এই বিলের তুমুল বিরোধিতা করে বিরোধীরা। আলোচনার পর যখন উপস্থিত ৫২৮ সাংসদের মধ্যে ভোটাভুটি হয়, তখন দেখা যায় বিলের সপক্ষে ভোট দিয়েছেন ২৯৮ জন সাংসদ, বিরোধিতা করেছেন ২৩০ জন সাংসদ।

 সংসদে 'ফেল' সংবিধান সংশোধনী বিল, কেন্দ্রের আনা বাকি দুই বিলের কী হল?
সংসদে পাশ করল না সংবিধান সংশোধনী বিল।

সংসদে ‘ফেল’ করল কেন্দ্র। পাশ করানো গেল না ১৩১ তম সংবিধান সংশোধনী বিল। সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছিল এই বিল পেশ ও পাশ করানোর জন্যই, কিন্তু দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায়, সেই বিল পাশ করতে পারল না। কেন্দ্রের তরফে সংবিধান সংশোধনী বিলের পাশাপাশি আরও দুটি বিল- আসন পুনর্বিন্যাস বিল (Delimitation Bill) ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধনী) বিল (Union Territories Laws Amendment Bill) আনা হয়েছিল। সেই দুই বিলের কী হল?

মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের জন্য ২০২৩ সালেই সর্বসম্মতিতে পাশ করানো হয়েছিল মহিলা সংরক্ষণ বিল। নাম ছিল নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম (Nari Shakti Vandan Adhiniyam)। তবে তা তখন আইনে পরিণত হয়নি। কেন্দ্র এবার মহিলা সংরক্ষণ বিলে কিছু পরিবর্তন, সংরক্ষণ করতেই এনেছিল ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল। এই বিলের সঙ্গেই সম্পর্কিত আসন পুনর্বিন্যাস বিল ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধনী) বিল।


হরমুজ প্রণালীতে ঢুকতেই পরপর গুলি! ফিরে গেলে ভেসেল
এই বিলের তুমুল বিরোধিতা করে বিরোধীরা। আলোচনার পর যখন উপস্থিত ৫২৮ সাংসদের মধ্যে ভোটাভুটি হয়, তখন দেখা যায় বিলের সপক্ষে ভোট দিয়েছেন ২৯৮ জন সাংসদ, বিরোধিতা করেছেন ২৩০ জন সাংসদ। সংবিধান সংশোধনের জন্য দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন ছিল। অর্থাৎ বিলের সপক্ষে ৩৫২টি ভোটের দরকার ছিল, যা মেলেনি। গতকাল বিজেডি (BJD) সাংসদ তথা ওড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক, যিনি এতদিন এনডিএ-কে সমস্ত বিল পাশ করানোর ক্ষেত্রে সমর্থন জানিয়ে এসেছেন, তিনিও তাঁর দলের সকল সাংসদদের নিয়ে উপস্থিত ছিলেন আসন পুনর্বিন্যাস বিলের বিরোধিতা করতে।

প্রসঙ্গত, লোকসভায় ২৯৩ জন সাংসদ আছে বিজেপি শাসিত এনডিএ-র। সেখানেই বিরোধীর সংখ্যা ২৩৩। রাজ্যসভায় এনডিএ-র ১৪১ জন সদস্য আছে, যা রাজ্যসভার আসনের ৫৮ শতাংশ। সেখানেই বিরোধীদের মাত্র ৮৩ জন সাংসদ রয়েছে।

জানা গিয়েছে, সংবিধান সংশোধনী বিল লোকসভায় পাশ করাতে ব্যর্থ হওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকার বাকি দুই বিল অর্থাৎ আসন পুনর্বিন্যাস বিল (Delimitation Bill) ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধনী) বিল (Union Territories Laws Amendment Bill) নিয়ে আর এগোবে না।

বৃহস্পতিবারই আইনে পরিণত করা হয়েছে ২০২৩ সালে পাশ মহিলা সংরক্ষণ বিলকে। ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়ার জন্য এই মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করতে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধনী) বিল পাশ করানো জরুরি ছিল। এবার কেন্দ্র কী পদক্ষেপ করে, তাই-ই দেখার।
Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours