সরকারের মতে, সময়মতো লিকুইড ফান্ড বা আর্থিক সহায়তা পেলে ব্যবসাগুলি কর্মসংস্থান বজায় রাখতে পারবে, সরবরাহ ব্যবস্থা সচল থাকবে এবং উৎপাদন বজায় রাখা সম্ভব হবে। ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেওয়া এই অতিরিক্ত ঋণ ভারতীয় ব্যবসা ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
৮০ হাজার কোটি টাকার ঋণ দেবে SBI, কারা লোন নিতে পারবেন?
ফাইল চিত্র।
চারিদিকে যুদ্ধের হাওয়া। তার মাঝেই বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (State Bank of India)। ভারতের বৃহত্তম সরকারি ব্যাঙ্ক স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI) এবার প্রায় ৭০,০০০ থেকে ৮০,০০০ কোটি টাকার ঋণ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কারা এই ঋণ পাবেন?
কেন্দ্রীয় সরকারের ইমার্জেন্সি ক্রেডিট লাইন গ্যারান্টি স্কিম (Emergency Credit Line Guarantee Scheme)-এর আওতায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এসবিআই (SBI)। এই বিষয়টি নিয়ে এসবিআইয়ের চেয়ারম্যান সি.এস শেট্টি জানিয়েছেন, আগামী ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই এই প্রকল্প সম্পূর্ণভাবে চালু হয়ে যাবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই প্রকল্প সবার জন্য উন্মুক্ত এবং এতে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক।
মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলিকে সহজে ঋণ দিতে বিভিন্ন এমএসএমই (MSME) সংগঠনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে এসবিআই (SBI)। দ্য ইকোনমিক টাইমস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, সি.এস শেট্টি বলেছেন, এই স্কিমের প্রযুক্তিগত ও প্রক্রিয়াগত সমস্ত জটিলতা খুব শীঘ্রই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। শুধুমাত্র SBI-ই এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৭০,০০০ কোটি থেকে ৮০,০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করতে পারে।
২.৫৫ লক্ষ কোটি পর্যন্ত ঋণের সুবিধা-
গত বুধবারই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ECLGS 5.0 অনুমোদন করেছে। এমএসএমই (MSME) এবং বিমান পরিবহণ খাতে আর্থিক স্বস্তি দিতেই এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এই স্কিমের মাধ্যমে যোগ্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি মাপের ব্যবসাগুলি প্রায় ২.৫৫ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ পেতে পারবে। এর মধ্যে বিমান সংস্থাগুলির জন্য আলাদাভাবে ৫,০০০ কোটি টাকার সহায়তা বরাদ্দ করা হয়েছে, যাতে দীর্ঘদিন ধরে অর্থ সঙ্কটে ভোগা এয়ারলাইন সংস্থাগুলি কিছুটা স্বস্তি পায়।
এয়ারলাইন সংস্থাগুলির জন্য বিশেষ সুবিধা-
জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের আওতায় MSME সংস্থাগুলি মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত ব্যবহৃত সর্বোচ্চ ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের ২০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত ঋণ পেতে পারবে। MSME-র জন্য ঋণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, বিমান সংস্থাগুলি তাদের সম্পূর্ণ ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের সমান পরিমাণ ঋণ পেতে পারে, যার সর্বোচ্চ সীমা রাখা হয়েছে প্রতি ঋণগ্রহীতা পিছু ১,৫০০ কোটি টাকা। তবে এর জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে।
কী কী শর্ত-
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (MSME) ক্ষেত্রের জন্য ঋণের মেয়াদ হবে ৫ বছর।
প্রথম এক বছর কিস্তি শোধে ছাড় মিলবে।
বিমান সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে ঋণের মেয়াদ ৭ বছর, যার মধ্যে প্রথম ২ বছর থাকবে মোরাটোরিয়াম সুবিধা।
সরকার জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটের প্রভাব যেসব খাতে পড়েনি—যেমন শিক্ষা, প্রতিরক্ষা, উদ্যান পালন, বিদ্যুৎ এবং চিনি শিল্প—তাদের এই প্রকল্পের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিতেই এই উদ্যোগ-
ইমার্জেন্সি ক্রেডিট লাইন গ্যারান্টি স্কিম (Emergency Credit Line Guarantee Scheme) 5.0-এর মূল লক্ষ্য হল পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা এবং ইরান সঙ্কটের কারণে তৈরি হওয়া আর্থিক সমস্যার মোকাবিলায় ব্যবসাগুলিকে সহায়তা করা। এমএসএমই (MSME) এবং এয়ারলাইন সেক্টরকে অতিরিক্ত ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল জোগান দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের মতে, সময়মতো লিকুইড ফান্ড বা আর্থিক সহায়তা পেলে ব্যবসাগুলি কর্মসংস্থান বজায় রাখতে পারবে, সরবরাহ ব্যবস্থা সচল থাকবে এবং উৎপাদন বজায় রাখা সম্ভব হবে। ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেওয়া এই অতিরিক্ত ঋণ ভারতীয় ব্যবসা ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
এসবিআই রিসার্চ (SBI Research)-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ECLGS 5.0 প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ১.১ কোটি MSME অ্যাকাউন্ট উপকৃত হতে পারে, যা মোট MSME পোর্টফোলিওর প্রায় ৪৫ শতাংশ। রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রত্যেক অ্যাকাউন্টে গড়ে ২ লক্ষ থেকে ২.৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ঋণ পেতে পারে


Post A Comment:
0 comments so far,add yours