চারবারের তৃণমূল বিধায়কের এহেন বিতর্কিত মন্তব্য মুহূর্তে ভাইরাল হয়। পরে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে ফোন করলে সমস্যা মিটে যায় বলে পরের দিন সাংবাদিকদের ডেকে জানান বিদায়ী বিধায়ক। এরপর ওইদিন জেলা সভাপতি মহুয়া গোপের উপস্থিতিতে অনুগামীদের নিয়ে এলাকায় মিছিলও করেন খগেশ্বর।
প্রার্থীর কর্মিসভাতে ‘অ্যাবসেন্ট’ বিদায়ী বিধায়ক? লাভের অঙ্ক কষতে শুরু করে দিল বিজেপি
রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে
ভোটের মুখে অস্বস্তি বেড়েই চলছে শাসকদলের। প্রার্থী ঘোষণা হয়ে গেলেও রাজগঞ্জ বিধানসভায় ফের প্রকাশ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। যদিও এই ইস্যুতে স্পিকটি নট খগেশ্বর শিবির। তবে এবার বিতর্ক ধামা চাপা দিতে সাফাই দিলেন খোদ কৃষ্ণ দাস।
তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ দাস এবং বিধায়ক খগেশ্বর রায় এর মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক যে একেবারে আদায় কাঁচকলায় তা নিয়ে চর্চা দীর্ঘদিনের। রাজগঞ্জ বিধানসভা আসনে এবার আর টিকিট পাননি চারবারের বিধায়ক খগেশ্বর রায়। টিকিট না পাওয়া নিয়ে কৃষ্ণ দাসের হাত রয়েছে, নাম না করে এমনই ইঙ্গিত দিয়ে জেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে থেকে পদত্যাগ করেছিলেন খগেশ্বর। তার অনুগামীরাও বিভিন্ন পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। এমনকি সেদিন ক্ষুব্ধ খগেশ্বরকে বলতে শোনা গিয়েছিল, তিনি টাকার কাছে হেরে গেলেন। তা নিয়ে রাডনৈতিক মহলে চর্চা কম হয়নি।
কামদুনির টুম্পা কয়াল কি এবার বিজেপির প্রার্থী? শমীকের সঙ্গে সাক্ষাতে বাড়ছে জল্পনা
চারবারের তৃণমূল বিধায়কের এহেন বিতর্কিত মন্তব্য মুহূর্তে ভাইরাল হয়। পরে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে ফোন করলে সমস্যা মিটে যায় বলে পরের দিন সাংবাদিকদের ডেকে জানান বিদায়ী বিধায়ক। এরপর ওইদিন জেলা সভাপতি মহুয়া গোপের উপস্থিতিতে অনুগামীদের নিয়ে এলাকায় মিছিলও করেন খগেশ্বর। এরইমধ্যে শনিবার বিকেলে দলের অবজারভার কৃষ্ণ দাসের তরফে রাজগঞ্জ বিধানসভার শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের হরিমন্দির ভবনে কর্মী সভা ডাকা হয়। কিন্তু সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন না খগেশ্বর রায় সহ তাঁর কোনও অনুগামীরাই। আর এতেই নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে রাজগঞ্জ বিধানসভাতে।
সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিধানসভার অবজারভার তথা জলপাইগুড়ি সদর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী কৃষ্ণ দাস। কিন্তু বিদায়ী বিধায়কের এই অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির তরফে বিষয়টিকে নিয়ে কটাক্ষ করলেও তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ দাস তাতে গুরুত্ব দিতে নারাজ।
কৃষ্ণ দাস যদিও বলছেন, রাজগঞ্জের প্রার্থী স্বপ্না বর্মনের সমর্থনে এই কর্মিসভা। প্রচুর কর্মী এসেছেন। খগেশ্বর রায় প্রসঙ্গে উঠতেই বলেন, নির্বাচনী প্রচারে জেলায় আসছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই হয়তো খগেশ্বরবাবু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। পাশাপাশি খগেশ্বর অনুগামী ব্লক সভাপতি অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিত থাকা নিয়ে বলেন, “নিশ্চয়ই কিছু কাজ থাকায় তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি।”
তবে এই ইস্যুতে তৃণমূল কে খোঁচা দিতে ছাড়েননি বিজেপির রাজগঞ্জ বিধানসভার কনভেনার তপন রায়। উল্টে লাভের অঙ্ক কষে বলছেন, “খগেশ্বর ও কৃষ্ণর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ। ওই বিবাদ কোনওদিন মিটবেও না। কৃষ্ণ খগেশ্বরের নাম কেটে দিয়েছে। তাই এবার খগেশ্বর শিবির ভোটে নামবে না। এতে বিজেপির খুবই সুবিধা হবে।”


Post A Comment:
0 comments so far,add yours