সম্প্রতি, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ হাইকোর্টে একটি মামলা করেন বেশ কয়েকজন চিকিৎসক। তাঁরা, একটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। ২০২০ সালের জম্মু-কাশ্মীর মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল এডুকেশন বিধির আওতায় কাজ করছিলেন। মামলাকারীদের অভিযোগ, তাঁদের মাতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়া হলেও বেতন দেওয়া হয়নি। এই মামলা ওঠে বিচারপতি রাজনেশ ওসওয়ালের বেঞ্চে। শনিবার সেই মামলারই শুনানি ছিল।
মাতৃত্বকালীন ছুটি দয়া নয়, মহিলাদের সাংবিধানিক অধিকার', পর্যবেক্ষণ জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্টের
প্রতীকী ছবি
মাতৃত্বকালীন ছুটি (Maternity Leave) কোনও দয়া বা অনুগ্রহ নয়, এটি মহিলাদের সাংবিধানিক অধিকার। সম্প্রতি, একটি মামলায় এমনই মন্তব্য করেছে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ হাইকোর্ট (Jammu & Kashmir and Ladakh High Court)। একইসঙ্গে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মাতৃত্বকালীন ছুটিতে বেতন (Paid Maternity Leave) বন্ধ রাখা যাবে না। প্রশাসনিক নির্দেশ জারি করে এই অধিকার কেড়ে নেওয়াও অসাংবিধানিক বলে জানিয়েছেন বিচারপতি।
মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে মামলা
সম্প্রতি, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ হাইকোর্টে একটি মামলা করেন বেশ কয়েকজন চিকিৎসক। তাঁরা, একটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। ২০২০ সালের জম্মু-কাশ্মীর মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল এডুকেশন বিধির আওতায় কাজ করছিলেন। মামলাকারীদের অভিযোগ, তাঁদের মাতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়া হলেও বেতন দেওয়া হয়নি। এই মামলা ওঠে বিচারপতি রাজনেশ ওসওয়ালের বেঞ্চে। শনিবার সেই মামলারই শুনানি ছিল।
অ্যাকাউন্টে ৭০০ কোটি! অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা তুলতে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ মহিলার
মামলাকারীদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৮ জুলাই রাজ্য সরকার একটি নির্দেশিকা জারি করে সিনিয়র রেসিডেন্ট ও টিউটরদের মাতৃত্বকালীন ছুটির সুবিধা দেওয়ার কথা জানায়। পরে ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর আরও একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়। সেখানে জানানো হয়, মাতৃত্বকালীন ছুটির সময় তাঁরা ‘আউট অফ অ্যাসাইনমেন্ট’ থাকবেন। সেই কারণ দেখিয়ে তাঁদের বেতন ও ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
মহিলা চিকিৎসকদের দাবি ছিল, মাতৃত্বকালীন ছুটি নিলে বেতন বন্ধ হয়ে যাবে, এমন কোনও তথ্য তাঁদের আগে জানানো হয়নি। তাঁদের আইনজীবীর বক্তব্য, ২০২৪ সালের সরকারি নির্দেশ অনুসারেই মাতৃত্বকালীন ছুটির সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, আর সেই বিধিতে বেতন-সহ ছুটির স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে, প্রশাসনের দাবি, আবেদনকারীরা স্থায়ী সরকারি কর্মী নন। তাঁরা মূলত চুক্তিভিত্তিক কর্মী। তাই বেতন-সহ মাতৃত্বকালীন ছুটির অধিকার তাঁদের নেই। ছুটির পরে চাকরির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে শুধুমাত্র তাঁদের প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করার জন্য।
আদালতের মন্তব্য
তবে প্রশাসনের এই যুক্তি খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। আদালত জানায়, ২০২৪ সালের সরকারি নির্দেশে স্পষ্টভাবে সিনিয়র রেসিডেন্ট ও টিউটরদের মাতৃত্বকালীন ছুটির সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ফলে, তাঁরা শুধু ছুটিই নন, সেই সময়ের পূর্ণ বেতন ও ভাতাও পাওয়ার অধিকারী। বিচারপতির মন্তব্য, “মাতৃত্বকালীন ছুটিকে কোনওভাবেই সরকারি দয়ার বিষয় হিসেবে দেখা যায় না। এটি নারীর মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত এক অবিচ্ছেদ্য সাংবিধানিক অধিকার। ছুটির অধিকার থাকলে পূর্ণ বেতনও তার স্বাভাবিক অংশ। প্রশাসনিক নির্দেশ দিয়ে সেই অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না।”
এরপরই আদালত ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবরের সরকারি নির্দেশ বাতিল করে জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে, আবেদনকারী মহিলা চিকিৎসকদের মাতৃত্বকালীন ছুটির পুরো সময়ের বেতন ও সমস্ত ভাতা দ্রুত মিটিয়ে দিতে হবে।


Post A Comment:
0 comments so far,add yours