মৌসম ভবনের তরফে আগেই বলা হয়েছিল, ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্সের মতো দেশ, যেখানে জনসংখ্যা বাকি দেশের তুলনায় অনেকটা বেশি, সেখানের নাগরিকরা তীব্র গরমে কষ্ট পেতে চলেছেন বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে। দীর্ঘ সময় ধরে গরমকাল চলবে।
আসছে সুপার এল নিনো, কলকাতাকে মরুভূমি বানিয়ে দেবে?
গরমে জ্বলে-পুড়ে যাবেন এবার।
এখন তো সবে ট্রেলার চলছে। আসল সিনেমা শুরু হবে মে মাস থেকে। এবার গরমে আক্ষরিকভাবেই জ্বলে-পুড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হবে। আসছে সুপার এল-নিনো (Super El-Nino)। এর প্রভাবে তাপমাত্রা বাড়বে। বইবে তাপপ্রবাহ। এর প্রভাব পশ্চিমবঙ্গ সহ গোটা ভারতেই পড়তে চলেছে।
বইবে ‘লু’, আসছে খরা?
এই বছরের দ্বিতীয়ভাগে আসছে ‘সুপার এল নিনো’ (Super El Nino)। এর প্রভাবে প্রচণ্ড গরম পড়তে চলেছে। তাপপ্রবাহ হবে। কমে যাবে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ। কলকাতায় যেখানে চড়া গ্রীষ্মে তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪৫ ডিগ্রির ঘরে পৌঁছয়, এবার তা রেকর্ড ভেঙে ৫০ ডিগ্রিও হতে পারে, এমনটাই সতর্ক করছেন আবহাওয়াবিদরা।
অতি-স্পর্শকাতর' সাড়ে ৮ হাজার বুথ নিয়েই চিন্তা! প্রথম দফায় ১৫০০ বুথ নিয়ে বিশেষ সতর্ক কমিশন
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, মে থেকে জুলাই মাসের মধ্যে এল নিনো আসতে চলেছে। এর প্রভাবে স্বাভাবিকের তুলনায় তাপমাত্রা অনেকটা বেড়ে যাবে। বিশেষত উত্তর ও মধ্য ভারতে এল নিনোর প্রভাব সবথেকে বেশি পড়তে চলেছে। শুষ্ক আবহাওয়ার পাশাপাশি প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ বইবে দেশজুড়ে। খরাও দেখা দেবে বেশ কিছু জায়গায়। গোটা বছরটাই তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি উষ্ণ থাকবে। উষ্ণ জায়গাগুলি আরও উষ্ণ হবে। শুষ্ক হয়ে যাবে আবহাওয়া।
বৃষ্টিতে কোপ-
মৌসম ভবন জানিয়েছে, বিগত তিন বছরে এই প্রথম স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে চলেছে এল নিনোর প্রভাবে। সাধারণত প্রতি বছর ১ জুন কেরলে বর্ষা প্রবেশ করে এবং সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বিদায় নেয়। তবে এবার লা নিনা দুর্বল হওয়ায়, জুনে এল নিনো অনেকটাই বেশি সক্রিয় হয়ে উঠবে। উত্তর-পূর্ব ভারত, উত্তর-পশ্চিম ভারত ও দক্ষিণ ভারতের কিছু অংশে স্বাভাবিক বর্ষা হলেও, দেশের বাকি অংশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টি হবে।
এল নিনো কী?
এল নিনো হল একটি আবহাওয়াগত ঘটনা, যেখানে মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের উপরিভাগের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটা বেড়ে যায়। এর প্রভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সহ বিশ্বের একাধিক অংশে গরম ও শুষ্ক জলবায়ু তৈরি হয়।
পৃথিবীর আবহাওয়ার একটা বড় অংশ নির্ভর করে প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রার উপর। এই মহাসাগরের জলের উপরিভাগ ঠান্ডা হওয়ার প্রক্রিয়াকে বলে ‘লা নিনা’। এর প্রভাবে অতিবৃষ্টি বা তীব্র শীতের সাক্ষী হয় পৃথিবী। আবার প্রশান্ত মহাসাগর যদি উষ্ণ হয়ে যায় তাকে বলা হয় ‘এল নিনো’। এর প্রভাবে অনাবৃষ্টি,খরা, প্রবল তাপপ্রবাহ হয়।
এল নিনোর প্রভাব-
মৌসম ভবনের তরফে আগেই বলা হয়েছিল, ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্সের মতো দেশ, যেখানে জনসংখ্যা বাকি দেশের তুলনায় অনেকটা বেশি, সেখানের নাগরিকরা তীব্র গরমে কষ্ট পেতে চলেছেন বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে। দীর্ঘ সময় ধরে গরমকাল চলবে। অর্থাৎ যে কয়েক মাস গ্রীষ্মকাল বলে পরিচিত, তার তুলনায় অনেক বেশি দিন গরম থাকবে।
বর্ষা ভারতের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কৃষিকাজের জন্য ও জলাধারগুলি ভর্তি করার জন্য ৭০ শতাংশ বৃষ্টিপাতের দরকার। যদি বৃষ্টি কম হয়, তাহলে ফসল কম হবে। চাপ বাড়বে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির উপরে। এমনকী, বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে লোডশেডিংয়ের মতো সমস্যাও আবার ফিরতে পারে। গরম বাড়লে এসি, কুলারের চাহিদা অনেক বাড়বে। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকলে, সেক্ষেত্রে এসি-কুলারের দামও অনেক বাড়তে পারে।


Post A Comment:
0 comments so far,add yours