তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরই রাজ্যের শাসকদলের প্রার্থী তালিকা জানানো হতে পারে। তার আগে প্রার্থী তালিকা নিয়ে জল্পনা অবশ্য বেড়েই চলেছে।
কলকাতায় বড় রদবদল তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায়, কে পাচ্ছেন, কে বাদ পড়ছেন?
তৃণমূলের সম্ভাব্য প্রার্থী কারা?
চতুর্থবার রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে ঘুঁটি সাজাচ্ছে তৃণমূল। কারা হবেন ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থী? পুরনো সব বিধায়কই কি এবার টিকিট পাবেন? নাকি নবীন-প্রবীণ মিলিয়ে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবে রাজ্যের শাসকদল? তৃণমূল সূত্রে একাধিক প্রার্থীর নাম জানা যাচ্ছে, যাঁরা ছাব্বিশের নির্বাচনে টিকিট পেতে পারেন। কারও হয়ত বিধানসভা কেন্দ্র বদল হতে পারে। আবার কোনও বিধায়কের সন্তানকে বাবার আসনে প্রার্থী করা হতে পারে। কলকাতা ও তার আশপাশের আসনগুলিতে প্রার্থী তালিকা নিয়ে কী জানা যাচ্ছে তৃণমূল সূত্রে?
শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ছেড়ে যাওয়া বেহালা পূর্ব আসনে একুশের নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়। জেতেনও। শোভন তৃণমূলে ফিরে আসার পর বেহালা পূর্বে কে প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে জল্পনা বাড়ে। তৃণমূল সূত্রে খবর, ছাব্বিশের নির্বাচনে বেহালা পূর্বে প্রার্থী করা হতে পারে রত্নাকেই। আবার রত্নার বাবা দুলাল দাস মহেশতলার বিধায়ক। সূত্রের খবর, তিনি দলকে জানিয়েছেন, তিনি আর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান না। সেক্ষেত্রে রত্নাকে মহেশতলায় প্রার্থী করা হতে পারে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে অনেকে বলছেন, বেহালা পূর্বে যেভাবে রত্না কাজ করছেন, তাতে তাঁর বিধানসভা কেন্দ্র নাও বদলানো হতে পারে।
রেস্তরাঁর রান্নাঘরের অবস্থা দেখে পিলে চমকে গেল খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকদের,পচা মাংস সাজিয়ে গুছিয়ে পরিবেশন ক্রেতাদের?
তাহলে শোভনকে কোথায় প্রার্থী করা হতে পারে? পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বেহালা পশ্চিমে শোভনকে প্রার্থী করা হবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছিল। তবে তৃণমূল সূত্রে খবর, বেহালা পশ্চিমে বিনোদন জগতের জনপ্রিয় কোনও মুখকে প্রার্থী করা হতে পারে। আর উত্তর কলকাতার কোনও আসন থেকে প্রার্থী করা হতে পারে শোভন চট্টোপাধ্যায়কে।
২০১১ সাল থেকে এন্টালি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তৃণমূলের স্বর্ণকমল সাহা। সূত্রের খবর, এবার তিনি ভোটে নাও দাঁড়াতে পারেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার বার্তা দলকে দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে এই আসনে প্রার্থী করা হতে পারে তাঁর পুত্র সন্দীপন সাহাকে। সন্দীপন বর্তমানে কলকাতা পৌরনিগমের কাউন্সিলর। মানিকতলা আসনে ফের প্রার্থী করা হতে পারে সুপ্তি পাণ্ডেকে। প্রয়াত সাধন পাণ্ডের এই আসনে উপনির্বাচনে তাঁর প্রার্থী হওয়া নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। সাধন পাণ্ডের স্ত্রী সুপ্তি না কন্যা শ্রেয়া, কে টিকিট পাবেন, তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। শেষপর্যন্ত তাঁর উপরই ভরসা রেখেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সূত্রে খবর, ছাব্বিশের নির্বাচনেও মানিকতলা আসনে টিকিট পাচ্ছেন সুপ্তি পাণ্ডে। আবার প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে জোড়াসাঁকোর বিধায়ক বিবেক গুপ্তর। জোড়াসাঁকোতে কে প্রার্থী হতে পারেন? ওই কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়কের পুত্রের নাম নিয়ে আলোচনা চলছে।
খড়দহের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে এবার দক্ষিণ কলকাতার কোনও আসন থেকে প্রার্থী করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে খড়দহে কে প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে জল্পনা বেড়েছে। একজন সাংবাদিকের নাম আলোচনায় উঠে আসছে। আবার মদন মিত্রকে নিয়েও আলোচনা চলছে। তিনি টিকিট পাচ্ছেন বলে সূত্রের খবর। সেখানে তাঁর বর্তমান বিধানসভা কেন্দ্র কামারহাটিতেই তাঁকে প্রার্থী করা হয়, নাকি খড়দহের প্রার্থী করা হবে, তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।
তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরই রাজ্যের শাসকদলের প্রার্থী তালিকা জানানো হতে পারে। তার আগে প্রার্থী তালিকা নিয়ে জল্পনা অবশ্য বেড়েই চলেছে।


Post A Comment:
0 comments so far,add yours