সোমবার সকালে ব্যাঙ্কশাল আদালতে আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে যান নওশাদ। তিনি শওকতের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা রুজু করেন। কিন্তু কেন শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা? 

আমাকে অফার করে, আমি প্রত্যাখ্যান করি', শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে এবার মামলা নওশাদের
ব্যাঙ্কশাল আদালতে নওশাদ সিদ্দিকি

ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার গ্রামীণ জনপদ ভাঙড়ের নাম বাংলার রাজনীতিতে বার বার উচ্চারিত হচ্ছে। বারবার আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি, তাঁর দাদা পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকের বিরুদ্ধের। বলাইবাহুল্য, সরাসরি আব্বাসকেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ছেন শওকত। এবার বিস্ফোরক দাবি বিধায়ক নওশাদের। তিনি দাবি করলেন, বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তৃণমূলের বিধায়ক শওকত মোল্লা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করার অফার দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, মন্ত্রিত্ব দেওয়ার প্রস্তাবও করা হচ্ছে শাসকদলের পক্ষ থেকে। সোমবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লা বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করলেন নওশাদ সিদ্দিকি।

সোমবার সকালে ব্যাঙ্কশাল আদালতে আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে যান নওশাদ। তিনি শওকতের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা রুজু করেন। কিন্তু কেন শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা?



ময়নাতদন্তকারী অফিসারকে ফোন পুলিশের, কল রিপোর্ট দেখে বিস্মিত কলকাতা হাইকোর্ট
নওশাদ সিদ্দিকি বলেন, “শওকত মোল্লা তাঁর বক্তব্যের এক জায়গায় বলেছেন, আমি নাকি বিজেপির কাছ থেকে ৩০ কোটি টাকা নিয়েছি। এই মর্মে আমার নামে মিথ্যাচার করছেন। পাবলিত ডমেনে আমার সম্মানহানি করছেন। আমি তো শওকত মোল্লার এই কথার উত্তর তো ওনার ভাষায় দিতে পারি না। তাই আমি আইনি ভাষায় উত্তর দিচ্ছে। আইনের মাধ্যমে শওকত সাহেবের কাছ থেকে জানতে চাইছি। কবে কোথায় টাকা নিয়েছি, ৫০০ টাকার নোট নাকি ১০০০ টাকার নোট নিয়েছি, কার মাধ্যমে নিয়েছি, কোর্ট কেসে জানান।” তিনি জানিয়েছেন, ক্রিমিন্যাল সাইট থেকে মামলা করেছেন। শওকত মোল্লাকে জবাব দিতে হবে। তিনি বলেন, “যে যা খুশি বলে বেরিয়ে যাবেন, সেটা তো হতে পারে না। আমাকে ১৯টা মিথ্যা কেস দিয়েছে। সেটা মাথায় নিয়ে লড়াই চালাচ্ছি। অফার দিয়ে যখন আমাকে আটকাতে পারছে না, সামাজিকভাবে আমার মানসম্মান খারাপ করতে চাইছে। আমি স্বচ্ছ আছি, আত্মবিশ্বাস আছে, আইনের মাধ্যমে জবাব চাইছি।”

কিন্তু কেনই নওশাদ সিদ্দিকিকে টার্গেট? প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “বিজেপির যেখানে ৭৭টা বিধায়ক, কোনও সমস্যা নেই। পর্যবেক্ষক নেই। আইএসএফের একজন বিধায়কের জন্য কেন? আসলে আইএসএফের একজন বিধায়কই বুঝিয়ে দিচ্ছে, বিজেপি-তৃণমূলের সমঝোতাটা কোথায়? আমাকে প্রথমে অফার করেছে, প্রত্যাখান করেছি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিল, ৪২ দিন জেল খেটেছি। একবার ২৪ ঘণ্টা জেল খাটাল, তারপর যখন ওদের কাছে মাথানত করছি না, ওরা তখন সামাজিক মাধ্যমকেই আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে চাইছে। ”

নওশাদ সিদ্দিকির অভিযোগ, শওকত মোল্লা যে অভিযোগ করেছেন, সেই অভিযোগ শওকত মোল্লা কে আদালতে প্রমাণিত করতে হবে।

নওশাদ সিদ্দিকী কত কত টাকা নিয়েছেন অভিযোগ ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে তিনি লড়াই করবেন। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা যখন রাজনীতিক ভাবে মুকাবিলা করতে পারছে না তখন তাকে সামাজিক ভাবে অপদস্ত করার চক্রান্ত করছে বলে পাল্টা অভিযোগ নওশাদ সিদ্দিকীর ।
Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours