হারিয়ে যাওয়া মুখোশের শিল্পে নতুন প্রাণ নামখানার আর্ট এন্ড ক্রাফটের উদ্যোগে খুশি মানুষ

দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানায় হারিয়ে যেতে বসা মুখোশ তৈরির শিল্প আজ নতুন করে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে এখানকার আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট সেন্টারে।

একসময় এই মুখোশের আলাদা গুরুত্ব ছিল। সুন্দরবনের মৌলেরা যখন জঙ্গলে মধু সংগ্রহে যেতেন, তখন বাঘের হাত থেকে রক্ষার জন্য মাথায় পরতেন মুখোশ। তাঁদের বিশ্বাস ছিল, বাঘ মানুষকে সামনে থেকে আক্রমণ করতে ভয় পায়, আর সেই বিশ্বাসেই বনজীবনে মুখোশ ছিল অপরিহার্য। অন্যদিকে, গ্রামীণ যাত্রাশিল্প ও পালাগানের নাট্যমঞ্চেও বিভিন্ন চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলতে এই মুখোশ ব্যবহার হতো।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই মুখোশ তৈরির শিল্প ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছিল। কারিগররা কাজ ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গিয়েছিলেন।
এবার আবার সেই শিল্পকেই বাঁচাতে এগিয়ে এসেছে নামখানার কয়েকজন শিল্পী। তাঁরা শুধু যাত্রার মুখোশই নয়, বিখ্যাত ছৌ নাচের মুখোশও তৈরি করছেন। বাঁশ, মাটি, কাপড়, রঙ আর তুলি দিয়ে তৈরি এই মুখোশগুলোতে ফুটে উঠছে পুরনো ঐতিহ্যের ছোঁয়া।

স্থানীয় মানুষও এই উদ্যোগে আনন্দিত। এলাকার এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “আমাদের ছোটবেলায় যাত্রা বা পুজোর সময় মুখোশের কদর ছিল ভীষণ। এখনকার প্রজন্মকে সেই ঐতিহ্য আবার চোখে দেখাতে পারব ভেবে খুব ভালো লাগছে।”

এই উদ্যোগ শুধু সংস্কৃতি রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের জন্যও কর্মসংস্থানের পথ খুলে দিচ্ছে। অনেকে শখের বসে মুখোশ কিনছেন, আবার পর্যটকরা স্মারক হিসেবেও নিয়ে যাচ্ছেন।

সংস্কৃতিবিদদের মতে, এই ধরণের প্রকল্প যদি প্রশাসনিক ও সামাজিকভাবে আরও সমর্থন পায়, তাহলে শুধু নামখানা নয়, গোটা দক্ষিণবঙ্গের লোকসংস্কৃতি আবারও পরিচিতি পাবে দেশ-বিদেশে।


স্টাফ রিপোর্টার মুন্না সরদার
Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours