তবে তৃণমূলেরই এক বিএলএ নেতৃত্বের রিপোর্টকে মানতে নারাজ। বহরমপুর ১৩৬ নম্বর পার্ট তৃণমূলের বিএলএ ২ পবিত্র চট্টোপাধ্যায় বলেন, "এটা তো ঠিক নয়। যেহেতু আমার এখানেই বাড়ি। আমার বুথের সকলেই আমার পরিচিত। আমি থাকছি, তাতে বিএলও-র কাজ করতে অনেকটাই সুবিধা হচ্ছে।"


তৃণমূলের বিএলএ ২-র পারফরমেন্সে খামতি! রিপোর্ট সামনে আসতেই বিতর্ক
মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের BLA 2-র পারফরমেন্স খারাপ


মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের বিএলএ-২ এর পারফরমেন্স সবচেয়ে খারাপ। দলীয় নেতৃত্বের দেওয়া রিপোর্টে তেমনটাই উল্লেখ রয়েছে। ১০০ শতাংশ বিএলএ ২ থাকলেও, তাঁদের নাকি কাজে অনীহা রয়েছে। বিএলএ ২-দের ঠিক মতো কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে জেলা নেতৃত্ব। আর এই নিয়ে জেলা নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুললেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।

জানা যাচ্ছে, মুর্শিদাবাদে তৃণমূল ১০০ শতাংশ বুথে বিএলএ ২ নিয়োগ করেছে। কিন্তু রিপোর্ট বলছে, তাঁদের পারফরমেন্সে চিন্তায় জেলা নেতৃত্ব। জেলা নেতৃত্বের তরফে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, গোটা রাজ্যের মধ্যে মুর্শিদাবাদেই তৃণমূলের বিএলএ-২ দের কাজ সবচেয়ে খারাপ। আর সেই রিপোর্ট সামনে আসতেই জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আবারও ফ্রন্ট ফুটে ছক্কা হাকিয়েছেন হুমায়ুন কবীর।



হুমায়ুনের বক্তব্য, “এতদিন ফেসবুকে নেতা সেজেই তো তাঁদের সব চলছিল। এখন আর এসব কীভাবে করবে!” মুর্শিদাবাদে মোট বুথ ৪ হাজার ২০০। সব কটি বুথে বিএলএ ২ নিয়োগ করেছে তৃণমূল। কংগ্রেস ও সিপিএম দু’দলই ৯০ শতাংশ বুথে বিএলএ ২ নিয়োগ করতে পেরেছে। বিজেপি করেছে কেবল ৬০ শতাংশ বুথে। কিন্তু তৃণমূল কর্মীরা পারফরমেন্সে নেতাদের মন কাড়তে পারেনি। এর প্রেক্ষিতে মুর্শিদাবাদের বিএলএ ২ উদ্দেশে চিঠি দিয়েছে বহরমপুর মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা। পারফরমেন্সে খামতির কথা মেনে নিয়েছেন সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান ও বিধায়ক নিয়ামত শেখ। তাঁর বক্তব্য, “প্রশিক্ষণ নিয়েছে। তবে ওদের হয়তো অনেকে ঠিক মতো কাজটা বুঝতে পারেনি। ধীরে ধীরে আমরা সমাধানের জায়গায় যাচ্ছি। আরও তো কিছুটা সময় রয়েছে।”

তবে তৃণমূলেরই এক বিএলএ নেতৃত্বের রিপোর্টকে মানতে নারাজ। বহরমপুর ১৩৬ নম্বর পার্ট তৃণমূলের বিএলএ ২ পবিত্র চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এটা তো ঠিক নয়। যেহেতু আমার এখানেই বাড়ি। আমার বুথের সকলেই আমার পরিচিত। আমি থাকছি, তাতে বিএলও-র কাজ করতে অনেকটাই সুবিধা হচ্ছে।”

যদিও এটাকেই বিদ্রু করেছে বিজেপি। স্থানীয় বিজেপি নেতার বক্তব্য, “নীচু স্তরের নেতা থেকে শুরু করে উঁচু স্তরের নেতারা, প্রত্যেকেই ধরে নিয়েছে পুলিশ বোধ হয় থাকবে, প্রশাসনিক আধিকারিকরা থাকবে, মস্তান থাকবে, ভোট আমাদের হয়ে যাবে। ভোটার লিস্ট নিয়ে আর মাথা ঘামাচ্ছেন না। ওরা আত্মতুষ্টিতে ভুগছে।”

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে মুর্শিদাবাদের ২২ টি আসনের ১৪টি এগিয়ে ছিল তৃণমূল। ৩ টিতে বিজেপি, চারটিতে কংগ্রেস এগিয়ে ছিল। একটি ছিল সিপিএমের। বছর ঘুরলে বিধানসভা নির্বাচন। তৃণমূল নেতৃত্ব কড়া নির্দেশ দিয়েছে, বিএলএ-দের মানুষের পাশে থাকতে।
Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours