যে রাস্তা দিয়ে ওই অধ্যাপক বাড়িতে ফিরছিলেন, সেই রাস্তা আটকে বাইক দাঁড় করিয়ে একদল যুবককে প্রকাশ্যে মদ্যপান করতে দেখেন অধ্যাপক। রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি যুবকদের এভাবে প্রকাশ্যে মদ্যপান করার প্রতিবাদ জানান তিনি।
বাঁকুড়ায় রাস্তায় মদ্যপানের প্রতিবাদ করায় অধ্যাপককে বেধড়ক মারধর, প্রতিবাদে রাস্তায় আদিবাসী সমাজ
অধ্যাপককে মারধরের প্রতিবাদ আদিবাসী সমাজের
উত্তর ২৪ পরগনার বেলঘরিয়ায় মদ্যপানের প্রতিবাদ করায় শিক্ষককে মারধরের ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এক অধ্যাপককে মারধরের ঘটনা সামনে এল। রাস্তার উপর বাইক দাঁড় করিয়ে একদল যুবককে মদ খেতে দেখে প্রতিবাদ করেছিলেন ওই অধ্যাপক। অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় জুটেছিল চড়, থাপ্পড়। ঘটনাটি গত ১৪ অগস্ট রাতের। থানায় অভিযোগও জানিয়েছিলেন নিগৃহীত আদিবাসী অধ্যাপক। তারপরও পুলিশ উপযুক্ত পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ তুলে রবিবার ধিক্কার মিছিল করে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন এলাকার আদিবাসী মানুষেরা। ঘটনাটি বাঁকুড়ার বেলিয়াতোড়ের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ার বেলিয়াতোড় যামিনী রায় কলেজের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মার্শাল সোরেন ১৪ অগস্ট রাত সাড়ে দশটা নাগাদ বাজারে নিজের কাজ সেরে বেলিয়াতোড়ের ভাড়াবাড়িতে ফিরছিলেন। যে রাস্তা দিয়ে ওই অধ্যাপক বাড়িতে ফিরছিলেন, সেই রাস্তা আটকে বাইক দাঁড় করিয়ে একদল যুবককে প্রকাশ্যে মদ্যপান করতে দেখেন অধ্যাপক। রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি যুবকদের এভাবে প্রকাশ্যে মদ্যপান করার প্রতিবাদ জানান তিনি। আর তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে যুবকেরা। প্রথমে বচসা শুরু হয়। তারপরই ওই যুবকরা অধ্যাপককে চড়, থাপ্পড় মারতে শুরু করে বলে অভিযোগ। কোনওরকমে সেখান থেকে বাড়ি ফেরেন ওই অধ্যাপক। পরে বেলিয়াতোড় থানায় লিখিত অভিযোগ জানান।
অধ্যাপক মার্শাল সোরেন
নিগৃহীত অধ্যাপক মার্শাল সোরেন বলেন, “আমার বাড়ি যাওয়ার পথেই রাস্তায় বাইক দাঁড় করিয়ে মদ্যপান করছিলেন কয়েকজন। আমি তাঁদের ভালভাবেই বাইক সরাতে বলি। তখন আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ দিতে থাকে। চড়, থাপ্পড় মারতে থাকে।” দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “এই হামলা পূর্বপরিকল্পিত বলে আমার মনে হয়। কারণ, আমি যে অধ্যাপক, সেটা তাঁরা জানতেন।”
অধ্যাপকের উপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহলের জেলা আহ্বায়ক বিপ্লব সোরেন বলেন, “রাস্তায় মদ্যপানের প্রতিবাদ করায় একজন আদিবাসী অধ্যাপককে নিগ্রহ করা হয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়ে ধিক্কার মিছিল করেছি। IC-র কাছে জানতে চেয়েছিলাম, এই ঘটনার তদন্ত কতদূর এগিয়েছে।” উপযুক্ত পদক্ষেপ করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।


Post A Comment:
0 comments so far,add yours