গতমাসেই একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, এসআইআর-এর কাজে ডমিসাইল সার্টিফিকেট প্রয়োজন হবে, এমনটাই কখনওই বলা হয়নি। ওই সার্টিফিকেটের প্রয়োজনীয়তা অন্য জায়গায়। এমনকি, সংশ্লিষ্ট নথিটি কোন ক্ষেত্রে বৈধ, কোনও ক্ষেত্রে অবৈধ — সেই মাপকাঠিও বেঁধে দিয়েছিল কমিশন।

নয়াদিল্লি: দিন পেরলেই বাংলার বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত তালিকা। আর এই এসআইআর-এর বিদায়বেলাতেও সুপ্রিম কোর্টে দ্বারস্থ রাজ্য। শুক্রবার রাজ্যের হয়েও শীর্ষ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন আইনজীবী কপিল সিব্বল। কলকাতা হাইকোর্টের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে যে ‘ঠান্ডা লড়াই’ শুরু হয়েছে তা তিনি টেনে নিয়ে গেলেন শীর্ষ আদালতে।

এবার জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ নিয়ে কমিশনকে কাঠগড়ায় টানল রাজ্য। শীর্ষ আদালতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের কাছে রাজ্যের সওয়ালকারী অভিযোগ করেন, এসআইআর প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার জন্য় যে জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ করা হচ্ছে, সেক্ষেত্রে কোনও ভাবেই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির মতামত গ্রহণ করা হচ্ছে না। এই মর্মে কমিশন অবৈধ ভাবে নানা নির্দেশিকা জারি করছে বলেও অভিযোগ কপিল সিব্বলের।



তবে এখানেই ক্ষান্ত হননি তিনি। কমিশনের জারি করা নির্দেশিকাগুলি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ-বিরোধী বলেও যুক্তি দিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, “পিছন দরজা দিয়ে জুডিশিয়াল অফিসারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। হাইকোর্টে প্রধান বিচারপতিকে এড়িয়ে কোন নথি গ্রহণ হবে, কোন নথি গ্রহণ হবে না সেই বিষয়েও নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।”

রাজ্য়ের সওয়ালকারীর যুক্তি শোনার পরেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট বলেন, “জুডিশিয়াল অফিসারদের সন্দেহ করা বন্ধ করুন। এবার এর নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।” একই বেঞ্চে উপস্থিত বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “কমিশন ছাড়া আর কে প্রশিক্ষণ দেবে? আমরা স্পষ্ট নির্দেশিকা দিয়ে দিয়েছি কোন কোন ডকুমেন্টস গৃহীত হবে। আমাদের নির্দেশিকা অত্যন্ত স্পষ্ট। তা কোনও ভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।”

গতমাসেই একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, এসআইআর-এর কাজে ডমিসাইল সার্টিফিকেট প্রয়োজন হবে, এমনটাই কখনওই বলা হয়নি। ওই সার্টিফিকেটের প্রয়োজনীয়তা অন্য জায়গায়। এমনকি, সংশ্লিষ্ট নথিটি কোন ক্ষেত্রে বৈধ, কোনও ক্ষেত্রে অবৈধ — সেই মাপকাঠিও বেঁধে দিয়েছিল কমিশন। এবার ওই ডমিসাইল সার্টিফিকেট নিয়েও এজলাসে প্রশ্ন তুললেন কপিল সিব্বল। তাঁর অভিযোগ, “কমিশন বলছে ডমিসাইল সার্টিফিকেট গ্রহণ করা হবে না।”

পাল্টা বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “যদি আমাদের নির্দেশে এই নথি গ্রহণ করার কথা বলা থাকে, তা খতিয়ে দেখতে হবেই।” পাশাপাশি জুডিশিয়াল অফিসার নিয়ে তাঁর আরও পর্যবেক্ষণ, “আমাদের বিচারকরা যাতে সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারে তা নিশ্চিত করা রাজ্য সরকার এবং কমিশন দুই তরফের দায়িত্ব। SIR প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আমরা রাজ্যের বিচার ব্যবস্থার পরিকাঠামোকে কার্যত ফাঁকা করে দিয়েছি।” সবশেষে বলে রাখা প্রয়োজন, এই সওয়াল-জবাবের সময় সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য় সচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। কমিশনকে দুষেই তাঁর ‘ভোটাধিকার থাকবে কিনা এখনও ঠিক নেই’ বলে মন্তব্য করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours