২০২৬–এর আগে পাথর প্রতিমায় তৃণমূলের ঘাঁটিতে বিজেপির ঝাঁপ, সরব দিলীপ ঘোষ
পাথরপ্রতিমা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। সেই আবহেই বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা বিধানসভা এলাকার রাজরাজেশ্বরপুর ১০৪ নম্বর বুথে জনসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। রাজনৈতিক মহলের মতে, এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
সকাল থেকেই বুথভিত্তিক কর্মসূচিকে ঘিরে কর্মী-সমর্থকদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয় নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করেন দিলীপ ঘোষ। বিভিন্ন পাড়ায় ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। কারও উঠোনে বসে, কোথাও বা বাড়ির চৌকাঠে দাঁড়িয়ে এলাকার রাস্তা-ঘাট, পানীয় জল, বিদ্যুৎ ও কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যায় তাঁকে।
দিলীপ ঘোষ বলেন, “২০২৬–এর আগে আমরা প্রতিটি বুথে পৌঁছতে চাই। মানুষের সমস্যার কথা সরাসরি শুনে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করাই আমাদের লক্ষ্য।” তাঁর দাবি, গ্রামীণ এলাকায় এখনও একাধিক মৌলিক সমস্যা রয়ে গেছে, যার সমাধানে প্রয়োজন ধারাবাহিক জনসংযোগ।
কর্মসূচির ফাঁকে একটি স্থানীয় পরিবারের আমন্ত্রণে তাঁদের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজও সারেন তিনি। পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
এদিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়–এর নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত মন্তব্য নিয়েও প্রতিক্রিয়া দেন দিলীপ ঘোষ। মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনকে ‘তুঘলকি কমিশন’ বলে কটাক্ষ করেছেন বলে দাবি করে তিনি বলেন, “রাজ্যে তুঘলকি শাসন চলছে। যাঁরা এতদিন জাল ভোটে জিতেছেন, এখন তাঁদের অস্বস্তি হচ্ছে বলেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে সম্মান করা উচিত। বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাজারে মাছ-মাংস-ডিম বিক্রি বন্ধ হয়ে যাবে—এই দাবিকেও তিনি উড়িয়ে দেন।
২০২৬–এর আগে পাথরপ্রতিমার মতো উপকূলবর্তী এলাকায় এই ধরনের জনসংযোগ কর্মসূচি ভবিষ্যতের ভোট রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার।


Post A Comment:
0 comments so far,add yours