এবার একসঙ্গে গ্রিন লাইন, অরেঞ্জ লাইন ও ইয়েলো লাইনে মেট্রো চালু হচ্ছে। ২২ অগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একসঙ্গে তিন রুটের উদ্বোধন করবেন। ইতিমধ্যেই সেই ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। বিলি হচ্ছে আমন্ত্রণপত্রও। কোথা থেকে কোথায় জুড়বে এই মেট্রো পথ?

বাংলায় মেট্রো বিপ্লব! আরও ছোট হয়ে যাচ্ছে কলকাতা


অফিস ফেরত জ্যামে আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে না। মেট্রোয় চেপে হুস করে পৌঁছে যাবেন গন্তব্যে। কলকাতা মেট্রোর মুকুটে জুড়ছে একসঙ্গে তিনটে পালক। একই দিনে চালু হচ্ছে তিনটি রুটের মেট্রো। জুড়বে কলকাতার বিভিন্ন প্রান্ত। দারুণ সুবিধা হবে যাত্রীদের। কমবে যানজটও। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, কোন কোন রুটে নতুন মেট্রো চালু হচ্ছে? কতটাই বা সুবিধা হবে যাত্রীদের।


ভারতে প্রথম মেট্রো রেল ছুটেছিল কলকাতায়। সালটা ছিল ১৯৮৪। এসপ্ল্যানেড থেকে ভবানীপুর (নেতাজি ভবন) পর্যন্ত মেট্রো চালু হয়েছিল। এটাই শহরাঞ্চলে পরিবহনের অন্যতম মাইলফলক ছিল। এরপরে ধাপে ধাপে দিল্লি, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই মুম্বই, হায়দরাবাদেও মেট্রো পরিষেবা চালু হয়। বর্তমানে বিশ্বের মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম নেটওয়ার্ক ভারতের মেট্রো নেটওয়ার্ক।


‘মেট্রোর উদ্বোধন হোক, সঙ্গে আমাদের বাড়িও ফিরুক’, মোদী আসার আগে বলছেন বউবাজারের বাসিন্দারা
কলকাতার মেট্রো নেটওয়ার্কে দীর্ঘদিন পর্যন্ত একটাই লাইন ছিল। ব্লু লাইনে টালিগঞ্জ থেকে দমদম পর্যন্ত মেট্রো চলত। উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতার সংযোগকারী এই রুটে পরে দুই দিকেই সম্প্রসারণ করা হয়। দক্ষিণে কবি সুভাষ (নিউ গড়িয়া) ও উত্তরে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়। পরে শিয়ালদহ-সেক্টর ফাইভ ও এসপ্ল্যানেড থেকে হাওড়া ময়দান নতুন রুটেও মেট্রো চালু হয়। 

এবার একসঙ্গে গ্রিন লাইন, অরেঞ্জ লাইন ও ইয়েলো লাইনে মেট্রো চালু হচ্ছে। ২২ অগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একসঙ্গে তিন রুটের উদ্বোধন করবেন। ইতিমধ্যেই সেই ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। বিলি হচ্ছে আমন্ত্রণপত্রও। কোথা থেকে কোথায় জুড়বে এই মেট্রো পথ?

গ্রিন লাইন-
ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর শিয়ালদহ-সেক্টর ফাইভ-হাওড়া ময়দান রুটটি আংশিকভাবে চালু হলেও, মাঝে বউবাজার লাইনের জটের কারণে, তা জোড়া যাচ্ছিল না। ধাপে ধাপে বাধা এসেছে এই অংশে। কখনও মাটি খুঁড়তেই ভূগর্ভস্থ জল চলে এসেছে, কখনও আবার বাড়িতে ফাটল ধরেছে। ২০১৯ সাল থেকে প্রথম ধস নামে বউবাজার এলাকায়। ২০২২ সালের মে মাস ও অক্টোবর মাসে ফিরে আসে সেই আতঙ্ক। বউবাজারে মোট ৭০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এভাবে। বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতেও হিমশিম খেতে হয়েছে সরকারকে। অবশেষে টানেল বোরিং মেশিনের সাহায্যে, বিশেষ টানেল করে এই লাইন তৈরি করা হয়। গ্রিন লাইনে অবশেষে শিয়ালদহ থেকে এসপ্ল্য়ানেড পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা চালু হবে। ৭.০৪ কিমি দীর্ঘ রুটে হাওড়া ময়দান থেকে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত মেট্রো ছুটবে। শিয়ালদহ-এসপ্ল্যানেডের দূরত্ব ২.২ কিলোমিটার।

অরেঞ্জ লাইন-
অরেঞ্জ লাইনে রুবি মোড় অর্থাৎ হেমন্ত মুখোপাধ্যায় স্টেশন থেকে বেলেঘাটা পর্যন্ত মেট্রো চালু হবে। এই রুটে আগেই নিউ গড়িয়া (কবি সুভাষ) থেকে রুবি পর্যন্ত মেট্রো চলছিল। তা আরও এক ধাপ এগিয়ে বেলেঘাটা পর্যন্ত মেট্রো ছুটবে। চিংড়িঘাটার অংশটি জোড়া যাচ্ছে না বলেই বাকি অংশ চালু হচ্ছে না। কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশন-কলকাতা বিমানবন্দর মেট্রো করিডরের অন্তর্গত এই লাইন। ২.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় (রুবি) থেকে বেলেঘাটা পর্যন্ত মোট মেট্রো স্টেশনের সংখ্যা হল পাঁচটি। রুবি থেকে প্রথম মেট্রো স্টেশন ভিআইপি বাজার। তারপর আসবে ঋত্বিক ঘটক, তারপর বরুণ সেনগুপ্ত যা সায়েন্স সিটির সামনে। সায়েন্স সিটির পরই আসবে বেলেঘাটা মেট্রো স্টেশন।

ইয়েলো লাইন-
এবার বিমানবন্দরের যাত্রীদেরও সুবিধা হবে। নতুন তৈরি হওয়া ইয়েলো লাইনে জুড়ছে নোয়াপাড়া থেকে জয় হিন্দ অর্থাৎ কলকাতা বিমানবন্দর। ৪.৩৯ কিমি দূরত্বের নোয়াপাড়া থেকে বিমানবন্দরের মধ্যে মোট ৪টি স্টেশন রয়েছে। এগুলি হল- নোয়াপাড়া, দমদম ক্যান্টনমেন্ট, যশোর রোড ও দমদম বিমানবন্দর। ২২ অগস্টই বাকি রুটের সঙ্গে এই রুটে মেট্রো পরিষেবা চালু হয়ে যাবে।

এই সবকটি রুটই খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হাওড়া ও বিমানবন্দরের যাত্রীদের বিশেষ লাভ হবে। সেক্টর ফাইভ রুটেও যানজট কমবে অনেকটাই।

বারাসত পর্যন্ত জুড়বে মেট্রো-

তবে মেট্রোর রুট কিন্তু এখানেই থমকে নেই। বিমানবন্দরগামী মেট্রোই সম্প্রসারিত হয়ে বারাসত পর্যন্ত মেট্রো চালানোর পরিকল্পনা। গঙ্গানগর কাটাখালের নিচ থেকে মধ্যমগ্রামের স্কাউটের মাঠ, বাদু রোড, ষ্টার মলের পেছন দিক, কেএনসি রোড, কাছারি ময়দান হয়ে কারশেড পর্যন্ত যাবে।

ইতিমধ্যেই বিমানবন্দর থেকে মাইকেল নগর পর্যন্ত মেট্রোর কাজ অনেকটা হয়ে গিয়েছে। তবে জট রয়েছে এর পরের অংশ নিয়েই। মাইকেলনগর থেকে কোন পথে মেট্রো বারাসতে আসবে, তা নিয়ে জমি জট দেখা গিয়েছে। মাইকেলনগর থেকে খালের উপর দিয়ে নিউ ব্যারাকপুর-মধ্যমগ্রাম-হৃদয়পুর রেলপথ ধরে বারাসত স্টেশনে পৌঁছনোর কথা ছিল, কিন্তু রেললাইনের ধারে জায়গা না মেলায় কাজ আটকে যায়। আপাতত পরিকল্পনা, মাইকেলনগর থেকে মাটির তলা দিয়ে বারাসত পর্যন্ত মেট্রো চলবে। এখন সে পথেই এগোনো হচ্ছে। মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষের আশা, ২০৩০ সালের মধ্যে যাত্রী পরিষেবা শুরু হবে এই রুটে।

এর জন্য প্রথম ধাপে সয়েল টেস্টের কাজও শীঘ্রই শুরু হতে পারে। বারাসত পৌরসভার কাছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ সয়েল টেস্টের অনুমতি চেয়ে ই-মেল পাঠিয়েছে। পৌরপ্রধান অসনী মুখার্জী জানিয়েছেন, দ্রুত মেট্রোরেলের কাছে প্রয়োজনীয় ‘এনওসি’ পাঠিয়ে দেওয়া হবে পৌরসভা তরফে।
Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours