সুকান্ত মজুমদারের অভিযোগ, "আজ সেই মহান পুরুষকে, তাঁর ইতিহাসকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে, মুছে ফেলা হয়েছে,সেই ইতিহাসকে সকলের সামনে আনা হোক। আমরা সিংহভাগ জানতাম না যে পশ্চিমবঙ্গ কীভাবে তৈরি হয়েছে। কোথাও ইতিহাস বইয়ে রাখা পর্যন্ত হয়নি।"
হিন্দু নিধনের' ইতিহাস স্কুলের সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা হোক, আর্জি তাপসের
তাপস রায়
বাংলার পাঠ্যবইয়ে কি এবার জুড়বে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের (Paschimbanga Diwas) ইতিহাস? পড়ানো হবে পশ্চিমবঙ্গে নির্মাণে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (DR. Shyamaprasad Mukherjee) ভূমিকা? আজ রাজ্যজুড়ে পালিত হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ দিবস। প্রথমবার এই দিনটি সরকারিভাবে পালন করা হচ্ছে বাংলায়। আর এই বিশেষ দিনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) কাছে বিশেষ দাবি জানালেন তাপস রায়। তাঁর আর্জি, স্কুলের পাঠ্যবইয়ে যেন হিন্দু নিধনের ইতিহাসকেও তুলে ধরা হয়। একই আর্জি করেছেন আরেক মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। অন্যদিকে, সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Mazumdar) আবেদন, এবার যেন পশ্চিমবঙ্গ দিবস নির্মাণ নিয়ে একটা চ্যাপ্টার পাঠ্যবইয়ে আনা হয়। তাঁর মতে, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ইতিহাস, তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে বাঙালির জানা প্রয়োজন।
রাজ্যজুড়ে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন
পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে তারকেশ্বরে বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানেই আজ উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিকে, পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন হল রাজ্য বিজেপির সদর দফতর ও বিধানসভাতেও। রাজ্য বিজেপির সদর দফতরে উপস্থিত ছিলেন সুকান্ত মজুমদার। অন্যদিকে, বিধানসভায় উপস্থিত ছিলেন তাপস রায়, শঙ্কর ঘোষরা।
বিধানসভায় পশ্চিমবঙ্গ দিবসের গুরুত্ব নিয়ে তাপস রায় বলেন,”সুরাবর্দিকে শুধু হিন্দুরা নয়, শিক্ষিত মুসলমানরাও তাঁকে গুণ্ডাদের সর্দার বলতেন। সেই সুরাবর্দির নির্দেশে নিস্ক্রিয় পুলিশ দশ হাজারের বেশি মানুষকে কলকাতার রাস্তায় খুন করা হয়েছিল। তারপরই শুরু হয়েছিল ঢাকা, নোয়াখালি, তারপরই শুরু হয়েছিল হিন্দু নিধন। এই ইতিহাস কিন্তু আমাদের পড়ানো হয় না। ইতিহাসে নেই। মাননীয় অধ্যক্ষকে অনুরোধ করব, তার মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করব, আমাদের নবপ্রজন্মের স্কুলের সিলেবাসেপ মধ্যে যেন এগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়।”
বিজেপির রাজ্য দফতরে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের ইতিহাস নিয়ে বিশেষ বক্তৃতা রাখেন সুকান্ত মজুমদার। পশ্চিমবঙ্গ দিবস নির্মাণে কী ভূমিকা ছিল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের, তাও তুলে ধরেন।
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা প্রসঙ্গে সুকান্ত
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা প্রসঙ্গে বলতে গিয়েই সুকান্ত মজুমদার বলেন, ” সেইসময় যদি ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় না থাকতেন, তাহলে সুকান্ত আজ হয়তো আন্দামানে বা মধ্যপ্রদেশে, বা উত্তর প্রদেশের পিলভিটে উদ্বাস্তু বাঙালি হিসেবে কাউন্সিলরের বেশি কিছু হতে পারতাম না। আমরা কেউ মন্ত্রী, সান্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী হতে পারতাম না, যদি না শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ দিয়ে না যেতেন।”
সুকান্ত মজুমদারের অভিযোগ, “আজ সেই মহান পুরুষকে, তাঁর ইতিহাসকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে, মুছে ফেলা হয়েছে,সেই ইতিহাসকে সকলের সামনে আনা হোক। আমরা সিংহভাগ জানতাম না যে পশ্চিমবঙ্গ কীভাবে তৈরি হয়েছে। কোথাও ইতিহাস বইয়ে রাখা পর্যন্ত হয়নি।” এরপরই পাঠ্যবইয়ে নতুন চ্যাপ্টার আনার দাবি করেন সুকান্ত মজুমদার।
পাঠ্যবইয়ে চ্যাপ্টার রাখার দাবি
সাংসদ বলেন, “শুভেন্দুবাবুর নেতৃত্বে যে পশ্চিমবঙ্গ সরকার গঠন হয়েছে, আমি বিজেপির কর্মী হিসেবে সরকারের কাছে আবেদন জানাব আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের পাঠ্যবইয়ে, এই পশ্চিমবঙ্গ নির্মাণে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের যে ভূমিকা ও অন্যান্যদের যে ভূমিকা রয়েছে, সেই ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে অন্তত একটা চ্যাপ্টার হিসেবে পড়ানো উচিত, সিলেবাসে রাখা উচিত।”


Post A Comment:
0 comments so far,add yours