এবার জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ নিয়ে কমিশনকে কাঠগড়ায় টানল রাজ্য। শীর্ষ আদালতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের কাছে রাজ্যের সওয়ালকারী অভিযোগ করেন, এসআইআর প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার জন্য় যে জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ করা হচ্ছে, সেক্ষেত্রে কোনও ভাবেই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির মতামত গ্রহণ করা হচ্ছে না। এই মর্মে কমিশন অবৈধ ভাবে নানা নির্দেশিকা জারি করছে বলেও অভিযোগ কপিল সিব্বলের।
তবে এখানেই ক্ষান্ত হননি তিনি। কমিশনের জারি করা নির্দেশিকাগুলি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ-বিরোধী বলেও যুক্তি দিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, “পিছন দরজা দিয়ে জুডিশিয়াল অফিসারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। হাইকোর্টে প্রধান বিচারপতিকে এড়িয়ে কোন নথি গ্রহণ হবে, কোন নথি গ্রহণ হবে না সেই বিষয়েও নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।”
রাজ্য়ের সওয়ালকারীর যুক্তি শোনার পরেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট বলেন, “জুডিশিয়াল অফিসারদের সন্দেহ করা বন্ধ করুন। এবার এর নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।” একই বেঞ্চে উপস্থিত বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “কমিশন ছাড়া আর কে প্রশিক্ষণ দেবে? আমরা স্পষ্ট নির্দেশিকা দিয়ে দিয়েছি কোন কোন ডকুমেন্টস গৃহীত হবে। আমাদের নির্দেশিকা অত্যন্ত স্পষ্ট। তা কোনও ভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।”
গতমাসেই একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, এসআইআর-এর কাজে ডমিসাইল সার্টিফিকেট প্রয়োজন হবে, এমনটাই কখনওই বলা হয়নি। ওই সার্টিফিকেটের প্রয়োজনীয়তা অন্য জায়গায়। এমনকি, সংশ্লিষ্ট নথিটি কোন ক্ষেত্রে বৈধ, কোনও ক্ষেত্রে অবৈধ — সেই মাপকাঠিও বেঁধে দিয়েছিল কমিশন। এবার ওই ডমিসাইল সার্টিফিকেট নিয়েও এজলাসে প্রশ্ন তুললেন কপিল সিব্বল। তাঁর অভিযোগ, “কমিশন বলছে ডমিসাইল সার্টিফিকেট গ্রহণ করা হবে না।”
পাল্টা বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “যদি আমাদের নির্দেশে এই নথি গ্রহণ করার কথা বলা থাকে, তা খতিয়ে দেখতে হবেই।” পাশাপাশি জুডিশিয়াল অফিসার নিয়ে তাঁর আরও পর্যবেক্ষণ, “আমাদের বিচারকরা যাতে সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারে তা নিশ্চিত করা রাজ্য সরকার এবং কমিশন দুই তরফের দায়িত্ব। SIR প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আমরা রাজ্যের বিচার ব্যবস্থার পরিকাঠামোকে কার্যত ফাঁকা করে দিয়েছি।” সবশেষে বলে রাখা প্রয়োজন, এই সওয়াল-জবাবের সময় সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য় সচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। কমিশনকে দুষেই তাঁর ‘ভোটাধিকার থাকবে কিনা এখনও ঠিক নেই’ বলে মন্তব্য করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রতিবার ভোটের আগে এবং পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর অস্থায়ী বাসস্থান নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক। কারণ, তাঁদের থাকার জায়গা বলতে একটি, রাজ্যের সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলগুলি। যার জেরে কার্যত লাটে ওঠে পড়াশোনা। ভোটমুখী বাংলায় আবার সেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর আসার কথা শুনে কিছুটা ক্ষিপ্ত রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। বৃহস্পতিবার নবান্ন থেকে কেন্দ্রকে খোঁচা দিলেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বললেন, “কেন্দ্রীয় সরকার যদি মনে করে থাকে, স্কুলগুলিই একমাত্র ধর্মশালা। যা থেকে তাদের স্কুলশিক্ষা নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। কেন্দ্রের নিশ্চয়ই বাহিনীর থাকার ব্যবস্থা নিয়ে কোনও ভাবনা রয়েছে। কিন্তু সেই কারণে যদি এর জন্য রাজ্যের শিক্ষা ব্যাহত হোক, আমরা চাইব না।”
তবে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী স্কুলকে ধর্মশালা বলে অভিহিত করায় পাল্টা খোঁচা দিয়েছে বিজেপি। এদিন সজল ঘোষ টিভি৯ বাংলাকে বলেন, “কেন্দ্রীয় বাহিনী চিরকাল স্কুল-কলেজে থাকত। উনি স্কুলকে ধর্মশালা বলছেন, এটা শুনতে খারাপ লাগে। কারণ ব্রাত্য বাবুর নির্দেশে ৮ হাজার ২০০ স্কুল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। স্কুলগুলো কি স্কুল রয়েছে? এখানে কি শিক্ষা রয়েছে?”
উল্লেখ্য, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হবে। তার আগে বাংলায় ২৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আসার সম্ভবনা। বীরভূমে আসছে ৭ কোম্পানি, পুরুলিয়ায় ৫ কোম্পানি, কলকাতায় ১২ কোম্পানি, দক্ষিণ দিনাজপুরে ১২ কোম্পানি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনেই কেবল ৪ কোম্পানি বাহিনী, পূর্ব মেদিনীপুরে ১৪ কোম্পানি বাহিনী থাকবে।
জমি দখল সংক্রান্ত গন্ডগোল ঘিরে ঘটনার সূত্রপাত। গত ২৩ ডিসেম্বর, ফাঁসিদেওয়াতে একটি জমি দখল নিয়ে দুপক্ষের অশান্তি হয়। সেখানে এক অন্তঃসত্ত্বাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে সিভিক ভলান্টিয়রের বিরুদ্ধে। গত ৯ জানুয়ারি মহম্মদ কাদের নামের ওই সিভিক ভলেন্টিয়ারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। যদিও এখনও চারজন অধরা
শিলিগুড়ি: এক আদিবাসী অন্তঃসত্ত্বাকে ‘মার’ সিভিক ভলান্টিয়রের। আর তাতে মৃত্যু গর্ভস্থের। অভিযোগ ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে শিলিগুড়ি। প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদিবাসীরা উত্তরকন্যা অভিযানে যান। আর তা নিয়েই ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। পুলিশের ব্যারিকেড টপকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন আদিবাসীরা। পুলিশ বাধা দিলে ধস্তাধস্তি হতে থাকে দুপক্ষের মধ্যে। পরিস্থিতি এতটাই বেকায়দা হয়ে যায়, টিয়ার গ্যাসের সেল ফাটাতে হয় পুলিশকে। জল কামান ছুড়তে হয়। মাইকিং করছে পুলিশ।
এদিন অভিযুক্তের ফাঁসির দাবিতে উত্তরকন্যা অভিযানে নামেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ। বিজেপিও তাঁদের সমর্থন করে। এই কর্মসূচি ঘোষিত ছিল। তাই পুলিশও আগে থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎপর ছিল। প্রথম থেকেই মোতায়েন ছিল জলকামান, টিয়ারগ্যাস। বিশাল বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে তিনবাত্তি মোড় এলাকায়। একাধিক ব্যারিকেড তৈরি করা হয়। বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় আগুন জ্বালাতে জ্বালাতে এগোতে থাকেন। ব্যারিকেড টপকানোর চেষ্টা করতেই পুলিশ বাধা দেয়। তাতেই রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
