কমিশনের আইনজীবী ডি এস নাইডুর উদ্দেশে একযোগে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। বিচারপতি বাগচী বলেন, যে পদ্ধতিতে বিহারে এসআইআর হয়েছে, বাংলায় তা অবলম্বন করা হয়নি। পাশাপাশি বিচারপতি বলেন, "একজন ভোটার এখানে দুই সাংবিধানিক সংস্থার মাঝে পড়ে যাচ্ছে স্যান্ডউইচ হচ্ছেন।" উঠে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির প্রসঙ্গও।
ভোটার এখানে স্যান্ডউইচ হয়ে যাচ্ছেন', SIR প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে এবার এক গাদা প্রশ্নের মুখে পড়ল কমিশন
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী
সুপ্রিম কোর্টে ভোটার তালিকা ফ্রিজের সময়সীমা বাড়ানোর আর্জি। এসআইআর-এর মূল মামলার আগে এই মামলাটি শোনে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ। কিন্তু এদিন সুপ্রিম কোর্ট এই আবেদনে সাড়া দেয়নি। পাল্টা মামলাকারীকে ট্রাইবুনালেই যাওয়ার কথা বললেন তিনি। কিন্তু এই মামলাতেও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। এদিন কমিশনের আইনজীবী ডি এস নাইডুর উদ্দেশে একযোগে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। বিচারপতি বাগচী বলেন, যে পদ্ধতিতে বিহারে এসআইআর হয়েছে, বাংলায় তা অবলম্বন করা হয়নি। পাশাপাশি বিচারপতি বলেন, “একজন ভোটার এখানে দুই সাংবিধানিক সংস্থার মাঝে পড়ে যাচ্ছে স্যান্ডউইচ হচ্ছেন।” উঠে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির প্রসঙ্গও।
এক্ষেত্রে বিচারপতি বাগচীর একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ, বাংলার মতো লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি আর কোনও রাজ্যে হয়নি। কমিশনকে এদিন সুপ্রিম কোর্টে বেশ কিছু প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। কমিশনের তরফ থেকে আইনজীবী ডিএস নাইডু পাল্টা কমিশনের অবস্থান তুলে ধরছিলেন, কেন বিহারের ক্ষেত্রে এক ধরনের নিয়ম ছিল, আর বাংলার ক্ষেত্রে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি চালু করা হয়। তখন খুব স্পষ্টভাবে বিচারপতি বাগচী বলেন, “আপনি এমন একজনের কাছে মডেল ফর্ম দিচ্ছেন, যিনি ইতিমধ্যেই ফর্ম পূরণ করেছেন।”
একুশের নির্বাচনে ছিলেন বাংলার পর্যবেক্ষক, এবার দেখা নেই কৈলাসের! বললেন, 'বাংলায় এলেই গ্রেফতার...'
অর্থাৎ বিচারপতি বাংলার SIR-এ অংশ নিয়েছেন, অর্থাৎ সমস্তটাই জানেন। সেক্ষেত্রে বিচারপতির মুখে উঠে আসে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার কথাও। বিচারপতির প্রশ্ন, আগে কমিশন যখন বলেছিল, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকলেই হবে, তাঁদের আলাদা করে নথি জমা দিতে হবে না। কিন্তু বাংলার ক্ষেত্রে কমিশনের আইনজীবী বলেন, ২০০২ সালে যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁরা একই ব্যক্তি কিনা, সেটা দেখতেই নথি। কারণ অনেকের নামের পরিবর্তন হয়েছে। তখন বিচারপতি বাগচী বলেন, কমিশন তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছে।
কমিশনের আইনজীবী নাইডুর উদ্দেশে বিচারপতি বাগচী বলেন, “আমাদের ‘ন্যায্য প্রক্রিয়ায় অধিকার রক্ষা করতে হবে।” আইনজীবী নাইডু তখন বলেন, “যখন আমরা লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি তালিকা প্রকাশ করেছি এবং মানুষকে জানানো হয়েছে, তখন তারা আপত্তি জমা দিতে পারে। অনুগ্রহ করে লক্ষ্য করুন, ৪৭ শতাংশ আবেদন বাতিল হয়েছে।”
বিচারপতি বাগচী তখন বলেন, “এটা দোষারোপের খেলা নয়। একজন ভোটার এখানে দুই সাংবিধানিক সংস্থার মাঝে পড়ে যাচ্ছে স্যান্ডউইচ হচ্ছেন।”
এই পর্বের শুনানিতে ট্রাইবুনালের কাজে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করে সুপ্রিমকোর্ট।


Post A Comment:
0 comments so far,add yours