২০২৬ সালের প্রথম কালাষ্টমী পড়ছে মাঘ মাসে। তবে এই বছরের ব্রত পালনের তারিখ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে— ব্রত কি ৯ জানুয়ারি রাখা হবে নাকি ১০ জানুয়ারি? শাস্ত্রীয় গণনা অনুযায়ী আপনার সেই সংশয় দূর করা হল এই প্রতিবেদনে।

জীবনকে একেবারে পাল্টে দিতে পারে কালাষ্টমীর ব্রত, জেনে নিন এর মাহাত্ম্য



হিন্দু ধর্মে কালাষ্টমী তিথির গুরুত্ব অপরিসীম। এই দিনটি ভগবান শিবের রৌদ্র অবতার ‘কালভৈরব’-এর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়। প্রতি মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে কালাষ্টমী পালিত হয়। ২০২৬ সালের প্রথম কালাষ্টমী পড়ছে মাঘ মাসে। তবে এই বছরের ব্রত পালনের তারিখ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে— ব্রত কি ৯ জানুয়ারি রাখা হবে নাকি ১০ জানুয়ারি? শাস্ত্রীয় গণনা অনুযায়ী আপনার সেই সংশয় দূর করা হল এই প্রতিবেদনে।

১০ জানুয়ারিই পালিত হবে কালাষ্টমী
পঞ্জিকা ও জ্যোতিষ গণনা অনুসারে অষ্টমী তিথির সময়সূচী নিম্নরূপ:


অষ্টমী তিথি শুরু: ১০ জানুয়ারি, শনিবার সকাল ৮টা ২৪ মিনিটে।

অষ্টমী তিথি শেষ: ১১ জানুয়ারি, রবিবার সকাল ১১টা ২১ মিনিটে।

যেহেতু কালাষ্টমীর বিশেষ পুজো নিশীথ কালে বা রাতে করা হয় এবং ১০ জানুয়ারি সূর্যোদয়ের পর থেকেই অষ্টমী তিথি থাকছে, তাই ১০ জানুয়ারি ২০২৬, শনিবারই কালাষ্টমীর ব্রত পালন করা হবে।

কালভৈরব পুজোর বিধি
কালাষ্টমীর দিন কালভৈরবের পুজো সম্পূর্ণ নিষ্ঠার সঙ্গে করা উচিত:

এদিন সকালে স্নান সেরে ব্রতের সংকল্প নিতে হয়।

পুজোর স্থানে শিব-পার্বতী এবং কালভৈরবের মূর্তির সামনে সর্ষের তেলের প্রদীপ জ্বালান।

কালভৈরবকে জিলিপি বা বিউলির ডালের বড়া (বড়া) অর্পণ করুন।

যেহেতু কালভৈরবের বাহন কুকুর, তাই এই দিনে কালো কুকুরকে মিষ্টি রুটি বা বিস্কুট খাওয়ানো অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।

কালাষ্টমীর মাহাত্ম্য
কালভৈরবকে ‘কাশীর কোতোয়াল’ বলা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী: ১. কালভৈরবের আরাধনা করলে অকাল মৃত্যু ও যে কোনো অমঙ্গলের ভয় দূর হয়। ২. ঘর থেকে নেতিবাচক শক্তি এবং কুনজর বা অশুভ দৃষ্টির দোষ কেটে যায়। ৩. শনি, রাহু ও কেতুর অশুভ প্রভাব কমাতেও কালাষ্টমীর ব্রত অত্যন্ত ফলদায়ক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঘ মাসের এই প্রথম কালাষ্টমী ভক্তিভরে পালন করলে গোটা বছর মানসিক শান্তি এবং শত্রুর হাত থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours