বিধানসভার সচিব একটি চিঠি পেশ করে জানান, তৃণমূলের পক্ষ থেকে যে আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল, তার সঙ্গে বিধায়কদের কোনও ‘রেজুলিউশন কপি’ বা সমর্থনপত্র যুক্ত ছিল না। অর্থাৎ, শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা হিসাবে দলের কতজন বিধায়ক সমর্থন করছেন, তার কোনও লিখিত প্রমাণ বা উল্লেখ সেখানে ছিল না। একই ত্রুটি ছিল ফিরহাদ হাকিমকে চিফ হুইপ করার আবেদনের ক্ষেত্রেও।
শোভনদেবের বিরোধী দলনেতা হওয়া নিয়ে চরম জটিলতা! অবস্থান স্পষ্ট করল বিধানসভা
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়
বিধানসভায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে এখনও পর্যন্ত বিরোধী দলনেতার মর্যাদা না দেওয়া এবং তাঁর আরটিআই (RTI) করাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক। এই পরিস্থিতিতে এবার পুরো বিষয়টি নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করলেন বিধানসভার সচিব সৌমেন্দ্রনাথ দাস। তাঁর সাফ বক্তব্য, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিয়ম মানেনি তৃণমূল কংগ্রেস।
বিতর্কের সূত্রপাত, বিধানসভায় এখনও পর্যন্ত শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় তাঁর বসার ঘর পাননি। অথচ ইতিমধ্যেই তাঁকে তৃণমূল পরিষদীয় দলের তরফে বিরোধী দলনেতা হিসাবে নির্বাচিত করার কথা জানানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘরটি তালাবন্ধই রয়েছে।
বিধানসভার সচিব একটি চিঠি পেশ করে জানান, তৃণমূলের পক্ষ থেকে যে আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল, তার সঙ্গে বিধায়কদের কোনও ‘রেজুলিউশন কপি’ বা সমর্থনপত্র যুক্ত ছিল না। অর্থাৎ, শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা হিসাবে দলের কতজন বিধায়ক সমর্থন করছেন, তার কোনও লিখিত প্রমাণ বা উল্লেখ সেখানে ছিল না। একই ত্রুটি ছিল ফিরহাদ হাকিমকে চিফ হুইপ করার আবেদনের ক্ষেত্রেও। সচিবের বক্তব্য, এই আইনি ও প্রশাসনিক ঘাটতির কারণেই বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসু নিয়ম মেনে দলীয় সিদ্ধান্তের রেজুলিউশন কপি চেয়েছিলেন, যা জমা দেওয়া হয়নি। বিধানসভার সচিব সৌমেন্দ্রনাথ দাস চিঠিটা দেখিয়ে বলেন, “এই চিঠির সঙ্গে কোনও রেজুলিউশন কপি যুক্ত ছিল না। শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা হিসাবে ক’জন সদস্য তাঁর মত ব্যক্ত করেছেন, সেটা উল্লেখ নেই।” পাশাপাশি ফিরহাদ হাকিমকেও চিফ হুইপ হিসাবে মত দিয়েছেন, সেটারও উল্লেখ নেই।
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আরটিআই-এর জবাবে সচিব আরও মনে করিয়ে দেন যে, বিধানসভার ভেতরে অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং তাঁর সিদ্ধান্তকে কোনোভাবেই চ্যালেঞ্জ করা যায় না। স্পিকার নির্বাচনের দিন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতার প্রথাগত রীতি পালনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল ঠিকই, তবে তার মানে এই নয় যে বিধানসভা কর্তৃপক্ষ পরবর্তীকালে তাঁর পদের সপক্ষে প্রয়োজনীয় নথি বা কাগজপত্র চাইতে পারবে না।
প্রয়োজনীয় নথি জমা না পড়া এবং নিয়মের জটিলতায় আটকে থাকায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়টি এখন সম্পূর্ণভাবে বিধানসভার অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে বলে জানিয়ে দিয়েছেন সচিব সত্যেন্দ্রনাথ দাস।


Post A Comment:
0 comments so far,add yours