রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এই বিপুল সংখ্যাক প্রার্থী বদলের নেপথ্যে কাজ করছে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা কাটানোরই ছক। এমনিতে সাম্প্রতিক কালে চুঁচুড়াতে বিধায়কের সঙ্গে হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজিয়া দলের অস্বস্তি অনেকটাই বাড়িয়েছিল। পাশাপাশি উত্তরপাড়াতেও সামনে এসেছিল কাঞ্চন-কল্যাণ কাজিয়া।
পুরোদমে ‘সাফসুতরো’ অভিযান ঘাসফুল শিবিরের, এই জেলায় ১৮ আসনে ১০টিতেই বাদ বর্তমান বিধায়করা
প্রতীকী ছবি
হুগলিতে যেন সাইক্লোন বয়ে গেল! তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় বিজেপি ধুয়ে-মুছে সাফ। কালীঘাট থেকে মঙ্গলবার যে পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা সামনে এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে ১৮ বিধানসভার মধ্যে ১০টিতেই বদল হয়েছে। সরিয়ে দেওয়া হয়েছে পুরনো বিধায়কদের। তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে জোরদার চর্চা। উত্তরপাড়ায় কাঞ্চন মল্লিকের পরবর্তীতে নিয়ে আসা হয়েছে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র শীর্ষান্ন বন্দ্যোপাধ্যায়কে। অন্যদিকে চুচুড়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের দাপুটে নেতা তথা তিনবারের বিধায় অসিত মজুমদারকে। সেখানে ঘাসফুল ফোটাতে এবার তৃণমূলের ভরসা নতুন মুখ দেবাংশু ভট্টাচার্য।
তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অসিত। ইতিমধ্যেই রাজনীতি থেকে অবসরের কথাও শোনা গিয়েছে অসিতের মুখে। বলছেন, “অভিষেক এবং দিদি মনে করেছেন আমার থেকে দেবাংশু বেটার হবে। আর কথা বলার প্রয়োজন আছে নাকি! আমরা তো চুনোপুঁটি। এখন যদি মনে আবার কোর্টে নামব। প্র্যাকটিস করব। রাজনীতি আর করব না। রাজনীতি থেকে বিশ্রাম নিলাম।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এই বিপুল সংখ্যাক প্রার্থী বদলের নেপথ্যে কাজ করছে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা কাটানোরই ছক। এমনিতে সাম্প্রতিক কালে চুঁচুড়াতে বিধায়কের সঙ্গে হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজিয়া দলের অস্বস্তি অনেকটাই বাড়িয়েছিল। পাশাপাশি উত্তরপাড়াতেও সামনে এসেছিল কাঞ্চন-কল্যাণ কাজিয়া। আরও একাধিক বিধানসভা ক্ষেত্র থেকে বারবার এসেছে গোষ্ঠী কোন্দলের অভিযোগ।
রদবদলের তালিকায় রয়েছে সপ্তগ্রাম ও বলাগড়ও। সপ্তগ্রামে তপন দাশগুপ্তকে এবার আর টিকিট দেওয়া হল না, তাঁর জায়গায় প্রার্থী করা হয়েছে বিদেশ বসুকে। অন্যদিকে তফসিলি ভোটের অঙ্ক মাথায় রেখে মনোরঞ্জন ব্যাপারীকে সরিয়ে টিকিট দেওয়া হয়েছে রঞ্জন ধারাকে। মনোরঞ্জনও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। তা নিয়েও চাপানউতোরের অন্ত নেই।


Post A Comment:
0 comments so far,add yours