এরপর সেই আধার কার্ড ও ভোটার কার্ডে লেখা বয়সের নিরিখে জেলাশাসক তাঁর চাকরি তাঁকে ফিরিয়ে দেয়। কর্মহীন হয়ে পড়েন প্রমিলা। দ্বারস্থ হন উচ্চ আদালতে। তারপর হিরলিবাইয়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করে উচ্চ আদালত।


নির্বাচন কমিশনের দৌলতে এই প্রসঙ্গ অজানা নয়। নাগরিকত্ব কবেই গিয়েছিল, এবার জন্মের প্রমাণ বাদ। জানিয়ে দিল হাইকোর্ট। আধারের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া যাবে না জন্ম প্রমাণ। অর্থাৎ জন্ম তারিখের প্রমাণ হিসাবে কাজ করবে শুধুমাত্র জন্ম শংসাপত্রই।


মঙ্গলবার এমনই নির্দেশ দিয়েছে মধ্য় প্রদেশ হাইকোর্টের বিচারপতি জয় কুমার পিল্লাইয়ের সিঙ্গল বেঞ্চ। তাঁর পর্যবেক্ষণ, ‘এটা স্পষ্ট যে আধার কার্ড এবং ভোটার কার্ড জন্ম তারিখের প্রমাণপত্র হিসাবে বিবেচিত হতে পারে না। এই নথিগুলি স্বঘোষণার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়ে থাকে এবং শুধুমাত্র পরিচয় বা শনাক্তকরণের কাজেই ব্য়বহৃত হয়।’


মামলার নেপথ্যে
ঘটনার সূত্রপাত একটি অঙ্গনওয়াড়ি সহায়কের পদ ঘিরে। মধ্য় প্রদেশের ধর জেলা। সম্প্রতি সেখানে প্রমিলা নামে একজনকে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সহায়কের পদে নিয়োগ করা হয়। ওই কেন্দ্রে একটি পদ ছিল। হিরলিবাই নামে এক কর্মী অবসরগ্রহণের পর সেই পদে প্রমিলা আসেন।


এই ঘটনার দু’বছর পর হিরলিবাই দ্বারস্থ হন ধর জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসকের কাছে। সেখানে তিনি দাবি করেন, আধার কার্ডে তাঁর জন্ম তারিখ ভুল রয়েছে। তাঁর এখনও অবসরগ্রহণের বয়স হয়নি। এরপর সেই আধার কার্ড ও ভোটার কার্ডে লেখা বয়সের নিরিখে জেলাশাসক তাঁর চাকরি তাঁকে ফিরিয়ে দেয়। কর্মহীন হয়ে পড়েন প্রমিলা। দ্বারস্থ হন উচ্চ আদালতে। তারপর হিরলিবাইয়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করে উচ্চ আদালত।

আদালতের পর্যবেক্ষণতাঁকে আবার পুনরায় নিয়োগ করা হলে তৃতীয় পক্ষের প্রতি অবিচার করা হবে।’ পাশাপাশি, আদালত এই বিষয়টিও স্পষ্ট করেছে যে, অবসরগ্রহণ করা হিরলিবাই তাঁর অফিসিয়াল সার্ভিস রেকর্ডে যে জন্ম তারিখের কথা উল্লেখ করেছিলেন, সেই ভিত্তিতে অবসরগ্রহণ করেছেন। তাই এটাকেই চূড়ান্ত বলে গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি প্রমিলাকে পুনরায় চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত।
Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours