আচমকাই জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসে একটি বুনো হাতি। এমনভাবে হাতিটির মুখে পড়ে যান তাঁরা, পালানোর পথ পাননি।

বাবার সঙ্গে বাইকে চেপে মাধ্যমিকের (Madhyamik 2023) প্রথমদিন পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিলেন এক কিশোর। হাতির হানায় মৃত্যু হয় তার। বৃহস্পতিবারের এই ঘটনার পরই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতো ওই ছাত্রের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন জলপাইগুড়ির শাসক মৌমিতা গোদারা বসু, শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনার অখিলেশ চতুর্বেদী, রাজগঞ্জ বিধায়ক খগেশ্বর রায়, আসেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। ছেলেকে চোখের সামনে এমন ভয়ঙ্করভাবে শেষ হয়ে যেতে দেখে থেকে থেকেই জ্ঞান হারাচ্ছেন বাবা। মায়েরও অবস্থা একই। অখিলেশ চতুর্বেদী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতো আমরা এই পরিবারের সঙ্গে দেখা করলাম। যদি ওনাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতা নিয়ে যেতে হয় তবে তার জন্য মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করতে। হেলিকপ্টার রয়েছে। প্রয়োজন হলেই সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হবে।”



বৃহস্পতিবার ছিল মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিন। যে কোনও পড়ুয়ার কাছেই এটা জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা। সন্তানের পরীক্ষা নিয়ে মা, বাবার উদ্বেগও অনেক বেশি। মিলনপল্লির বিষ্ণু দাস তাঁর ছেলে অর্জুন দাসকে নিয়ে এদিন বাইকে বেলাকোবা বটতলা কেবল পাড়া হাইস্কুলে যাচ্ছিলেন। সেখানেই ছেলের সিট পড়েছে। রাস্তা অনেকটা। তাই বৈকুন্ঠপুর জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে যাবেন ঠিক করেন। মহারাজ ঘাট হয়ে যাওয়ার পথেই ঘটে বিপত্তি।

আচমকাই জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসে একটি বুনো হাতি। এমনভাবে হাতিটির মুখে পড়ে যান তাঁরা, পালানোর পথ পাননি। সরাসরি হাতির হামলা চলে বাইকে। বাবা, ছেলে দু’জনেই ছিটকে পড়েন রাস্তায়। এরপরই হাতিটি অর্জুনকে শুঁড়ে পেচিয়ে আছাড় মারে। এরপর ছোট্ট শরীরে তুলে দেয় গোদা পা। পিষে মেরে দেয় তাকে।



চোখের সামনে ছেলের এমন মর্মান্তিক পরিণতি দেখে অসুস্থ হয়ে পড়েন বাবা বিষ্ণু দাস। জানা গিয়েছে, ঘন ঘন সংজ্ঞা হারাচ্ছেন তিনি। একই অবস্থা তাঁর স্ত্রীরও। বাড়ির সামনে বসে আছাড়ি বিছাড়ি করছেন। এই হাতির হামলা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এর থেকে মর্মান্তিক পরিণতি আর কিছু হতে পারে না। অথচ এগুলো আমাদের হাতেও নেই। কখন যে জঙ্গল থেকে টুক করে একটা হাতি বেরিয়ে আসবে। এরা যখন দল বেধে আসে, তখন এটা হয় না। বনদফতরের লোকেরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। যখনই একা হয়ে যায়, এসব করে বেড়ায়। আমি শিক্ষা দফতরকে বলেছি, প্রয়োজন হলে পরীক্ষার সময় বাসের ব্যবস্থা করে দিতে।”
Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours