন। এনিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা শাসক ও জেলা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বালা সুব্রমানিয়ান টি বলেন, রাতে প্রবল বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হয়েছিল। বাজ পড়ে ২-৩টি সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ হওয়ায় সাময়িকভাবে সমস্যা দেখা দেয়। পরে দ্রুত সেই ক্যামেরাগুলি বদলে ফেলা হয়েছে। এখন সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে। 

CEO মনোজ আগরওয়াল বলেন, "যেখানে যেখানে টেপ পাওয়া গিয়েছে, ওয়েব কাস্টিংয়ে দেখেছি, যা অবজারভার রিপোর্ট এসেছে, ওখান জিরো টলারেন্সে পদক্ষেপ করা হবে। আমরা আগাম বললাম, এই জায়গা ছাড়াও যেখানে যেখানে পাওয়া যাবে রিপোল হবে।" যেখানে আতর পাওয়া গিয়েছে, সেখানেও রিপোল হবে। 

দরকার হলে গোটা বিধানসভা জুড়ে হবে...', কোথায় কোথায় রিপোল হবে, জানালেন CEO


ফলতায় একাধিক বুথে EVM কারচুপির অভিযোগে কড়া কমিশন। CEO মনোজ আগরওয়াল বলেন, দরকার হলে গোটা ফলতা বিধানসভাতেই রিপোল হবে। অবজারভারদের রিপোর্ট খতিয়ে দেখছে কমিশন। বহু বুথে অনিয়মের অভিযোগ এলে, গোটা বিধানসভাতেই রিপোল হবে বলে জানিয়েছেন CEO।

CEO মনোজ আগরওয়াল বলেন, “যেখানে যেখানে টেপ পাওয়া গিয়েছে, ওয়েব কাস্টিংয়ে দেখেছি, যা অবজারভার রিপোর্ট এসেছে, ওখান জিরো টলারেন্সে পদক্ষেপ করা হবে। আমরা আগাম বললাম, এই জায়গা ছাড়াও যেখানে যেখানে পাওয়া যাবে রিপোল হবে।” যেখানে আতর পাওয়া গিয়েছে, সেখানেও রিপোল হবে।


৬০ বছর ধরে ভোট দিচ্ছি, তবে এবার খুব দুঃখের ভোট',কেন বললেন রঞ্জিত মল্লিক, কী অভিজ্ঞতা হল?
20 सुंदर जगहें जहाँ ज़िंदगी में एक बार जाना चाहिए
জানা যাচ্ছে, ফলতার ২৫২, ২৩৫,২২৬, ১৮৬, ২৪১ বুথে আতর লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে রিপোর্ট চেয়েছেন কমিশন। CEO জানিয়েছেন, ডিটেল রিপোর্ট এলে সত্যি প্রমাণিত হলে রিপোল হবে। মগরাহাট থেকেও একই অভিযোগ উঠেছে। কমিশন সূত্রে খবর, রিপোল হলে আগামিকাল বা পরশু।

উল্লেখ্য, সকালে মোটামুটি শান্তিপূর্ণ থাকলেও বেলা ১০টা পর থেকে ফলতার একাধিক বুক থেকে অশান্তির খবর আসতে শুরু করে। তার মধ্যে কয়েকটি বুথে EVM-এ টেপ লাগিয়ে রাখারও অভিযোগ ওঠে। কয়েকটি ক্ষেত্রে বিক্ষোভ সামাল দিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে লাঠিচার্জও করতেও দেখা যায়। সেবিষয়ে CEO বলেন, “লাঠিচার্জ হবে না তো কী হবে? সেন্ট্রাল ফোর্স যেখানে চাইবে, সেখানেই লাঠিচার্জ হবে। EVM এ যা ভোট পড়েছে, সেগুলি কিছু করা যাবে না। তাই রিপোল হবে।”

ছাব্বিশের নির্বাচনে সবচেয়ে হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুর। এই কেন্দ্রে একদিকে তৃণমূলের প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর বিজেপি প্রার্থী করেছে বিধানসভার বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুকে। সারা দেশের নজর রয়েছে এই কেন্দ্রের দিকে।

সবাই অবাক, ভবানীপুরে তৃণমূলের ক্যাম্প অফিসে শুভেন্দু অধিকারী, খেলেন ঠান্ডা পানীয়
ভবানীপুরে তৃণমূলের ক্যাম্পে শুভেন্দু অধিকারী


ভোটের দিনে ভবানীপুরে বড় চমক। তৃণমূলের ক্যাম্পে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার বুথে বুথে ঘোরার সময় আচমকা তৃণমূলের একটি ক্যাম্প অফিসে ঢুকে পড়েন বিজেপি প্রার্থী। তৃণমূলের কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে হেসে কথা বলেন। তাঁদের সঙ্গে হাত মেলান। সেই সময় তৃণমূলের এক কর্মী শুভেন্দুর দিকে ঠান্ডা পানীয় এগিয়ে দেন। সেই ঠান্ডা পানীয় খেয়ে হাসিমুখে তৃণমূলের ক্যাম্প অফিস থেকে বেরিয়ে যান ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী।

ছাব্বিশের নির্বাচনে সবচেয়ে হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুর। এই কেন্দ্রে একদিকে তৃণমূলের প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর বিজেপি প্রার্থী করেছে বিধানসভার বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুকে। সারা দেশের নজর রয়েছে এই কেন্দ্রের দিকে।



এদিন সকাল থেকে ভবানীপুরের বুথে বুথে ঘুরছেন শুভেন্দু। বুথে বুথে ঘোরার সময় কালীঘাট চত্বরে তাঁকে ঘিরে ধরেছিলেন তৃণমূলের মহিলা কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। ওঠে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। সেইসময় ফোনে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ডাকেন বিজেপি প্রার্থী। সঙ্গে সঙ্গে পৌঁছয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। শুভেন্দুর অভিযোগ, এলাকায় বহিরাগত ঢুকিয়েছে তৃণমূল।

একদিকে যখন কালীঘাট চত্বরে শুভেন্দুকে ঘিরে বিক্ষোভের ছবি দেখা গিয়েছিল, অন্য জায়গায় দেখা গেল তৃণমূলের ক্যাম্প অফিসে বিজেপি প্রার্থীকে। রাস্তার ধারেই তৃণমূলের ক্যাম্প অফিসে বসেছিলেন ঘাসফুল শিবিরের কর্মীরা। রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন শুভেন্দু। তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের দেখে শাসকদলের ক্যাম্প অফিসের দিকে এগিয়ে যান বিজেপি প্রার্থী। প্রথমে কিছুটা হতচকিত হয়ে যান তৃণমূল কর্মীরা। পরে তাঁরাও শুভেন্দুর সঙ্গে হেসে কথা বলেন। বিজেপি প্রার্থী তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে হাত মেলান। এক মহিলা তৃণমূল কর্মীকে শুভেন্দু বলেন, “একসঙ্গে থাকা দরকার।” ওই মহিলা তৃণমূল কর্মী বলেন, “অবশ্যই।” এক তৃণমূল কর্মী একটি বোতলের ঠান্ডা পানীয় শুভেন্দুর দিকে এগিয়ে দেন। হাসিমুখে ঠান্ডা পানীয় খেয়ে তৃণমূলের ক্যাম্প থেকে আবার এগিয়ে যান শুভেন্দু।

রিপোর্টে মূলত বেশ কয়েকটি বিশেষ ইস্যুকে তৃণমূলের জয়ের অন্যতম কারিগর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাঙালিদের 'বাংলাদেশি' তকমা দেওয়ার যে চেষ্টা চালানো হয়েছিল, ভোটাররা ব্যালট বাক্সে তার যোগ্য জবাব দিয়েছেন বলে মনে করছে দল।


ভোটদানের হারে সর্বকালের সেরা ভোট দেখল বাংলা। সেরা ভোট দেখল দেশ। তৃণমূল থেকে বিজেপি, জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী যুযুধান দুই শিবিরই। এবার দ্বিতীয় দফা শেষ হতে না হতেই সামনে এসে গেল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট। সূত্রের খবর, তাঁদের তরফে যে পর্যালোচনা রিপোর্ট তৈরি হয়েছে, তাতে ঘাসফুল শিবিরের বিপুল জয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সোজা কথায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুকে হাতিয়ার করে ঘাসফুল শিবির পুরো দস্তুর আত্মবিশ্বাসী। অর্থাৎ ফের তারা বড় ব্যবধানে ক্ষমতায় ফিরছে।

কী বলছে রিপোর্ট? 
তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট বলছে, দল এই নির্বাচনে ২৩০টি আসন পেতে চলেছে। এছাড়াও আরও বেশ কিছু বড় দাবি করা হয়েছে। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর, উভয় কেন্দ্রেই শুভেন্দু অধিকারীর পরাজয় নিশ্চিত। জয়ের আনন্দে রবীন্দ্রসঙ্গীতের সুরের সঙ্গে ডিজে বাজিয়ে বর্ণাঢ্য উদযাপনও করতে চলেছে ঘাসফুল শিবির।



রিপোর্টে মূলত বেশ কয়েকটি বিশেষ ইস্যুকে তৃণমূলের জয়ের অন্যতম কারিগর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাঙালিদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দেওয়ার যে চেষ্টা চালানো হয়েছিল, ভোটাররা ব্যালট বাক্সে তার যোগ্য জবাব দিয়েছেন বলে মনে করছে দল। পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশের অজয় পাল শর্মার মতো ‘বহিরাগতদের’ বাঙালি মহিলাদের প্রতি অপমানজনক মন্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। উত্তরপ্রদেশ বা গুজরাট থেকে বিজেপি নেতারা এসে বাঙালির উপর যে ভাবে ‘ধমক-চমক’ বা ভয়ের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে, সাধারণ মানুষ তাকে ভালোভাবে নেয়নি। একে বাঙালির আত্মমর্যাদায় আঘাত হিসেবেই দেখেছেন ভোটাররা। এমনটাই মনে করছে তৃণমূল।

পাশাপাশি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-সহ বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের প্রভাবে রাজ্যের নারীশক্তি তৃণমূলের উপর পূর্ণ আস্থা রেখেছে। যা ভোটের ফলে নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে চলেছে। একইসঙ্গে পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যা এবং তাঁদের প্রতি রাজ্য সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি তৃণমূলের ভোটের বাক্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি এনআরসি এবং সিএএ নিয়ে মানুষের মনে যে আশঙ্কার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তার জেরে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ভোটের রায়ে প্রতিফলিত হয়েছে বলে তৃণমূলের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে বলে খবর। 

 ভবানীপুরের ভোটার সিইও মনোজ কুমার আগারওয়াল। সেখানেই ভোট দেন তিনি। ভোট দিয়ে বেরিয়ে টিভি৯ বাংলাকে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "পশ্চিমবঙ্গ দেখিয়ে দিয়েছে, দুই দফাতেই শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে সাত-আট দফার থেকে। কোনও মৃত্যু হয়নি। বড়সড় কোনও গণ্ডগোল হয়নি। ছোটখাটো তো সব জায়গায় হয়।"


স্বাধীনতার পর প্রথম রেকর্ড ভোট বাংলায়, খুশি জ্ঞানেশ কুমার, টিভি৯ বাংলাকে কী বললেন CEO মনোজ?
জ্ঞানেশ কুমার-মনোজ আগারওয়াল


দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ। এবারও রেকর্ড ভোট পড়েছে বাংলায় (Wets Bengal Assembly Election 2026)। প্রথম দফায় ভোট পড়েছিল ৯৩ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে, দ্বিতীয় দফাতেও ৯১ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছে ভোটের হার। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রাত পৌনে ৮টা পর্যন্ত ৯১ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। দুই দফা মিলিয়ে ভোটের হার ৯২.৪৭ শতাংশ। ভোটের হার দেখে খুশি নির্বাচন কমিশন। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগারওয়াল (Manoj Kumar Agarwal) টিভি ৯ বাংলাকে একান্ত সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ দেখিয়ে দিয়েছে দুই দফাতেও শান্তিপূর্ণ ভোট হয়। অন্যদিকে, দুই দফায় রেকর্ড ভোটদানের জন্য পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)। তাঁর দাবি, স্বাধীনতার পর এত ভোট পড়েছে বাংলায়।

একদফা নির্বাচনের পক্ষে মত মনোজ কুমারের


 আগারওয়াল। সেখানেই ভোট দেন তিনি। ভোট দিয়ে বেরিয়ে টিভি৯ বাংলাকে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ দেখিয়ে দিয়েছে, দুই দফাতেই শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে সাত-আট দফার থেকে। কোনও মৃত্যু হয়নি। বড়সড় কোনও গণ্ডগোল হয়নি। ছোটখাটো তো সব জায়গায় হয়। তবে, এবার পশ্চিমবঙ্গ দেখিয়ে দিয়েছে।” অন্যদিকে, একদফা নির্বাচনের পক্ষেও মতামত দিয়েছেন। তিনি বলেন,” একদফা নির্বাচন অবশ্যই হতে পারে। আমি তো আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে এবারও এক দফা হতে পারত, এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত। কেরলে হতে পারে, তামিলনাড়ুতে হতে পারে তাহলে পশ্চিমবঙ্গে কেন হবে না?”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ নিয়ে কী বলছেন?

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। মমতার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি এই বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। আমি শুধু এটা বলছি, আমাদের কাছে যা অভিযোগ রয়েছে, তা যে কোনও ব্যক্তির তরফে হোক, সেখানে আমরা কোনও পোস্ট বা ব়্যাঙ্ক, কোনও রং বা কোনও ধর্ম আমরা দেখি না। আমরা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করি। তদন্ত করার পর যদি কোনও কিছু সামনে আসে, অভিযোগের যদি সারবত্তা থাকে, তাহলে আমরা আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করি। আর সারবত্তা না থাকলে অভিযোগ ফাইলেই পরে থাকবে।”

জ্ঞানেশ কুমারের বক্তব্য

অন্যদিকে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে প্রথম ও দ্বিতীয় দফা, দুই পর্যায়েই সর্বোচ্চ ভোটদানের হার।” তাঁর মতে,’চুনাভ কা পরব , পশ্চিমবঙ্গ কা গরব’। বাংলা তর্জমা করলে হয় “ভোটের উৎসব, পশ্চিমবঙ্গের গর্ব।”
ফল ঘোষণার পর দেখা যায়, অনেক সময় বুথ ফেরত সমীক্ষা মেলে এবং অনেক সময় মেলে না। ফলে বুথ ফেরত সমীক্ষা শুধু নির্বাচনের ফলাফলের আভাস দেয় মাত্র। দেখে নেওয়া যাক, বুথ ফেরত সমীক্ষা কোন রাজ্যে কী বলছে?


কার হাওয়া কাড়বে কে? কী বলছে অসম, তামিলনাড়ু, কেরলম, পুদুচেরির বুথ ফেরত সমীক্ষা?
কী বলছে বুথ ফেরত সমীক্ষা?


শুধু বাংলা নয়। আগামী ৪ মে আরও ৪ জায়গায় বিধানসভা নির্বাচনের ফলে বেরবে। ৩টি রাজ্য অসম, তামিলনাড়ু ও কেরলম এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে ফলাফল ঘোষণা হবে। বুধবার বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোটের শেষে বুথ ফেরত সমীক্ষা সামনে এসেছে। বাংলার পাশাপাশি অসম, তামিলনাড়ু, কেরলম ও পুদুচেরিতে বুথ ফেরত সমীক্ষা কী বলছে? কোন রাজ্যে কারা সরকার গঠন করতে পারে? জেনে নিন বুথ ফেরত সমীক্ষা কী বলছে…

বুথ ফেরত সমীক্ষা-



ফল ঘোষণার পর দেখা যায়, অনেক সময় বুথ ফেরত সমীক্ষা মেলে এবং অনেক সময় মেলে না। ফলে বুথ ফেরত সমীক্ষা শুধু নির্বাচনের ফলাফলের আভাস দেয় মাত্র। দেখে নেওয়া যাক, বুথ ফেরত সমীক্ষা কোন রাজ্যে কী বলছে?

অসম-

অসমে বিধানসভা আসন সংখ্যা ১২৬। সরকার গড়তে প্রয়োজন ৬৪ আসন। বিভিন্ন বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, অসমে ফের ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, বিজেপি ৮৮ থেকে ১০০টি আসন পেতে পারে। কংগ্রেস পেতে পারে ২৪ থেকে ৩৬টি আসন। AIUDF-কে একটিও আসন দেয়নি তারা। অন্যরা পেতে পারে শূন্য থেকে ৩টি আসন।

জনমত পোলসের বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, বিজেপি পেতে পারে ৮৭ থেকে ৯৮টি আসন। কংগ্রেস পেতে পারে ২৯ থেকে ৩০টি আসন। অন্যরা কোনও আসন পাবে না বলে তারা বুথ ফেরত সমীক্ষায় জানিয়েছে।

জেভিসি তাদের বুথ ফেরত সমীক্ষায় বলছে, বিজেপি পেতে পারে ৮৮ থেকে ১০১টি আসন। কংগ্রেস পেতে পারে ২৩ থেকে ৩৩টি আসন। AIUDF পেতে পারে ২ থেকে ৫টি আসন।

কামাক্ষ্যা অ্যানালিটিকসের বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, বিজেপি পেতে পারে ৮৫ থেকে ৯৫ আসন। কংগ্রেস পেতে পারে ২৬ থেকে ৩৯ আসন। অন্যরা সর্বোচ্চ ৩টি আসন পেতে পারে।

কেরলম-

কেরলমে বিধানসভা আসন সংখ্যা ১৪০। সরকার গড়তে প্রয়োজন ৭১ আসন। বিভিন্ন বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, কেরলমে এবার সরকার পরিবর্তন হতে চলেছে। বামেদের ক্ষমতাচ্যুত করে সরকার গড়তে পারে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন UDF । অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, LDF ৪৯ থেকে ৬২টি আসন পেতে পারে। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন UDF পেতে পারে ৭৮ থেকে ৯০টি আসন। বিজেপি সর্বোচ্চ ৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদের কোনও আসন দেয়নি অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া।

পিপলস ইনসাইটের বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, বামেদের জোট LDF পেতে পারে ৫৮ থেকে ৬৮টি আসন। UDF পেতে পারে ৬৬ থেকে ৭৬টি আসন। বিজেপি পেতে পারে ১০ থেকে ১৪টি আসন। অন্যরা সর্বোচ্চ একটি আসন পাবে বলে তারা বুথ ফেরত সমীক্ষায় জানিয়েছে।

পিপলস পালস তাদের বুথ ফেরত সমীক্ষায় বলছে, LDF পেতে পারে ৫৫ থেকে ৬৫টি আসন। UDF পেতে পারে ৭৫ থেকে ৮৫টি আসন। বিজেপি পেতে পারে সর্বোচ্চ ৩টি আসন।

ভোট ভাইবের বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, LDF পেতে পারে ৫৮ থেকে ৬৮ আসন। UDF পেতে পারে ৭০ থেকে ৮০ আসন। অন্যরা সর্বোচ্চ ৪টি আসন পেতে পারে। বিজেপিকে তারা কোনও আসন দেয়নি।

তামিলনাড়ু-

তামিলনাড়ুতে বিধানসভা আসন সংখ্যা ২৩৪। সরকার গড়তে প্রয়োজন ১১৮ আসন। বিভিন্ন বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, তামিলনাড়ুতে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা। বর্তমান শাসকদল ডিএমকে যেমন লড়াইয়ে রয়েছে, তেমনই অভিনেতা বিজয়ের নতুন রাজনৈতিক দল টিভিকে-ও এবার সরকার গঠনে নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে। এডিএমকে-ও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, DMK ৯২ থেকে ১১০টি আসন পেতে পারে। ADMK পেতে পারে ২২ থেকে ২৩টি আসন। TVK ৯৮ থেকে ১২০টি আসন পেতে পারে। অন্যদের কোনও আসন দেয়নি অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া।

জেভিসি-র বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, DMK পেতে পারে ৭৫ থেকে ৯৫টি আসন। ADMK পেতে পারে ১২৮ থেকে ১৪৭টি আসন। TVK পেতে পারে ৮ থেকে ১৫টি আসন। অন্যরা কোনও আসন পাবে না বলে তারা বুথ ফেরত সমীক্ষায় জানিয়েছে।

কামাক্ষ্যা অ্যানালেটিকস তাদের বুথ ফেরত সমীক্ষায় বলছে, DMK পেতে পারে ৭৮ থেকে ৯৫টি আসন। ADMK পেতে পারে ৬৮ থেকে ৮৪টি আসন। TVK পেতে পারে ৬৭ থেকে ৮১টি আসন।

ম্যাট্রিজের বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, DMK পেতে পারে ১২২ থেকে ১৩২ আসন। ADMK পেতে পারে ৮৭ থেকে ১০০ আসন। TVK পেতে পারে ১০ থেকে ১২টি আসন। অন্যরা সর্বোচ্চ ৬টি আসন পেতে পারে বলে তারা জানিয়েছে।

পুদুচেরি-

কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে বিধানসভা আসন সংখ্যা ৩০। সরকার গড়তে প্রয়োজন ১৬ আসন। বিভিন্ন বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, NRC-র নেতৃত্বাধীন শাসকদল এবার ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে। অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, NRC ১৬ থেকে ২০টি আসন পেতে পারে। কংগ্রেস ও তার সহযোগীরা পেতে পারে ৬ থেকে ৮টি আসন। অভিনেতা বিজয়ের TVK ২ থেকে ৪টি আসন পেতে পারে। অন্যরা এক থেকে তিনটি আসন পেতে পারে বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার সমীক্ষা।

কামাক্ষ্যা অ্যানালিটিকসের বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, NRC ও তার সহযোগীরা পেতে পারে ১৭ থেকে ২৪টি আসন। কংগ্রেস পেতে পারে ৪ থেকে ৭টি আসন। TVK পেতে পারে ১ থেকে ২টি আসন। অন্যরা সর্বোচ্চ একটি আসন পাবে বলে তারা বুথ ফেরত সমীক্ষায় জানিয়েছে।

পিপলস পালস তাদের বুথ ফেরত সমীক্ষায় বলছে, NRC পেতে পারে ১৬ থেকে ১৯টি আসন। কংগ্রেস পেতে পারে ১০ থেকে ১২টি আসন। TVK কোনও আসন পাবে না। অন্যরা ১ থেকে ২টি আসন পাবে বলে পিপলস পালস তাদের সমীক্ষায় জানিয়েছে।

প্রাইয়া পোলের বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, NRC ও তাদের সহযোগীরা পেতে পারে ১৯ থেকে ২৫ আসন। কংগ্রেস ও তার সহযোগীরা পেতে পারে ৬ থেকে ১০ আসন। TVK কোনও আসন পাবে না। অন্যদেরও কোনও আসন পাবে না বলে তারা জানিয়েছে।

দ্বিতীয় দফার ভোট শেষেই আবহাওয়ার ভোল বদল, গরম থেকে মিলতে পারে স্বস্তি। আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে প্রবল দুর্যোগের আশঙ্কা। 


আজ রাত ৯ টা থেকে ১০ টার মধ্যে ঘন্টায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের সাথে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কলকাতা ও পাশ্ববর্তী অঞ্চল গুলিতে। 



বৃষ্টিপাত হতে পারে মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলি, হাওড়া, কলকাতা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম সহ প্রায় সমস্ত দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে প্রবল ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কা। সেই সঙ্গে প্রবল বজ্রপাতের আশঙ্কা।





রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের অন্তিম লগ্নে বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ১৩২ সাগর বিধানসভা কেন্দ্রে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলো ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া। এদিন বিকেলের দিকে রুদ্রনগর এলাকার ১০৪ নম্বর বুথে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেন এই কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা।


বুধবার সকাল থেকেই ব্যস্ত ছিলেন তৃণমূল প্রার্থী। দিনভর বিভিন্ন বুথ পরিদর্শনের আগে সকালে নিজের বাড়িতে বিশেষ পূজা সম্পন্ন করেন তিনি। এরপর এলাকার বেশ কয়েকটি মন্দিরে আশীর্বাদ প্রার্থনা করে সরাসরি পৌঁছে যান বুথে বুথে। সকাল থেকে কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে সাধারণ ভোটার ও দলীয় কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ভোট পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। 
বিকেল ৪টে নাগাদ রুদ্রনগর খাসমহল অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিজের ভোটটি দেন বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা। ভোটদান শেষে তিনি বলেন, "মানুষ উন্নয়নের পক্ষেই ভোট দিচ্ছেন। প্রতিটি বুথে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে যে তারা মা-মাটি-মানুষের সরকারের পাশেই আছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে চতুর্থবারের মতো রাজ্যে তৃণমূল সরকার গঠন হবে, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।"


নিজের জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী এই হেভিওয়েট প্রার্থী জানান, তিনি ১০০ শতাংশ নিশ্চিত যে সাগরের মানুষ তাকেই ফের বিপুল ভোটে জয়ী করবেন। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত সাগর দ্বীপের সর্বত্রই উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ লাইন এবং ভোটারদের উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। কড়া নিরাপত্তায় মোড়া সাগরে শেষ পর্যন্ত কোনো অশান্তি ছাড়াই মিটেছে গণতন্ত্রের এই মহোৎসব।

নির্বাচন কমিশনের শত প্রচার সত্ত্বেও সাগর বিধানসভার গঙ্গাসাগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৩৫ নম্বর বুথে দেখা গেল প্রশাসনের চূড়ান্ত উদাসীনতা। তবে সরকারি সহায়তার অভাব দমাতে পারেনি সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জেদকে।


শেষ পর্যন্ত গ্রামবাসীদের কাঁধে দোলনায় চেপেই ভোটকেন্দ্রে পৌঁছালেন অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ভোটাররা। নির্বাচন কমিশন প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের জন্য একাধিক সুযোগ-সুবিধার দাবি করলেও, গঙ্গাসাগরের এই বুথে ভোটগ্রহণের দিন তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে বয়সের ভারে হাঁটাচলায় অক্ষম ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন প্রতিবেশীরাই। মোটা দড়ি দিয়ে তৈরি করা হয় দেশীয় প্রযুক্তির ‘দোলনা’। সেই দোলনায় বসিয়ে কাঁধে করে ভোটারদের বুথে নিয়ে যাওয়ার এক বিরল ও মানবিক দৃশ্যের সাক্ষী থাকল এলাকা।

গ্রামবাসীদের এই তৎপরতায় আপ্লুত নির্বাচন কর্মীরাও। স্থানীয়দের কথায়, “গণতন্ত্রের উৎসবে কেউ যেন বাদ না পড়েন, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।” প্রশাসনের সহায়তা ছাড়াই নিজেদের অধিকার প্রয়োগ করতে পেরে খুশি ভোটাররা। গ্রামবাসীদের এই অনন্য উদ্যোগ এলাকায় এক উজ্জ্বল নজির সৃষ্টি করেছে।

সাগর বিধানসভার মুড়িগঙ্গা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার অন্তর্গত একটি ভোটকেন্দ্রে যান্ত্রিক গোলযোগের জেরে দীর্ঘক্ষণ ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।


আজ সকাল থেকেই কোম্পানীছাড় মহেশ্বরী হাইস্কুলের ২১ নম্বর বুথে স্বাভাবিক ছন্দেই ভোট গ্রহণ চলছিল। তবে বেলা ১২টা নাগাদ হঠাৎ করেই ভোটদানের প্রধান যন্ত্র অর্থাৎ ইভিএম (EVM) মেশিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এর ফলে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে থমকে যায়।

ঘটনার এক ঘণ্টার বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও নতুন করে ভোট গ্রহণ শুরু করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও বিরক্তি দেখা দিয়েছে। তীব্র দাবদাহের মধ্যে ভোট দিতে এসে এই বিলম্ব নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দ্রুত মেশিনটি মেরামত করার বা বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে পুনরায় ভোট প্রক্রিয়া চালু করার চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বুথ চত্বরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

​পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফায় আজ সকাল থেকেই সাগর দ্বীপের বুথে বুথে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ছে। চড়ক গাছ থেকে গঙ্গাসাগর উপকূল—সর্বত্রই উৎসবের মেজাজে ভোট দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। 


প্রখর রোদ উপেক্ষা করে সকাল সাতটা থেকেই পুরুষ ও মহিলা ভোটাররা বুথমুখী হয়েছেন।
​বিশেষ করে নতুন ভোটার এবং বয়স্কদের উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। নিরাপত্তার খাতিরে প্রতিটি বুথে মোতায়েন রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। 


ড্রোন ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে প্রশাসন। দুর্গম দ্বীপ এলাকার ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিকেল পর্যন্ত এই ভিড় আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।