ভারত এই বোর্ডের সদস্য হওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে। ইজরায়েল এবং প্যালেস্তাইন- দুই দেশেরই ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক যোগ রয়েছে। ইজরায়েলের সঙ্গে যেমন সামরিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে, তেমনই আবার সময়ে সময়ে প্যালেস্তাইনকে সাহায্য, ত্রাণ পাঠিয়েছে ভারত।

গাজাকে নতুনভাবে গড়বে 'বোর্ড অব পিস', ভারতকে আমন্ত্রণ ট্রাম্পের
ফাইল চিত্র

গাজায় শান্তি ফেরাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। সেই লক্ষ্যেই তিনি তৈরি করছেন বোর্ড অব পিস (Board of Peace)। দীর্ঘ যুদ্ধের পর গাজার পুনর্গঠন ও শাসন পরিচালনার জন্য এই বোর্ডে সামিল হতে আমন্ত্রণ জানানো হল ভারতকেও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)-কে এই মর্মে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়েছে, গাজা সংস্কারের মূল বোর্ডে থাকবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, এবং প্যালেস্তাইনের টেকনোক্রাট কমিটি। বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়ার, অর্থনীতিবিদ নিয়ে তৈরি হবে এই কমিটি। এছাড়া থাকবে দ্বিতীয় এগজেকিউটিভ বোর্ড, যারা মূলত পরামর্শদাতার ভূমিকায় থাকবে।




ভারত এই বোর্ডের সদস্য হওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে। ইজরায়েল এবং প্যালেস্তাইন- দুই দেশেরই ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক যোগ রয়েছে। ইজরায়েলের সঙ্গে যেমন সামরিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে, তেমনই আবার সময়ে সময়ে প্যালেস্তাইনকে সাহায্য, ত্রাণ পাঠিয়েছে ভারত। যখন ইজরায়েল-প্যালেস্তাইনের সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল বছর দুই আগে, তখন মিশরের রুট ধরে ভারতই প্রথম ত্রাণ পাঠিয়েছিল গাজাবাসীর জন্য।



এদিকে, প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানও দাবি করেছে যে তারা ট্রাম্পের আমন্ত্রণ পেয়েছেন গাজার বোর্ড অব পিসের সদস্য় হতে। তবে এনডিটিভি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভারতে ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজ়ার যদিও জানিয়েছেন যে ইজরায়েল গাজার ভবিষ্যৎ গঠনে পাকিস্তানকো কোনও ভূমিকায় গ্রহণ বা স্বীকার করবে না।

প্রসঙ্গত, ইজরায়েল-হামাসের মধ্যে সংঘর্ষ থামাতে মধ্যস্থতা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি তৈরি করেন পিস প্ল্যান ফর গাজা। ২০ পয়েন্টের এই পিস প্ল্যানেরই অংশ এই বোর্ড।

ট্রাম্পের এই শান্তি ফেরানোর পরিকল্পনা নিয়ে অনেক দেশের সরকারই সন্দিহান। বৈশ্বিক সংঘাত থামাতে তাঁর এই উদ্যোগ রাষ্ট্রপুঞ্জের কাজে ক্ষতি করতে পারে বলেই মত কূটনীতিক ও রাষ্ট্রদূতদের। ৬০টি দেশকে গাজার জন্য তৈরি এই বোর্ডে আমন্ত্রণ জানানো হলেও, হাঙ্গেরিই একমাত্র দেশ, যারা ট্রাম্পের এই আমন্ত্রণ স্বীকার করেছে। এখনও পর্যন্ত বাকি কোনও দেশের সরকারই এই বিষয়ে কোনও বিবৃতি দেয়নি।

আলাদাভাবে গাজা এগজেকিউটিভ বোর্ড নামে যে কমিটি তৈরি করে দিয়েছেন ট্রাম্প, তাতে রয়েছে তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদান, রাষ্ট্রপুঞ্জের মধ্য প্রাচ্যের শান্তি কোঅর্ডিনেটর সিগ্রিড কাগ, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আন্তর্জাতিক সহযোগীতা মন্ত্রী রিম আল-হাশিমি, ইজরায়েল-সাইপ্রাসের বাসিন্দা ধনকুবের ইয়াকির গাবায় এবং কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আধিকারিকরা।

এদিকে আবার ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর অফিস দাবি করেছে যে এই বোর্ড তৈরি এবং এর সদস্য কারা হবে, তা নিয়ে ইজরায়েলের সঙ্গে কোনও কথা হয়নি। ইজরায়েল চায় না গাজার কোনও বিষয়ে তুরস্ক থাকুক। সেখানেই সে দেশের বিদেশমন্ত্রীকে বোর্ডের সদস্য করায় চটেছেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ইজরায়েলের সঙ্গে কাতারের সম্পর্কও ভাল নয়।
Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours